পুণ্যলগ্ন মহালয়া

ড. রাজলক্ষ্মী বসু: মহালয়া’র ভোরে নিশ্চয়ই ঘুম ঘুম কানে সুর ভেসে এসেছে ‘যা চণ্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী যা ধূম্রেক্ষণচণ্ডমুণ্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী।’ এই শব্দ বিহ্বলে নিশ্চয়ই আমার, আপনার বা আমাদের কারওর ঘুম ঘুম চোখ অবশ্যাম্ভাবী ওই পেঁজাতুলোর মেঘের মধ্যে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগৎমাতার আনন্দ আগমনবার্তা প্রত্যক্ষ করেছেন। আজকের ভোরেই এক সঞ্জীবনীভাবে মর্ত্যলোক জীবনের নববার্তা গ্রহণ করে। মহামায়ার আগমনে মর্ত্যবাসীর জীবন কৃপাতুষ্ট হয়।

আনন্দযজ্ঞে আজ মহালয়া—উমার আগমন তিথি। শারদ প্রাতের নিশ্চিত নির্ঘণ্টকাল। শক্তির অমোঘ রূপ আজকেরই উষালগ্ন। দেবীপক্ষ উদিতা। মহালয়ার পুণ্য তিথি যুগযুগান্তরের ঐতিহ্য বহন করছে। মহালয়া পিতৃপক্ষ তর্পণের জন্য এক প্রশস্ত সময়। এই পক্ষ পিতৃপক্ষ, ষোলা শ্রাদ্ধ, কানাগাত, জিতিয়া, মহালয়া পক্ষ ও অপরপক্ষ নামেও পরিচিত। বাঙালির কাছে সব শব্দবন্ধের ঊর্ধ্বে এ কেবলই দেবীপক্ষ মহালয়া। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু পিতৃপক্ষে শ্রদ্ধা, তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, সেই জন্য এই পক্ষ শুভকার্যের জন্য উপযুক্ত নয়। দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে এই পক্ষ সূচিত হয় এবং সমাপ্ত হয় সর্বপিতৃ অমাবস্যা— তাই মহালয়া। যদিও উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্র মাসের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়।

মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথি হল—প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাঁকে পিতার মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়। পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হিন্দুধর্মে অবশ্য করণীয় কর্তব্য। মহালয়ায় শ্রাদ্ধ, তর্পণ ইত্যাদি বিষয়ে পুরাণ কথার ভিন্ন ভিন্ন লোককথা রচিত। গরুড় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘পুত্র বিনা মুক্তি নাই।’ মার্কণ্ডেয় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান ও দীর্ঘায়ু এবং পরিশেষে উত্তরপুরুষকে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী তিন পুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ড ও জল প্রদান করা হয়, তাঁদের নাম উচ্চারণ করা হয় এবং গোত্রের পিতাকে স্মরণ করা হয়। এই কারণে একজন ব্যক্তির পক্ষে বংশের ছয় প্রজন্মের নাম স্মরণ রাখা সম্ভব হয় এবং এর ফলে বংশের ইতিহাস স্বচ্ছ হয়। জীবিত ব্যক্তির পিতা বা পিতামহ যে তিথিতে মারা যান, পিতৃপক্ষের সেই তিথিতে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। সকল নিয়মের ঊর্ধ্বে এই বিশেষ পুণ্যতিথিতে সব পূর্বপুরুষেরই তর্পণ করা সম্ভব।

বাংলায় মহালয়ার দিনই দুর্গাপুজোর সূচনা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন দেবী দুর্গা মর্ত্যালোকে আবির্ভূতা হন। একদিকে তর্পণ, অন্যদিকে দেবীর আগমন অর্থাৎ এ ঊষালগ্ন পিতৃপক্ষের শেষ এবং দেবীপক্ষের শুরুর মহেন্দ্রক্ষণ। পূর্বপুরুষের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনে যে খাদ্য উৎসর্গ করা হয়, তা হল— ক্ষীর, লপসি, ভাত, ডাল, গুড় ও কুমড়ো। পিণ্ডদান, দুর্বাঘাস, শালগ্রামশিলা, কুশাঙ্গরীয় এসবের মধ্যেই মহালয়ার তর্পণ সম্পন্ন হয়।

