নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেন আফ্রিকার যে দু’ই নারী শক্তি!

0
38

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য এ বছর মনোনয়ন পেয়েছেন আফ্রিকা থেকে দু’ই মুসলিম তরুণী। প্রথমজন হলেন সোমালিয়া থেকে ইলওয়াদ এলমান (২৯) এবং দ্বিতীয়জন হলেন লিবিয়া থেকে হাজের শরিফ (২৬)। উভয়ই জাতিসংঘের প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল কফি আন্নানের সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

ইলওয়াদ এলমান, ২০১১ সালের আগে কানাডায় বসবাস করলেও তিনি মূলত সোমালিয়ার মোগাদিসুতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা এলমান আলী আহমেদ ও মা ফারতুয়াম আদন, উভয়ই মানবিক ও শান্তির কাজে জড়িত ছিলেন। ১৯৯০ এর দশক এবং ২০০০ এর দশকের গোড়ার দিকে যুব পুনর্বাসন এবং মানবিক শান্তি কার্যক্রমে জড়িত থাকার কারণে তার পিতাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই সময় পুরো পরিবার কানাডায় চলে আসেন। পরে, ২০১০ সালে নিজ দেশ সোমালিয়ায় ফিরে বাবার অসমাপ্ত কাজ চালিয়ে যান ১৯ বছরের এলম্যান।

পাশাপাশি দেশে তিনি মানবতা ও মহিলাদের অধিকার রক্ষার জন্য নিজস্ব অনন্য সাহস ও শক্তি দিয়ে কাজ চালিয়ে যান। এলমানের বহু কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হ’ল লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং নির্যাতনের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মহিলাদের জন্য সোমালিয়ায় প্রথম ‘ধর্ষণ সঙ্কট কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা।

হাজের শরিফ, ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরে সক্রিয়ভাবে মানবিক কাজ এবং শান্তির রক্ষার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি ‘টুগেদার উই বিল্ড ইট’ নামে একটি সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যাতে করে যুদ্ধ পরবর্তী লিবিয়ায় শান্তিরক্ষা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হয়।

লিবিয়া এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে নারী ও দেশের যুব সমাজকে শক্তিশালীকরণের দিকে মনোনিবেশ কাজে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন শরিফ। ২০১৩ সালে ‘১৩২৫ নেটওয়ার্ক প্রজেক্ট’ চালু করেন তিনি। যার মাধ্যমে তিনি লিবিয়ার ৩০ টি শহর জুড়ে মানবাধিকার সংগঠন এবং কর্মীদের সংগ্রহ করেন। শরিফ এমন একটি ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করছেন, যেখানে লিবিয়ানরা মানবাধিকার এবং মহিলা ক্ষমতায়নের জন্য একত্রিত হতে পারে। বর্তমানে তিনি আইনের ছাত্রী।

@এস. এ. হামিদ

(Visited 11 times, 1 visits today)