পাহাড়ের স্বাদ বদলাতে ঘুরে আসুন সিংঘিক প্রদেশ

0
25

শ্বেতা মিত্র: সামনেই পুজো। আর এই সময়ে ভ্রমণপিপাসু বাঙালিদের মনকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখা যায় কি? ভ্রমণপিপাসু বাঙালিদের কাছে পাহাড় মানেই হল সিকিম নয়তো দার্জিলিং। তবে একটা ঘোরার নতুন ঠিকানা হল সিংঘিক প্রদেশ। গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিম যাওয়ার পথে এর অবস্থান। সিকিম প্রদেশে যারা একটু অফবিট জায়গা খোঁজেন তাঁদের কাছে এটি একটি আদর্শ জায়গা। সিংঘিক যে পর্যটনস্থল হিসেবে যে খুব জনপ্রিয় স্থান তা কিন্তু নয়। তবে গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিম যেতে হলে এ জায়গার উপর দিয়েই যেতে হয়।

উত্তর সিকিমের জেলা সদর মানগান থেকে মাত্র ৪ কিমি দূরেই অবস্থিত এই অপূর্ব গ্রামটি। উচ্চতা আনুমানিক ৫,১১৮ ফিট। সিংঘিক থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং মাউন্ট সিনিয়লচুর অপূর্ব ভিউ পাওয়া যায়। এখানে মূলত লেপচারাই বসবাস করে। এখানে যে হোমস্টেগুলি আছে সেখানকার দায়িত্বে সাধারণ ওই গ্রামবাসীরাই রয়েছেন। তাঁদের আতিথেয়তায় আপনি মুগ্ধ হতে যে বাধ্য তা জোর দিয়ে বলতেই পারি। আপনি যদি ট্রেক করতে ভালোবাসেন তাহলে সিংঘিক থেকে দুটি ট্রেকিং পথ পাবেন। একটি হলো ঝান্ডি ভিউ পয়েন্ট, যেখান থেকে পুরো পূর্ব হিমালয়ান রেঞ্জের দেখা মিলবে আর দ্বিতীয়টি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ঘন গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অন্ধকার পথ চলে গেছে তোসা লেকের উদ্দেশ্যে।

এরপর চলে যান টিংচিম এর শতাব্দী প্রাচীন মনাস্ট্রী এবং পবিত্র এমারেল্ড লেকে। এখানকার সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। জঙ্গু একটি ছোট ছবির মত সাজানো লেপচা গ্রাম, এটি মূলত পাখিদের স্বর্গরাজ্য। নানারকম হিমালয়ান বার্ডের দেখা মেলে এই গ্রামে। পারলে একবার শুধু এই জঙ্গুতেই কয়েকটা দিন কাটিয়ে যান।

এখানে গ্রামের সাধারণ মানুষই গাইডের কাজ করে থাকেন। তাই কোথাও যেতে খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সিংঘিকে রয়েছে একটি হেরিটেজ বাংলো, যেখানে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। অগ্রিম বুকিং করে রাখতে হবে। সিংঘিকের এই বাংলোটি এক সময়ে ইংরেজদের গ্রীষ্মকালীন বাসস্থান ছিল।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে ট্রেনে শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি। গ্যাংটক থেকে জায়গাটির দুরত্ব ৫৬ কিমি এবং শিলিগুড়ি থেকে ১৫০ কিমি। গ্যাংটক থেকে গাড়ী ভাড়া- ৩০০০/- টাকা মতো।

কোথায় থাকবেন

গ্যাংটকেও প্রচুর হোটেল আছে। তবে প্রকৃতি উপভোগ করতে বিভিন্ন জায়গায় কটেজ, বাংলো আছে সেখানে থাকতে পারেন। হোমস্টেগুলির প্রতিদিনের ভাড়া- ১৮০০/- (ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার)।

কখন যাবেন
বর্ষা ও বেজায় শীত ছাড়া যে কোনও সময় যাওয়া যায়। মার্চ থেকে মে সবচেয়ে ভালো।

sweta

(Visited 11 times, 1 visits today)