৯ ই নভেম্বর, বিচ্ছেদের ব্যাথাতেই পতন হয় ‘বার্লিন ওয়ালের’

স্বর্ণার্ক ঘোষ; আজ ৯ ই নভেম্বর, আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে অর্থ্যাৎ ১৯৮৯ সালে পতন ঘটেছিল ‘বার্লিন ওয়ালের’। ভয়াবহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী দ্বিধা বিভক্ত পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানীর মানুষের জনস্রোত মিলিয়ে দিয়েছিল জার্মানীকে। দীর্ঘ বাঁধা মুছে যাওয়ায় পাচিলের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে সেদিন দু’হাত ধরে দীর্ঘ চুম্বন করেছিল জার্মানীর প্রেমিকযুগল।

পাচিলের ধ্বংসাবশেষে দাঁড়িয়ে চুম্বনরত জার্মানীর প্রেমিকযুগল

এদিন জার্মানীর পুনর্মিলনের দিনটিকে বিশেষ সম্মাণ জানাল বিশ্বেরে সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন সংস্থা গুগল। নিজেদের সার্চ পেজে ডুডল প্রকাশ করেই আধুনিক ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকেই  স্মরণ করল তারা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,  ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বার্লিন দু’ভাগে ভাগ করে পশ্চিম জার্মানীর অধিকার লাভ করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রশক্তি। তেমনি বার্লিনের পূর্বাংশসহ বাকি অংশটি দখল করে নেয় সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনী। এরপর ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি আদর্শগতভাবেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কিছুদিন আগে নিজেদের ‘থার্ড রাইখের’ শ্রেষঠ জাতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসা দেশটি। একদিকে পূর্বাংশের সমাজতন্ত্র ও পশ্চিমের পুঁজিবাদ নিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল জার্মানী। এমন প্রেক্ষাপটেই ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট  তদকালীন জার্মান সরকারের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছিল ‘দ্যা জার্মান ওয়াল’।

বিশ্বযুদ্ধে হার, থার্ড রাইখের পতন তারপর প্রেম ও পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছেদ মনে মনে বিষিয়ে তুলেছিল জার্মানদের। একই দেশে দু’ধরনের ব্যবস্থা, আর্থিক সংকট, প্রিয়জনের সঙ্গে  মিলিত হতে না পারার যন্ত্রণা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তোলে জার্মানদের।

এরপর, কেটে যায় প্রায় দু’দশক। আশির দশকের শেষভাগ, রাইন নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে যায়। জল গড়াল পশ্চিমের টেমস, মিসিসিপিতেও। ওদিকে ক্রমেই গলতে শুরু করেছে পূর্বের ভল্গা নদীতে জমে থাকা সমাজতন্ত্রের বরফ। সেই মুহুর্তে ক্রেমলিনের ‘গ্লাস্তনস্ত ও ‘পেরোস্ত্রৈকা’র হাওয়াও তখন এসে লাগল বার্লিন ওয়ালের গায়ে। গনতন্ত্রের আওয়াজ উঠল পূর্ব জার্মানী থেকে। পূর্বের ডাক শুনেই সাড়া দিল পশ্চিমও।

দীর্ঘদিনের চেপে থাকা ক্ষোভ আছড়ে পড়ল বার্লিন ওয়ালের গায়ে। আজকের দিনেই কোদাল,বেলচা, বুলডোজার নিয়ে পাচিলের পতন ঘটালেন জার্মানরা। রেড আর্মির বুটের আওয়াজ থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন জীবনের আশায় প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে চুম্বনে মেতেছিল কিছুক্ষণ আগেও ‘রেড লাইনের’ ওপারে থাকা জার্মানরা। নতুন ভোরের আলোয় ব্র্যান্ডেনবুর্গ গেট থেকেই এদিন শুরু হয়েছিল ঐক্যবদ্ধ নতুন জার্মানের পথচলা।

[email protected]

 

 

 

(Visited 120 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here