ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার নেতিবাচক, দাবি বিশ্বব্যাংক ও এডিবির

শংকর দত্ত: গোটা বিশ্বে ভারতের আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যতই গলা ফাটান না কেন, বাস্তবিক ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ উল্টো। শুধু উল্টো বললেই হবে না,দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক বছরের এই সময়টাতেই করুন হয়ে উঠছে।
মাস কয়েক আগেই দেশের সর্ব-বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থা গুলো যতটা আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী ছিলো এখন ততটাই তারা হতাশা প্রকাশ করছে। বর্তমান আর্থিক বছরের এপ্রিল মাস নাগাদই ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ধারনা ছিলো শেষ দুই বছরের নিম্নগামীতা সামলে এই বছর আর্থিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৫ শতাংশ। কিন্তু কমাসের মধ্যেই সেই ধারণা ঘুরে গিয়ে তারা ঘোষণা করেছে আর্থিক বৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য নরেন্দ্র দামোদর ভাই মোদী ২০১৪ সালে মে মাসে যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কুরশিতে বসেন,তখন আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিলো ৮.০২ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য ভাবে যা দেশের পক্ষে ভালো ছিলো। আবার দ্বিতীয়বার অর্থাৎ এই বছরের মে মাসের ৩০ তারিখ যখন তিনি শপথ নিচ্ছেন,সেই সময় ত্রৈমাসিক আর্থিক বৃদ্ধির হার হয় ৫.০১ শতাংশ। যা যথেষ্ট চিন্তার কারণ ছিলো সেই মুহূর্তে। যদিও মাঝে এই হার কয়েকবার ওঠানামা করেছে। এখন চলতি আর্থিক বছরে যা কমতেই থেকেছে। এবং শেষ ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যা গত ৬ বছরের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে।
এবছর জুলাই মাসে এডিবি-র বক্তব্য অবশ্য আলাদা ছিলো। তারা মনে করেছিল ৭.০২ শতাংশ হতে পারে আর্থিক বৃদ্ধির হার। তার দুই মাস পরেই এতটা বেশি আশাব্যঞ্জক না হলেও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গত মাসেই জানায় এই হার ৬.০৫ হতে পারে।
এ মাসের ৪ তারিখেই এডিবির সঙ্গে প্রায় এক মত হয়ে রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়ে দেয় এই মুহূর্তে দেশের ত্রৈমাসিক আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.০১ শতাংশে ঠেকে গেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার (আইএমএফ)ও একই ধরনের মত প্রকাশ করে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার মত অনুযায়ী যদি এটাই হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ক্রমরাশমান ,তাহলে সেটা দেশের পক্ষে অতন্ত্য ক্ষতিকর বলেই মনে করছেন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা। দেশের আর্থিক হাল নিয়ে একাধিক বার সমালোচনা করেছেন প্রবীণ অর্থনীতিবিদ নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন। এ নিয়ে বিজেপির সঙ্গে নানা বিষয়ে একাধিক সময়ে মত বিরোধও হয়েছে। আর এক অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়ও মোদি সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বহুবার। এমনকি তিনি মোদি সরকারের নোট-বন্দির বিষয়টিকেও ভুল সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন একাধিক সখ্যাতকারে। এখন দেখার বিষয় এটাই। সরকার সমস্ত দিক সামলে কিভাবে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হারকে চাঙ্গা করতে পারেন। আশায় সমগ্র দেশবাসী।

(Visited 18 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here