রাজীব কুমার কি কালীঘাটেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন ! জল্পনা তুঙ্গে

শংকর দত্ত, কলকাতা: শেষমেষ নিজের নিজের খরা গর্তেই নিজে হুমড়ি খেয়ে পড়তে চলেছেন কলকাতার প্রাক্তন নগর পাল মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ট রাজীব কুমার। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের রাইয়ে ‘তাঁকে গ্রেপ্তারে আর বাধা নেই সিবিআই এর’ খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই রাজীব কুমার বেপাত্তা। তাঁর দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ। একটাই সুইচড অফ অন্যটাই নট রিচেবল বলে যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে। সিবিআইয়ের তরফে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যাচ্ছে না। কোনও ভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। তবে কি তিনি নিরুদ্দেশ? তিনি কলকাতা থেকেই বেপাত্তা? কোথায় গেলেন রাজীব কুমার?

আরও পড়ুনঃ একমাস সময় চেয়ে সিবিআইকে মেল রাজীবের

গত প্রায় ২৪ ঘন্টা এই নাটকই চলছে। কেউ বলছেন তিনি কলকাতাতেই এমন কোনও জায়গায় লুকিয়ে আছেন,যেখানে আইনী জটিলতার কারণে সিবিআই আধিকারিকরা চাইলেই যেতে পারবেন না। বিজেপির জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য মুকুল রায় তো বলেই দিয়েছেন, ‘এক মাত্র মমতা ব্যানার্জীই সঠিক বলতে পারবেন রাজীব কোথায় আছেন’। সরকার বিরোধী অনেকেই শেষ -অবধি মুকুলের কথাকেই মান্যতা দিচ্ছেন। এবং আইনজীবীদেরও একাংশ মনে করছেন,রাজীব আসলে এই মুহূর্তে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতেই লুকিয়ে আছেন।

আরও পড়ুনঃ তলব এড়িয়ে একমাস অতিরিক্ত সময় দাবী রাজীবের

অন্য আর এক পক্ষ অবশ্য বলছেন যদিও তিনি কালীঘাটে না থাকেন এমন কোনও প্রশাসনিক বড় কর্তার বাড়িতে ঘাপটি মেরে আছেন,যেখানে সিবিআইয়ের নজর নেই বা সিবিআই সন্দেহ করলেও আইনী কারণে আন্দাজে তদন্ত করতে যেতে পারবে না। কারণ সারদার সঙ্গে কোনো ভাবেই সংযুক্ত নয় এমন কোনও সম্মানীয় ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে তাঁরা রাজীবের খোঁজ নিতে পারবেন না ইচ্ছে থাকলেও।

আর ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগছেন রাজীব কুমার। শুক্রবার রায় ঘোষণার দিনও তিনি সিবিআই অফিসে দুপুর একটাই একবারই গিয়ে ছিলেন। তারপর থেকেই সরকারি ভাবে তাঁর হদিস আর নেই। ওই দিনই সিবিআই আধিকারিকরা রাজীব কুমারের পার্ক স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁকে না পেয়ে শনিবার সকাল ১০ টার মধ্যে তাকে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ ধরিয়ে আসেন। কিন্তু দুপুর তিনটে অবধি তিনি না যাওয়ায় শেষমেশ সিবিআইয়ের এক বড় করতে সহ অন্য আধিকারিকরা তাঁদের আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেন। সিবিআই আধিকারিক রা জানতে পারেন রাজীব কুমার ছুটিতে আছেন।পরে তাঁরা ধীরে চলো নীতি নেন। এবং রাজীব কুমার যাতে নিজের ফাঁদেই নিজে পা বাড়ান সেই অপেক্ষাই করেন।

আরও পড়ুনঃ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পাকিস্তানীদের নামে মিথ্যা রটানো হচ্ছে, দাবি শরদ পাওয়ারের

শেষ পর্যন্ত রাজীব কুমার সেটাই করলেন তিনি অসুস্থ,আগামী এক মাস পরে হাজিরা দিতে পারেন এই মর্মে সিবিআইকে একটা মেল পাঠিয়েই নিজের দায় এরই যান,সমস্ত রকম যোগাযোগের পথ বন্ধ করে। এই অবস্থায় রাজীব যাতে কলকাতার বাইরে না যেতে পারেন, কেন্দ্রেই তদন্তকারী সংস্থা সে ব্যাপারে কলকাতা বিমান বন্দরের নজরদারির করবার অনুরোধ করেন।এমনকি রবিবার চারটি চিঠি নিয়েও সিবিআই আধিকারিকরা ছুটির দিনে নবান্নয় যান মুখ্যসচিব,স্বরাষ্ট্র সচিবের উদ্দেশে রাজীব কুমার কে বা কারা ছুটি মনজুর করেছে রাতারাতি এটা জানবার জন্য। আর সেখান থেকেই বোঝা যায় তিনি কলকাতাতেই কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে এখনো আছেন। যদিও কেউ কেউ বলছেন তাঁর স্ত্রী রাজস্থানে কর্মরত, তিনি শুক্রবার দুপুরেই রাজস্থান চলে গেলেও যেতে পারেন।