মহাভারত অনুযায়ী, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে মারা যাওয়ার পর বীর কর্ণ স্বর্গে গেলে তাঁকে সেখানে খাদ্যর পরিবর্তে শুধুই সোনা-রুপো খেতে দেওয়া হয়। কর্ণ প্রশ্ন তোলেন, খাবারের এমন বিচিত্রতা নিয়ে? তাঁকে জানানো হয়, তিনি আজীবন শুধু শক্তির আরাধনা করে গেছেন এবং স্বর্ণ দান করে গেছেন। কখনও নিজের পূর্বপুরুষের কথা স্মরণ করেননি, তাঁদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মাকে খাদ্য দেননি। তাই পুণ্যফলে তিনি স্বর্গে আসতে পারলেও খাদ্য পাবার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হননি।

কর্ণ উত্তরে জানান, এতে তাঁর তো কোনও দোষ নেই। তাঁর জন্ম মুহূর্তেই তাঁর মা তাঁকে ত্যাগ করেন। সূত বংশজাত অধিরথ ও তাঁর স্ত্রী কর্ণকে প্রতিপালন করেন। তারপর দুর্যোধন তাঁকে আশ্রয় দেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ আরম্ভের আগের দিন প্রথমে কৃষ্ণ, তারপরে তাঁর নিজের মা কুন্তী এসে কর্ণের জন্ম ও বংশ পরিচয় জানিয়েছিলেন। এরপর যুদ্ধ আরম্ভ হয়। তারপর মাত্র ষোলো দিন কর্ণ জীবিত ছিলেন। পিতৃপুরুষকে জল দেবার অবকাশই পাননি। তাঁকে জানানো হয়, আবার মর্ত্যে ফিরে গিয়ে পিতৃপুরুষকে জলদান করলে তবেই স্বর্গে খাদ্য পাবেন। ইন্দ্রের (মতান্তরে যমের) নির্দেশে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপ্রতিপদ তিথিতে কর্ণ আবার মর্ত্যে ফিরে এসে এক পক্ষকাল পিতৃপুরুষকে তিল-জল দান করেন। আশ্বিনের অমাবস্যা তিথিতে শেষ জলদান করে কর্ণ স্বর্গে ফিরে যান। এই বিশেষ পক্ষকাল সময়কে শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ বলা হয়েছে। পিতৃপক্ষের শেষ দিন হল মহালয়া। আসলে এই দিনটি তর্পণের দিন। এই দিনের সঙ্গে দুর্গাপুজোর বা অকালবোধনের তেমন কোনও সম্পর্ক নেই। বরং পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতেই আজ গঙ্গা বা অন্য নদীতে অনেকে তর্পণ করেন। মহালয়া তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটায় এবং এর পরেই দুর্গাপুজো বলে কেবল বাঙালিদের কাছেই মহালয়া দেবীপক্ষের সূচনা হিসেবে পরিগণিত। রেওয়াজ মেনে এই দিনে মা দুর্গার চক্ষুদান হয়। যদিও এর বাঁধাধরা কোনও নিয়ম নেই। এই দিনটি পিতৃপক্ষের অবসানকে চিহ্নিত করে মাত্র। এককথায় মহালয়া পূর্বপুরুষদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তর্পণ লগ্ন। বাঙালির জন্য তারপরেই শুরু হয় পুজোর অপেক্ষা।

মহালয়ার পুরাকথা, লৌকিক সুর, রীতি, ধর্মীয় আবেগ, সংস্কার বা কুসংস্কার যাই থাকুক না কেন, সে এক অর্ধ জানা হিন্দু রীতি। বাঙালির কাছে মহালয়া এসব রীতিনীতির ঊর্ধ্বে আগমনীর সুরে সেজে ওঠার এক আবেগঘন মুহূর্ত। সারা বছরে প্রতীক্ষিত দিন শারদোৎসবের নির্ঘণ্টসূচক এই পুণ্যলগ্ন। বাঙালির মহালয়া চির নিত্যনতুন সেই ওপাশ-ওপাশ থেকে ভেসে আসা ঘুমভাঙানি মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচারণ। ইন্টারনেটের যুগের এই প্রভাতী অনুষ্ঠান সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সব বাঙালিকে আরও একবার বাঙালি ভাবতে শেখায়। হাজারও বিজ্ঞাপন, থিম পুজো সব কিছু ছাপিয়েও কোটি টাকার আবেদন বয়ে আনে ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’। বহুতলের ভিড়েও নিউইয়র্ক থেকে হরিদেবপুর ওই এক প্রভাতী সংগীত অনুমতি দেয় কাশফুল বা শিশিরভেজা শিউলির স্পর্শ। যত বড়োই থিমপুজো হোক না কেন, তা মহালয়ার কাছে আয়োজনে নগন্য। অনুষঙ্গে বাণীকুমার, পঙ্কজকুমার মল্লিক আর সবার হিরো বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র সব লোককথার ঊর্ধ্বেও মহালয়া বাঙালির ভাবমূর্তির নবরূপকার।

ঘুরে দেখা যাক, বাঙালির মহালয়ার হার্টথ্রব চণ্ডীপাঠের কিছু ফিকে হয়ে যাওয়া ইতিহাস। সালটা ১৯২৭। ডালহৌসীর গাস্টির্নপ্লেসে বোম্বের ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি একটি বেতারকেন্দ্র স্থাপন করে। ডিরেক্টর হন নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদার। বাণীকুমার পুজোকে কেন্দ্র করে যদি নতুন কিছু উপহার দেওয়া যায়, সে ভাবনায় নিমগ্ন হন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র মহালয়ার পুণ্যতিথিতে চণ্ডীপাঠের দায়িত্ব নেন। সেদিনও কি কম ঝক্কি ছিল? কায়স্থ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ পড়বে চণ্ডীপাঠ! মহালয়ার পুণ্যতিথির এই চণ্ডীপাঠ বাঙালিকে উমার আরাধনা করতে গিয়ে আরও এক নতুন জীবন শ্লোক শেখালো। চিরাচরিত সব প্রথা ভেঙে এই প্রথম দেবীবন্দনায় একদিকে গগনবিদারী কণ্ঠ কায়স্থ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ, আর সংগতে মুসলমান— খুশি মহম্মদ আলি মুন্সী। এর চাইতে পরিতৃপ্ত দেবীবন্দনা আর কি-ই বা হতে পারে? সুর, তাল, স্তোত্রপাঠ জাতি-ধর্মের সবার ঊর্ধ্বে এক সত্যিকারের মহালয়ার মহাতিথির সূচনা করল। ১৯৩৪ সালের ৮ অক্টোবর প্রথমবার মহালয়ার সকালে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়। ১৯৩৬, অনুষ্ঠানটির নাম হয় ‘মহিষাসুরবধ’। ১৯৩৭ সালে মহালয়ার ভোর এ অনুষ্ঠানের নবনামকরণ করে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ, খুশি মহম্মদ আরও কত সংগতেরা, বাজিয়েরা, শিল্পীরা সারারাত স্টুডিওতে থেকে ভোরবেলা স্নান সেরে শাঁখ বাজিয়ে শুরু করতেন লাইভ প্রোগ্রাম। উস্তাদ সাগির খাঁ— ‘নিখিল আজি সকল ভোলে’ সুরযাদুতে নিমজ্জিত হন পঙ্কজ মল্লিক, রাইচাঁদ বড়াল প্রমুখদের সুরারোপিত ছন্দে। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মহালয়ার ভোর ছোটো-খাটো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গেছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-কে নিয়ে। কত ইতিহাসের সাক্ষী, কত শিল্পীর স্রষ্টা এই মহালয়ার ভোর। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও আপামর বাঙালির কাছে প্রণম্য হন দেবীবন্দনা করতে গিয়েই। ১৯৪৪ এবং ৪৫ সালে পঙ্কজ মল্লিক বেতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষণিক সময়ের জন্য দূরত্ব বাড়ালে মহালয়ার প্রত্যুষ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে।

মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘তব অচিন্ত্য’ গানটিও পরে সংযুক্তিকরণ হলেও তা যেন মহালয়ার প্রভাতী সুরে অনন্য মাত্রা প্রদান করেছে। এসেছেন নানা শিল্পী, যেমন শৈলদেবী, ইলা ঘোষ, সুপ্রভা ঘোষ, কল্পনা হাজরা, অনিল দাস। আবার এসেও ম্লান হয়ে গেছেন বেশ কিছু শিল্পী— জগন্ময় মিত্র, রাধারানি দেবী, সাবিত্রী দেবী, বাঁশরি লাহিড়ি প্রমুখ। মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে এ সব কিছুই পেঁজাতুলোর মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলা খেলে শরতি আলোর মত নির্মল নির্মোহ গ্রন্থনা, শ্লোক এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।

বাঙালির মহালয়া আরও এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ১৯৭৬-র ২৩ সেপ্টেম্বর। অভ্যস্ত বাঙালির কান সেদিন শুনেছিল ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম’। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বর সেই একবারই দখল করেছিলেন ভাষ্যপাঠরূপী মহানায়ক উত্তমকুমার। বাণীকুমারের আলেখ্য পরিবর্তিত হয় ধ্যানেশনারায়ণ চক্রবর্তীর স্ক্রিপ্টে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে চাঁদের হাট— প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, বনশ্রী সেনগুপ্ত, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, অসীমা ভট্টাচার্য, অনুপ ঘোষাল, অপর্ণা সেনগুপ্ত, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় এবং লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁশলে সবাই মহালয়ার দেবী আগমনে অনুরণিত করেছিলেন ত্রিলোক। তবুও মহালয়া ভোরের তৃপ্তি অনুভব করেছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের উদাত্ত কণ্ঠেই।বাঙালি, মহালয়া আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র সময়ের আবেশে যেন সমার্থক।

প্রতিযোগিতার যুগে ব্যস্ততার কলে আর প্রদর্শনবাদের চূড়ান্ত ভঙ্গিমায় মহালয়ার ভোরটুকুই এক নিখাদ খাঁটি শিশিরবিন্দু। যেখানে মাথানত করে সব থিমপুজোর বৈভব এবং প্রদর্শনবাদ। কালের ধাবমানতায় এই মহালয়াই পুজোর ফিতে কাটার দিন বলেও বর্তমানে পরিণত হয়েছে। ভিড়ভাট্টা, ট্রাফিক সিগন্যাল, শহরে উপচেপড়া মফস্বলের ভিড়, ক্রমবর্ধমান প্যাণ্ডেলের সংখ্যা— এসবের আনন্দ, উত্তেজনা, ফূর্তি, প্রাণভরা হাসি সবের সাথে যুক্ত হয়েছে উদ্বোধনের প্রতিযোগিতা। তাই মহালয়াই ছাড়পত্র দিয়েছে পুজো না হলেও অন্তত প্যাণ্ডেল উদ্বোধনের। উৎসবের পারদ চড়তে শুরু করে ভোরের মহালয়া রেডিওর পরেই। বাঙালির কাছে বোধহয় মহালয়া থেকে ষষ্ঠী এই দিনগুলি পুজোর চাইতেও বেশি উত্তেজনাময়। কারণ, মহালয়াই বলে পুজো এসে গেছে, তবু তো পুজো শুরু হয়নি। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘শিউলি’ উপন্যাস আবেগপ্লুত করল লেখনির শেষ প্রান্তে। হয়ত অনেকে দূরে অন্য কোনও প্রান্তে পুরোনো বাড়ি ছেড়ে মফস্বলের মায়া ত্যাগ করে, পিতৃভিটে থেকে অনেক দূরে কর্মক্ষেত্রে সামিল। এ একটিই দিন, একটিই ভোর সব বাঁধাধরা লৌকিকতা থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও মনের আবহে সেই দূরের প্রবাসী বাঙালিকেও মনে করিয়ে দেয় বহু বছর আগের কোনও একবার এই মহালয়া সকালেই শিশিরস্নাত হয়ে শিউলি ফুল কুড়োবার কথা। এমনকি কোনও বাঙালি আছেন, যিনি মহালয়ার এই আবেদনকে অস্বীকার করতে পারেন। সারা বছর বাংলা না বলা বাঙালিও আজকে একবার শুনেইছে ‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’। শাস্ত্রমতে হয়ত অনেক মতান্তর আছে, কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতি মতে ভাবনার কক্ষে মহালয়াই প্রকৃতি, শক্তি, দেবী আরাধনার আনন্দলহরী বহন করে।

sweta

(Visited 36 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here