ভারতে দাঙ্গার সংখ্যা কমলেও বেড়েছে দাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যা, সমীক্ষায় প্রকাশ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতে দাঙ্গার সংখ্যা ক্রমশ কমলেও ক্রমশই বাড়ছে দাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যা। সমীক্ষা অনুযায়ী আগের থেকে দাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যা ২২ শতাংশ বেড়েছে। সমীক্ষায় এমনটাই তথ্য সামনে এনেছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ভারতে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে ১৬১। সেখানে গড়ে প্রায় প্রতিদিন হিংসার ঘটনায় আক্রান্তে সংখ্যা ছিল ২৪৭। ২০১৭ সালে প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে গত বছরে হিংসার ঘটনা ৫ শতাংশে মতো কমেছে।

সোমবার ২০১৭ সালের একটি তথ্য সামনে এনেছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো। সেখানে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে ৯০, ৮৮০। সেখানে দাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯০, ৩৯৪।
শুধু যে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটনা ঘটছে তাই নয়, জমি বিবাদ, রাজনৈতিক হিংসা, জাতি বৈষম্য , ছাত্র বিক্ষোভ প্রভৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ভারতীয় পেনাল কোড ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারা অনুযায়ী, “যখনই কোনও বেআইনি সমাবেশ বা এর কোনও সদস্য দ্বারা এই জাতীয় সংসদের সাধারণ বিষয়টির বিচারের জন্য হিংস্রতা ব্যবহার করা হয়, তখন এ জাতীয় সমাবেশের প্রতিটি সদস্য দাঙ্গার অপরাধে দোষী হন।”ভারতীয় দন্ডবিধির ধারা অনুসারে দাঙ্গার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত করা হবে।

তথ্য অনুযায়ী হিংসাত্মক ঘটনার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে বিহার। ২০১৭ সালে বিহারে ১১,৬৯৮ ঘটেছিল। উত্তরপ্রদেশে ৮৯৯০টি, মহারাষ্ট্র ৭৭৪৩টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে হিংসার ঘটনা মারাত্মক বেড়েছিল। কিন্তু সেই সময় তামিলনাড়ুতেও ১৯৩৫ দাঙ্গা হয়েছিল সেখানে দাঙ্গায় আক্রান্তের ঘটনা ঘটে ১৮,৭৪৯। কাজেই বলা যায় তুলনামূলকভাবে দেশের মধ্যে সেই সময় বিহারের পরে তামিলনাড়ুতে মারাত্মক হারে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল।
কিন্তু সেই সময় উল্টো চিত্র ধরা পড়েছে পাঞ্জাবে। বলা যায়, পাঞ্জাবে সেই সময় শান্তিপূর্ণ অবস্থা ছিল। পাশাপাশি মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়ে শুধুমাত্র ৫টি দাঙ্গার ঘটনা পাওয়া গিয়েছিল।

সেইসঙ্গে ২০১৬ সালে ৮৬৯ ও ২০১৭ সালে ৭২৩টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে এনসিআরবি জানাচ্ছে ২০১৬ সালে ১১৩৯টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা কমে দাঁড়িয়েছে ১০৯২। পাশাপাশি বিহারে ১৬৩টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। কর্ণাটক ও ওড়িশা ৯২ থেকে ৯১ সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে হরিয়ানায় ২০১৬ সালে ২৫০টি দাঙ্গার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে ২০১৭ সালে এই হিংসার ঘটনা অনেক কমেছে।

তবে অন্যদিক দিক দিয়ে দেখলে জাতি বৈষম্যের ঘটনাও ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে অনেক কমেছে। উত্তরপ্রদেশে ৩৪৬টি কেস থানায় জমা পড়ে, কিন্তু সমস্ত দিক বিচার করলে দেখা যায় দাঙ্গার ঘটনা আগের থেকে কমেছে।
ভারতের দাঙ্গার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। তবে দেশের মধ্যে দাঙ্গার মধ্যে এগিয়ে বিহার। সেখানে ৭০৩০টি কেস নথিভুক্ত আছে।তারপরে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশ রয়েছে। তবে দাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বিচার করলে তামিলনাড়ু সবার থেকে এগিয়ে আছে।

bipasha

(Visited 19 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here