স্বামীজির অপমান! গেরুয়া গর্জনে স্তব্ধ সন্ধ্যার রাজপথ

শংকর দত্ত  ,কলকাতা:     ‘জে এন ইউ থেকে যাদবপুর, এই তৃণমূল দূর দূর’ মূলত এই সুরেই সপ্তাহের শেষ দিনে শাসককে বিধল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বিজেপির পদ-হীন যুব নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডার নেতৃত্বেই এদিন মিছিল এগুলো দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ত রাস্তা ধরে। যদিও রান্তিদেব সেনগুপ্ত, চলচিত্র পরিচালক মিলন ভৌমিক, সব্যসাচী দত্ত, অগ্নিমিত্রা পল,অঞ্জনা বসু, সুজাতা মন্ডল-খাঁর মতো পরিচিত মুখেরাই ছিলেন সামনের সারিতে।

দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ব বিদ্যালিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের আবক্ষ মূর্তি ভেঙ্গে কালিমালিপ্ত করার প্রতিবাদে মূলত  বামপন্থীদের বিরুদ্ধেই ছিল এদিনের মশাল মিছিল। তবে শেষ অবধি অবশ্য সমস্ত রোশ আছড়ে পড়লো সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। শনিবার বিজেপির ছাত্র সংগঠনের তত্ত্বাবধানে জাতীয়তাবাদী নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে রাসবিহারী মোড় থেকে গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন সংলগ্ন বিবেকানন্দের মূর্তি পর্যন্ত রীতি মতো মিছিল করে সন্ধ্যের ব্যস্ত কলকাতার রাজপথকে  এক লহমায় থমকে দিলো বিজেপি পন্থী এই সংগঠনের কার্যকর্তারা।

এদিন বিজেপি ও আরএসএস এর একঝাঁক চেনা মুখ প্রতিবাদে সামিল হয়ে একই সঙ্গে বামেদের বিরুদ্ধে যেমন গর্জে ওঠেন একই সঙ্গে জেহাদ ঘোষণা করেন শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধেও। দেখা গেল বিজেপির বুদ্ধিজীবী স্তরের এবং সদ্য বিজেপিতে যোগ দেয়া সিনে-দুনিয়ার অনেককেই। ঘড়ির কাঁটাই বিকেল পাঁচটায় কয়েক শো প্রতিবাদী মুখ হাতে জ্বলন্ত মশাল,ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির রাসবিহারী মোড়ে। যাত্রা শুরু মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই। কদিন আগেই বিজেপির যুব মোর্চার পক্ষে ডেঙ্গু বিরোধী আন্দোলনে করপোরেশন ঘেরাওয়ের ক্ষেত্রে যে ঝাঁজ ছিল, কোনও অংশেই এদিন তা কম ছিল না। তবে প্রথম থেকেই স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবেই শেষ হয় এই প্রতিবাদ।

[আরও পড়ুন: লক্ষ্মণরেখা পেরোবেন না! মমতাকে বার্তা ধনকরের]

মিছিল শেষে গোলপার্ক এ এক জনসভায় ভাষণ দিলেন বিশিষ্টরা। ‘কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গাকে শাসকের চক্রান্ত বলেই এদিন আবারও বিধলেন বিধাননগর এর প্রাক্তন মেয়র তথা বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তৃণমূলের কুমিরের কান্না থামাতে অনুরোধ করেন। রন্তিদেব সেনগুপ্ত এদিন তুলনায় অনেকটা ঝাঁঝালো ছিলেন। নিজের স্বাভাবিক ভাবমূর্তি ছেড়ে তিনি এদিন বামপন্থীদের সঙ্গেই তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। এদিন আবার স্বমূর্তিতে দেখা গেল টলিউডের প্রবীণ পররিচালক মিলন ভৌমিকেও। তিনি তার সংস্থা বঙ্গীয় চলচিত্র পর্ষদের পক্ষে টলিউডের  প্রায় চারশো অভিনেতা অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের নিয়ে এদিন উপস্থিত থেকে অন্য অনেক কর্মকর্তাকেই টক্কর দিয়ে আবার সামনের সারিতে উঠে এলেন। তিনি বলেন, ‘ভারত গর্ব স্বামীজীর মতো বীর সন্তানকে যারা অপমান করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সময়ে পথে নামতে প্রস্তুত’।

তবে সকলকে ছাপিয়ে গেল যুব নেতা শঙ্কুর বক্তব্য। তিনি এদিন এক সময়ের দাপুটে তৃণমুল ছাত্র পরিষদ সভাপতির ঢঙেই আক্রমণ সানালেন তাঁর একদা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

এদিন শঙ্কু বলেন, ‘আমি জানি জে এন ইউ তে যারা এই কান্ড গটিয়েছে। তাদের অনেকেই আজ যাদবপুরে এসে গা ঢাকা দিয়ে বসে আছে। যদি আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সরকার তাদের সামনে আনতে পারেন,তাহলে এই আন্দোলন অনেক দূর এগোবে।’ একই সঙ্গে তিনি নাম না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে বলেন’, যিনি গুজরাটে,উত্তর প্রদেশে কিছু ঘটার আগেই নিজে মন্তবয় করে বসেন,যিনি আসামের মানুষের জন্য কেঁদে বুক ভাসান,তিনি কেন এখনো জে এন ইউ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। কেন অন্য দল গুলো এর ঘটনার নিন্দা করে পথে নামছে না।’ এদিনের মশাল মিছিল শান্তিপূর্ণ ভাবে হলেও বেশ সুজাতা মন্ডল-খাঁ ও অঞ্জনা বসুদের প্রতিবাদ ছিলো জোড়ালো,চোখে পড়বার মতো।

একদিকে উপনির্বাচন নিয়ে তিন জেলা জুড়ে যখন বিজেপির রাজ্য নেতারা তোলপাড় করছেন রাজনৈতিক মঞ্চ। ঠিক তখনই শিল্পী,ছাত্র কলাকুশলী দের রাজধানীর রাজপথে নামিয়ে শান্তি মিছিলের নামে বাজার গরম রাখার এটাও নতুন কৌশল বলে মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন,আসলে আর কয়েক মাসের মধ্যেই পৌর নির্বাচন রাজ্যের বহু পৌরসভায়। কলকাতা পৌরসভাও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যেই জেলার মানুষের মন পেতে সমর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। এবার ডেঙ্গু বিরোধী আন্দোলন বা বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙার মত স্পর্শকাতর বিষয় কে সামনে এনে রাজধানীর শিক্ষিত মানুষের মন পেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।

(shreyashree)

(Visited 338 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here