গেরুয়া শিবিরের উত্থান ঠেকাতে হিন্দুত্ববাদের পাঠ পড়বেন বাম কমরেডরা!

রক্তিম দাশ, কলকাতা:   দেশ জুড়ে গেরুয়া শিবিরের উত্থান ঠেকাতে এবার হিন্দুত্ববাদের দ্বারস্থ হলেন বামেরা! বিজেপির এবং সংঘ পরিবারের মোকাবিলায় শতবর্ষে পা দেওয়া ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কমরেডরা চলতি মাসে বেদ,উপনিষদ,পুরাণ,রামায়ণ-মহাভারতের পাঠ নেবেন কেরলে চলতি মাসে রীতিমতো প্রশিক্ষণ শিবির করে। এমনটাই খবর।

যদিও এর আগে কেরলে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াই এফআই-কে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ও বাণী সংবলিত পোস্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বাংলাতে গেরুয়াকরণের হাওয়ায় সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য দুর্গাপূজোর উদ্ধোধনও করেছেন। এর আগেও অবশ্য প্রয়াত সিপিএম মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী তারাপীঠে গিয়ে মা কালীর পুজোয় ও অংশ  নিতে দেখা গিয়েছিল। এই ব্যতিক্রমী ঘটনাগুলি ছাড়া মোটের উপর এদেশের কমিউনিস্টরাও বরাবর বস্তুবাদের  চর্চা করতে গিয়ে হিন্দুত্ববাদকে ভাববাদের মোড়কে জড়িয়ে এর বিরোধিতা করে গিয়েছেন।  ফলত সিপিআইয়ের সাম্প্রতিক হিন্দুত্ববাদের চর্চা আলোড়ন ফেলেছে দেশের রাজনীতিতে।

বেদ-পুরাণকে হাতিয়ার করেই গেরুয়া শিবিরের মোকাবিলায় সম্ভব ভারতীয় কমিউনিস্টদের এমনটাই মনে করছেন সিপিআই। আর তার জন্য চলতি মাসে ২৫ তারিখে কেরলের কান্নুরে তিনদিন ব্যাপি আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ শিবিরের অংশগ্রহণ করবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কমরেডরা।

সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা বিষয়টি নিয়ে বলেছেন,‘ এই বছরে কমরেড এনই বলরামের জন্মশতবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে এনই বলরাম ট্রাস্টের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করে পার্টির কেরল ইউনিট।’

ডি রাজা আরও বলেন, ‘সংঘ পরিবার বেদ-উপনিষদ নিয়ে ব্যাখা করছে। তাই প্রাচীন ভারতের সাহিত্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনাসভা করা হবে। যেগুলি সম্পর্কে দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলি মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। এই আলোচনা সভায় বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ও শিক্ষাবিদদের বক্তা হিসাবে আনা হচ্ছে। তাঁরা ভারতে প্রাচীন শাস্ত্র ও ধর্মগ্রন্থগুলি উপর সঠিক ব্যাখা উপস্থাপন করবেন।’

বামেদের এই হঠাৎ করে ধর্মীয় শাস্ত্র চর্চাকে কটাক্ষ করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। সংঘের দক্ষিণ বঙ্গের প্রধান ড. জিষ্ণু বসু বলেন,‘ আগে ভারতের কমিউনিস্টরা  ১৯১৭ সাল থেকে এই একশো বছরে কত মানুষ খুন করেছে তাঁর আলোচনা করুক। স্ট্যালিন আর হিটলার কত মানুষ খুন করেছে তার তুলনামূলক ব্যাখা করুক, তারপর ধর্মীয় শাস্ত্র চর্চা করবেন।’

হিন্দুত্ববাদের পাঠ নিয়ে দেশে নয়া বামপন্থার ইতিহাস গড়া আর সম্ভব নয় বলেই মনে করেন শিক্ষাবিদ অচিন্ত্য বিশ্বাস। তিনি বলেন,‘যেকোনও দেশের সাংস্কৃতি,ইতিহাস না জেনে তার উপর বিপ্লবের কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়াটা কমিউনিজমের সবচেয়ে বড় ভুল। সিপিআই একসময় ডাঙ্গের  মতো নেতাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর লেখা ভারতের আদিম সাম্যবাদ ও দাসপ্রথা কি ওনার পড়েছেন? ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার সংস্কৃত-পালি ভাষা না জেনে ভারতীয় ইতিহাসের চর্চা করছেন। তাঁর বই পড়ে কমিউনিস্টরা এতদিন দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন করেছে। এখন মরণকালে হরির নাম করে কি লাভ? বেদ-উপনিষদ পড়ে কি হবে। বামেদের ভিতই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। এটা আরও আগে করা উচিত ছিল।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাজলক্ষ্মী বসুর মতে,‘ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দুত্ববাদ নিয়ে গবেষণা চলছে। হিন্দুত্ববাদ কোনও ধর্ম নয়, এটা একটি ভারতের সুপ্রাচীন সংস্কৃতির ধারা। সারা বিশ্ব তা মেনে নিয়েছে বলেই তা নিয়ে চর্চা হচ্ছে। এই কারণে ট্র্যাম্পও বলছেন আমি ভারত আর হিন্দুদের ভালবাসি। এটা আমাদের গর্বেও বিষয়। অহঙ্কারও বটে। মার্কস বলেছিলেন, কমিউনিস্ট পার্টিকে তার নিজের দেশের সংস্কৃতি,ধর্ম এগুলো নিয়ে চলতে হবে। মার্কসবাদে বলা হয়েছে নিজস্বতাকে অক্ষুন্ন রাখার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে তা বিসর্জন দিয়ে এগোনোর কথা এতদিন ভেবেছেন কমিউনিস্টরা। কিন্তু আজ দেশীয় রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁরা হিন্দুত্ববাদের আলোকে কি কমিউনিজমকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা করছেন এটা একটা বড় প্রশ্ন।’

(shreyashree)

(Visited 121 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here