কিন্তু কেন রাজীব কুমার লুকিয়ে আছেন? তার আসল উদ্দেশ্য সিবিআই জেরা থেকে নিষ্কৃতি পেতে তিনি আবার কোনও নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হবেন,হয়তো বা দেশের শীর্ষ আদালতের থেকে তাকে গ্রেপ্তারের আবার কোনও রক্ষা কবজ পেতে পারেন কিছু দিনের জন্য এই চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেটাও আর সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।

শহরের এক নাম করা দুদে আইনজীবীর কথায়, ‘রাজীবকে সুপ্রিম কোর্ট অনেক দিন রক্ষা কবজ দিয়েছেন। কিন্তু পাশাপাশি তাকে তদন্তে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রক্ষা কবজটাকেই শুধু কাজে লাগিয়েছেন। তদন্তে সহযোগিতা করেননি। বরং তিনি বহুবার নানা অছিলায় হাজিরা এর গেছেন। তার পর মহামান্য কলকাতা হাই কোর্ট এর রাইকেও তিনি কার্যত অস্বীকার করে আবার এড়িয়ে গিয়ে নিরুদ্দেশ হলেন সরকারি ভাবে কোথাও কোনও কোনো নোটিস না করে এর উত্তর তিনি শীর্ষ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পেলেও শেষ রক্ষা আর হবার উপায় নেই। ধরা তাকে দিতেই হবে।’
শনিবার হাজিরা না দেয়াই তাবন্দকারী সংস্থা তাঁকে আর একবার নোটিস পাঠাবেন বলে ঠিক করেছিলেন বলে শোনা যাচ্ছিল।

আরও পড়ুনঃ অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পায় কেন্দ্রঃ পিএসসি-র রদবদল নিয়ে আক্রমনে রবিনহুড

কিন্তু শেষ মেষ তারা কড়া পাদক্ষে নিতে চলেন বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আর রবিবার ছুটির দিনে আচমকা নবান্নয় চিঠি ডিজি,মুখ্যসচিব ও সারাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিতে যাওয়াটা তারই একটা নমুনা বলেই মনে করছেন অনেকে। সিবিআই যে সমস্ত পদক্ষেপ ফেলছেন আইনজীবীর পরামর্শ মতো সেটাও প্রমান হয় এদিন তাঁদের নবান্নয় পৌঁছনো দিয়ে। কারণ রাজীব কুমারের মতো পদমর্যাদার কাওকে এক মাস ছুটি নিতে গেলে তাঁর উচপদস্থ কর্তাদের কাছে নিজের ছুটি নেয়ার কারণ জানতে হয়,এবং ছুটিতে তিনি কোথায় থাকছেন সেটাও জানাতে হয়। সেটাই বুঝতে চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসার রা।

যদিও তাঁর এই হঠাৎ আত্মগোপন কে এক প্রকার কটাক্ষ করেই বিজেপি র রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ বলেই দিয়েছেন, ‘চিদাম্বরম এর মত এতো হেভিওয়েট একজন মানুষকেও সিবিআই যখন ধরতে পারে,রাজীব কুমার তো কোন ছাড়। সিবিআই মনে করলে ওই অফিসারকে গর্ত থেকেও বের করে আনতে পারে। মুকল রায়কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,মমতা সব জানেন,রাজীব কোথায় আছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দের কেউ কেউ বলছেন, মুকুল একেবারে মিথ্যে বলছেন না। কারণ তৃনমূল সেকেন্ড ইন কমান্ড থাকাকালীন মুকুল নিজেই পুলিশ কন্ট্রোল করতেন। আর মমতাকেও এক প্রকার কন্ট্রোল করতেন। তাই মমতার কারসাজি তার ভালো মতোই জানা আছে। সেক্ষেত্রে মুকুলের কথা মতো রাজীব কুমার মমতার আশ্রয়ে থাকলেও থাকতে পারেন। এখন সময়ই বলবে রাজীব আসলে ঠিক কোথায় এখন। তবে মঙ্গলবারের পরে কোনও ভাবেই যে রাজীব কিমার লুকিয়ে থাকতে পারবেন না, সেটা এক প্রকার নিশ্চিত সব মহলই।

MIJANUR

(Visited 25 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here