এনআরসি ইস্যুতে সরব অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | September 11, 2019 | 10:34 am

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এনআরসি ইস্যুতে বিগত কিছু দিন ধরে খবরের শিরোনামে অসম।গত ৩১ অগাস্ট নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ হয়েছে। ৯১ লাখ লোকের নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু, এই ১৯ লক্ষের মধ্যে অনেকে এনআরসি-র জন্য আবেদনই করেননি– এমন তথ্যও উঠে আসতে শুরু করেছে। জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিরোধিতায় একাধিকবার সরব হয়েছেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য।

[আরও পড়ুন: অসমে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ ১৫ হাজার ভোজপুরি মানুষও: ভোজপুরি যুব ছাত্রপরিষদ]

এবার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ পাওয়ার পর সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট কবি সুমন গুণ মুখ খুললেন। এক সংবাদ মাধ্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন “এনআরসি-র যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে উনিশ লক্ষের কিছু বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। মনে রাখতে হবে, এই সংখ্যা তাদেরও ধরে যারা আবেদন করেননি। সুতরাং আবেদন করেছেন এবং বাদ পড়েছেন যারা, সেই তালিকাটা একটু কম হওয়াই স্বাভাবিক।” তবে তিনি এ বিষয়ে আশাবাদী যে, আগামী দিনে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ফের ভারতীয় নাগরিকত্ব ফির পেতে পারেন অনেকে।

তিনি এও বলেছেন, “এক্ষুনি সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে না, কারণ, এর পরেও হাইকোর্টে, সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর উপায় থাকছে।” এনআরসি-র বিরোধীতা করতে গত বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে শাসক দলের প্রতিনিধিরা শিলচরে গিয়েছিলেন। সেখানকার বিমান বন্দরে তাঁদের আটক করা হয়। বলা হয়– তাঁরা অসমের শান্তি বিঘ্নিত করছেন। পরে তাঁদের সরকারি নিরাপত্তায় একটি গেস্ট হাউসে নজরবন্দি করে রাখা হয় এবং পরের দিন কলকাতায় ফিরতে বাধ্য হন তাঁরা। এর কিছুদিন পরেই কলকাতা প্রেসক্লাবে বাংলার বিদ্বজনেরা একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সেই প্রতিবাদ সভার শিরোনাম ছিল ‘অসমের পাশে বাংলা’।

সভায় উপস্থিত থেকে অসম রাজ্যের শাসক দল অর্থাৎ বিজেপির এই কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা। সেই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, শুভাপ্রসন্ন, সুবোধ সরকার, জয় গোস্বামী, বিভাস চক্রবর্তী, প্রসূন ভৌমিক-সহ আরও অনেকে। এবারও কি বাংলার বিদ্বজনেরা অসমের পাশে দাঁড়াতে কলকাতায় প্রতিবাদ সভা করবেন? আগামী দিনে অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে কিনা সেটাই এখন দেখার।

এছাড়াও ১৯ লক্ষ মানুষের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা বাদ পড়েছে এনআরসিতে। কোথাও বাদ পড়েছেন ভূমিপুত্ররাই, তো কোথাও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের আত্মীয়-পরিজনরা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে বিজেপির তরফে বারবার বলা হয়েছিল, এতে হিন্দু বাঙালিদের স্বার্থ রক্ষিত হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উলটো ছবি। এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর কিছুটা হলেও প্যাঁচে পরে গেছে বিজেপি। হিন্দিভাষী, গোর্খা, মুসলিম অনেকেরই নাম নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই নাম বাদ যাওয়ার তালিকার অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি। ওরা হিন্দুর নামে ভোট দিয়েছিল, আর ওদেরই সবচেয়ে খারাপ করল বিজেপি। এখানে হিন্দু বাঙালিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।”

এনআরসির জেরে শুধু বাঙালিরা নন, ১৫ হাজার ভোজপুরিও বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। এমনই তথ্য প্রকাশ করল অসম ভোজপুরি যুব ছাত্রপরিষদ এবং অল অসম ভোজপুরি সন্মেলনের তরফে। এই ১৫ হাজার ভোজপুরি মানুষদের মধ্যে বহু পরিবার ব্রহ্মপুত্র নদীর উত্তর উপকূলের উদালগিরি ও দারং জেলার বাসিন্দা। ফলে তাদের অনেকেরই প্রয়জনীয় নথি বন্যায় হারিয়ে গিয়েছে। আর সে কারণেই তারা এনআরসির  তালিকায় নিজেদের নাম নথিভূক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এনআরসি-র কারণে অসমের মানুষের চূড়ান্ত উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছে মারাত্মক হীনমন্নতা।

(shreyashree)

 

 

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট