আমেরিকার মদতেই পাক মাটিতে জিহাদিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, স্বীকারোক্তি ইমরানের

0
9

মনোজ রায়: জিহাদিদের প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করেছিল আমেরিকাই। তাদের টাকায় জিহাদিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানে। এবার সেকথা স্বীকার করেই নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আন্তর্জতিক মহলে মুখ পোড়ানো ইমরান খান এবার রীতিমতই কাঠগড়ায় তুলল আমেরিকাকে। রাশিয়ার টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এদিন ইমরান বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। ৭০,০০০ মানুষকে হারিয়েছি আমরা। ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শেষে আমেরিকানদের কাছে শুনতে হল, আফগানিস্তানে আমরা কিছুই করিনি।”

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার লড়াইয়ে আমেরিকার সঙ্গী ছিল পাকিস্তান। আমেরিকান ডলারের বিনিময়ে পাকিস্তান তৈরি করেছিল হাজার হাজার জিহাদি যুবক। এই জিহাদিদের ট্রেনিং ক্যাম্প বানানো হায়েছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করত আমেরিকা। কিন্তু রাশিয়ার সৈন্য আফগানিস্তান থেকে পিছু হটতেই পাকিস্তানের ওপর থেকে সাহাজ্যের হাত সরিয়ে নেয় আমেরিকা। তারপর এত জিহাদি যুবকের কর্ম সংস্থানের চিন্তায় ভীত পাকিস্তান তাদের ব্যস্ত রাখতে ভিরিয়ে দেয় ভারতের কাশ্মীর সীমান্তে।

কিন্তু এবার ইমরান খান কাঠগড়ায় তুলল একদা পাকিস্তানের সঙ্গী আমেরিকাকেই। এদিন তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে রাশিয়া-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠান্ডা লড়াইয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে জেহাদিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল পাকিস্তান। আর তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সেই সময় অর্থ দিয়েছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। কিন্তু এখন ওই জেহাদিদেরই সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।”  সেই সঙ্গে তিনি জানান, আফগানিস্তানে রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে না থেকে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়াই উচিত ছিল পাকিস্তানের।

অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের স্থান বোঝাতে সেখানকার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী তথা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার এজাজ আহমেদ শাহ বলেন, “কেউ আমাদের কথায় বিশ্বাস করেনি। আমরা বলেছিলাম, জম্মু-কাশ্মীরে কারফিউ জারি করেছে ভারত। সেখানকার মানুষ ওষুধও পাচ্ছেন না। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করল না। ভারতের উপরে ভরসা করল তারা।”

আরও পড়ুন: [দ্বিতীয় মার্কিন সফরে যাচ্ছেন ইমরান, কাশ্মীর ইস্যুই মূল লক্ষ্য]

তাঁর মতে,  “পাকিস্তানের আত্মমন্থন করা উচিত।আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানকে দায়িত্বপূর্ণ দেশের চোখে দেখে না। মোল্লাতন্ত্রই পাকিস্তানের ভাবমূর্তি খারাপ করে ধ্বংস করেছে পাকিস্তানকে।” তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, পাকিস্তানের মাটিতে এতদিন সন্ত্রাবাদী কার্যকলাপ হয়ে আসছে, সেই কথা পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।        (মনোজ)

(Visited 1 times, 1 visits today)