প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের শহর কলকাতায় ফিরলেন বিশ্ব বরেণ্য নোবেলজয়ী, উলু,শঙ্খ-ধ্বনিতে মাতল মহানগর

শংকর দত্ত, কলকাতা:  মঙ্গলবারই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন বাঙালি নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়। এদিন কিছুক্ষনের আলাপচারিতায় উঠে এলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে অর্থনীতির নানা প্রসঙ্গ। সেই সঙ্গে দুজনেই যে এই অপাল-পর্বে ভীষণ খুশি তা জানাতে ভোলেননি কেউই। সখ্যাত এর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর টুইটারে দুজনের একটি ছবিও পোস্ট করেন। তিনি সেখানে জানিয়েছেন অভিজিৎ বাবুর নোবেল প্রাপ্তিতে গোটা দেশ গর্বিত। তিনিও আনন্দিত। ভবিষ্যতে তাঁর পরাপর্শ নিয়ে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।

[embedyt]

[/embedyt]

অন্যদিকে অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের নোবেল পাওয়ার পর পরই বিজেপির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং এ রাজ্যের এক কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা তাঁর বিরুদ্ধ সমালোচনা করেছিলেন, এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা তাঁর বৈবাহিক জীবন নিয়েও প্রকাশ্যে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রেখে সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর প্রধানমন্ত্রীর মতোই অভিজিৎ বাবুর নোবেল প্রাপ্তিতে উচ্ছসিত। তিনিও গর্ব অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন কদিন আগেই। এমনকি তিনি এটাও বলেছিলেন, ‘উনি সময় দলে তাঁকে রাজভবনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। অথবা তিনি চাইলে তাঁর বাড়ি গিয়ে দেখা করবেন।’

মুশকিল হলো এই নোবেলজয়ী সম্পর্কে বিজেপি এখন দৃষ্টিভঙ্গি কি হবে। বামপন্থী মুখ হিসাবে পরিচিত এবং মোদী সরকারের সমালোচক বা বিরোধী হিসাবে পরিচিত এই অর্থনীতিবিদ সম্পর্কে দলীয় ভাবে কেন্দ্র বা রাজ্য বিজেপির নতুন ভূমিকা কি হতে চলেছে? যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, এবং এ রাজ্যের রাজ্যপাল তাকে নিয়ে উচ্ছসৃত! বিজেপি র অন্য নেতা মন্ত্রীরা কি এইবার তাঁর সম্পর্কে অকথা-কুকথা বন্ধ করবে? যদিও এটা সময়ই বলবে।

[আরও পড়ুন: ধর্ষণ উপভোগ করার নিদান দিয়ে জনরোষের স্বীকার সাংসদপত্নী]

এদিকে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মধ্যেও মোদি সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ নিয়ে কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি অভিজিৎ বাবু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তিনি রাজনীতিতে আসছেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরও সরাসরি নাকচ করে দেন। তবে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় নরেন্দ্র মোদি নানা কথার মধ্যেই ঠাট্টার ছলে তাঁকে মিডিয়া থেকে সাবধান থাকতে পরামর্শ দেন। সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই অভিজিৎ বাবু নিজেই বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমায় মজা করে বলেছেন মিডিয়া কিন্তু আপনাকে আমার বিরোধী হিসাবে প্রচার করে ফ্যাসাদে ফেলতে পারে। খেয়াল রাখবেন।

মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার ও নিজের একটি বইয়ের উদ্বোধন এবং কয়েকটি জরুরি কাজ সেরেই এদিন সন্ধ্যেতেই তিনি কলকাতা পৌঁছেছেন। মুখ্যন্ত্রীর পক্ষে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁকে স্বাগতম জানিয়েছেন বিমানবন্দরে গিয়েই। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বিমান বন্দরে রাজ্যের পক্ষে শঙ্খধ্বনি ও উলু-ধ্বনি দিয়ে তাঁকে বরন করে নেওয়া হয়। এমনকি তিনি দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে প্রবেশ করবার সময়ও রাজ্য সরকারের তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।

শেষ অবধি একদিনের জন্য হলেও ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন বিশ্ব জয় করে। গর্বে মেতে উঠলো মহানগর।

(shreyashree)

(Visited 29 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here