দশমীতে অস্ত্র পুজো করে দেশে থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর হুঙ্কার ভিএইচপির

0
33

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বিজয়া দশমীর দিন অস্ত্র পুজো করে এবার দেশ থেকে বাংলাদেশী অনুপবেশকারীদের তাড়ানোর হুঙ্কার দিল বিশ্বহিন্দু পরিষদ। ভিএইচপির সাফ কথা, হিন্দুদের দেশ হিন্দুস্তানে কোনও মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বরদাস্ত করবেন না তাঁরা।

বাংলায় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানকে সামনে রেখেই এবার রাজ্য জুড়ে প্রকাশ্যে বিজয়া দশমীর দিন সাড়ে ৫০০ স্থানে অস্ত্র পুজোর আয়োজন করেছিল বিশ্বহিন্দু পরিষদ। কলকাতায় ১২ টি এলাকায় পুজোয় সামিল হন বিশ্বজিন্দু পরিষদের শাখা সংগঠন বজরং দল এবং দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা। দেবী প্রতিমার সামনে মন্ত্র উচ্চারণ করে তরোয়াল, রামদা, বিভিন্ন ধরণের ছোড়া, বল্লম, শিবাজীর ব্যবহ্রত বাঘনখ পুজো করেন তাঁরা।

কলকাতার যাদবপুরের ৯ বি বাসস্ট্যান্ডের সামনে টিবি হাসপাতালের ভিতরে আয়োজিত দুর্গা পুজোয় মূল অনুষ্টানটি হয়। দক্ষিণবঙ্গের বজরং দলের মিলন প্রমুখ সুমন কর্মকারের উদ্যোগে অস্ত্র পুজোর অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বহিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গের ধর্ম প্রচার প্রমুখ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়।

স্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই অস্ত্র পুজো প্রাচীন যুগ থেকে চলে আসছে। এটা আমাদের ঐতিহ্য। এটা কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়। হিন্দুরা কখনো কাউকে আক্রমণ করেনি। হিন্দুরা অস্ত্র হাতেও ধর্মপ্রচার করেনি। ১৯২৫ সালে এই দিনে রাষ্ট্রিয় স্বয়ংসেবক সংঘ তৈরি হয়। এই পুজোর উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করে প্রতিরোধের প্রস্তুতি গড়ে তোলা।’

অস্ত্র পুজোর পর বিজয়া দশমীর দিন বিশ্বহিন্দু পরিষদের সদস্যদের একাংশ

জঙ্গিদের দমনে প্রয়োজনে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে লড়তে প্রস্তুত ভিএইচপি, এমনটা দাবি করে স্বরূপবাবু বলেন, ‘আমরা অনেক অন্যায় সহ্য করেছি। আর পাকিস্তানের বুলি শুনব না। সরাসরি যুদ্ধ করে ওরা পারবে না। কিন্তু এখন ওরা অনুপ্রবেশ করে সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। এটা চলতে থাকলে আমরা পাকিস্তানকে চার টুকরো করে দেবে। শ্যামপ্রসাদ যেমন করেছিলেন। ইমরানকে ওর মাটিতে গিয়ে আমরা মারতে পারি।’

বাংলায় তৃণমূল সরকার ভোটের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে কথা বলছে। বিশ্বহিন্দু পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘বাংলা এখন আগুনের মুখে। রোহিঙ্গারা আসলে তৃণমূলের সুবিধা। শুধু মুসলমান ভোটের জন্য এই রাজনীতি চলছে। আবার নীল-সাদা রং ব্যবহার করে খ্রীষ্টান মিশনারিদের তোল্লাই দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিজাব পড়ে দুর্গা পুজো উদ্বোধন করছেন। এ সব আর চলতে দেওয়া হবে না।’

রামমন্দির নির্মান খুব শিগ্রি শুরু হবে বলে এদিন জানান স্বরূপবাবু। তিনি বলেন, ‘৯২-তে আমরা কোনও মসজিদ ভাঙিনি। আমরা রাম জন্মস্থান থেকে দখদারি উচ্ছেদ করেছি। এবার আমরা তা নির্মান করব। আদালত কিন্তু কখনই প্রমাণ করতে পারেনি ওটা রামন্দির ছিল না। কংগ্রেস এটা নিয়ে রাজনীতি করেছে। আর জয় শ্রীরাম বলে আমরা এখন বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দৌড় করাচ্ছি। ওনি বলছেন বলা যাবে না। কোথায় বলব পাকিস্তানে গিয়ে বলব?’

দেশে গোহত্যাও নিষিদ্ধ করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘১১ কোটি হিন্দুর সাক্ষর জমা পড়েছে। আমরা গান্ধীজির দেড়শোতম জন্ম বার্ষিকীতেই এটা আইন করতে চাইছি। আমরা ‘বলির’ পক্ষে। কিন্তু ‘কোরবানি’-কে আমরা পশু হত্যা বলে মনে করি। কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে গোমাংস রফতানী বন্ধ করুক এটাও আমাদের দাবি।’

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে সরব ভিএইচপি। স্বরুপবাবু বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে আন্দোলন করছি। যতদূব জানি প্রধানমন্ত্রী মোদি এটা নিয়ে শেখ হাসিনাকে বলেছেন। বাংলাদেশে আমরাদের সংগঠন খুব ভালো কাজ করছে। এতে হিন্দুদের মনোবল বৃদ্ধি হয়েছে। ওখানে এখনো মৌলবাদীরা সক্রিয়। আমরাও বলছি এরপর যদি হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে আমরা তার বদলা নেব।’

(Visited 57 times, 1 visits today)