বাঙালি নোবেল জয়ীকে নিয়ে উচ্ছাস কলকাতায়

শংকর দত্ত,  কলকাতা: কবি বলেছিলেন, “ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে”। ভারত সত্যিই আবার কবে গোটা বিশ্ব ফাটিয়ে বেড়াবে সেটা বলা মুশকিল। এই নিয়ে রাজনীতির দৌড় চলতেই থাকবে। তবে বাংলা যে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার যখন তখনই হতে পারে,সে প্রমাণ মিলল বাঙালির আবার একবার নোবেল প্রাপ্তিতে। অমর্ত্য সেন দীর্ঘকাল প্রবাসে থেকেও তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই বাঙালি। বিশেষত শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ,ছোটবেলা বেড়ে ওঠা কিংবা সাইকেল চেপে ঘুরে বেড়ানোর কথা আমরা জেনেই গেছি।

[আরও পড়ুন: অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন বাঙালি অর্থনীতিবিদ]

কিন্তু তাঁর আর এক উত্তরসূরী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায় যে খোদ কলকাতার ছেলে। তাঁর সম্পর্ক কলকাতার মাঠ-ঘাট নদী সবকিছুর সঙ্গে নিবিড় ভাবে। তবে ছোটবেলা থেকেই সব কিছুর সঙ্গেই তিনি অর্থনীতির গন্ধ খুঁজে বেড়াতেন। বলতে গেলে তাঁর কথাবার্তা আলাপচারিতা সব কিছুতেই থাকতো অর্থনীতির বিষয় নিয়ে উচ্ছাস কিংবা আলোচনা। মারাঠি মায়ের বাঙালি সন্তান অভিজিৎ বিনায়ক। তাঁর বাবাও ছিলেন একসময় প্রেসিডেন্সির অধ্যাপক এবং অর্থনীতিবিদ। তাঁর সাউথ পয়েন্ট শেষ করে প্রেসিডেন্সিতে তিনি ছিলেন তার বাবারই ছাত্র। মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেও মা নির্মল বন্দোপাধ্যায় বাঙালি স্বামীর হাত ধরে কলকাতাতেই চলে আসেন বরাবরের মতো।

হঠাৎ নোবেল প্রাপ্তির খবরে সপ্তাহের প্রথম দিনে তাই কলকাতার বাড়িতে ক্যামেরার ফ্লাশের ঝলকানি। একের পর এক মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন মা নির্মলাও। প্রথম সন্তান অভিজতের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তাই তিনি বললেন আমাদের বছরে চার পাঁচ বার দেখা হয়। কথাও হয় প্রায়। তবে ছেলের সঙ্গে কোনও দিনই কি করছো? কি খেলে? কেমন আছো এই সব আলোচনা হতো না। যখনই কথা হয়, দেশ সমাজ অর্থনীতি, মানুষের অবস্থা, বেকারত্ব এই সব জরুরি বিষয়েই কথা হয়। স্বভাবতই তাঁর মা আনন্দে আত্মহারা সন্তানের এই নোবেল প্রাপ্তিতে।

একই সঙ্গে বাঙালির এই জয়ে গোটা বাংলা হঠাৎ করে আবার যেন জেগে উঠলো। হোক না তিনি মার্কিন মুলুকের বাসিন্দা, হোক তার বিদেশী বউ। বাঙালি সেসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বরং আদরের নোবেল জয়ীকে আপন করে নিলো আজ আবার। নাম ঘোষণা ইস্তক গোটা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সাধারণ মানুষের যে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস,তাঁর প্রতি উজাড় করে দেওয়া ভালোবাসার জোয়ার যা সদ্য শেষ হওয়া দুর্গাপুজোর আনন্দের রেসকে যেন নতুন করে টেনে ধরলো। কেউ লিখছেন এটাই বাঙালি,কেউ লিখছেন বাঙালি সব সময় বিশ্বের সেরা,কেউ বলছেন আসলে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের বাংলায় এটাই হবে বারবার।

আর এই একটা জায়গায় আজ সামাজিক মাধ্যমে বাংলার রাজনীতি, মেকি সাহিত্যের কচকচনি অথবা ঝগড়া ঝাটি সব-বিক্ষোভ সব কিছুকে ভুলেই আম-বাঙালি আজ মেতে রইলো শুধুই তাঁদের গর্বের সন্তান “পুওর ইকোনোমির” স্রষ্টাকে নিয়েই। গুগল সার্চ মেরে তার বেস্ট ছবি খুঁজে কিংবা তার তার লিখিত বই এর প্রচ্ছদ এর ছবি বের করে নিজের একাউন্টে পোস্ট করে নিজেকেও গর্বিত বাঙালির দাবি করেছেন কতশত মানুষ। পশ্চিমবঙ্গর বাঙালি ধরলে রবীন্দ্রনাথ, তারপর অমর্ত সেন এবং অবশ্যই উঠে আসে এই নতুন বাঙালি অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়। বাংলাদেশের ইউনুস সাহেবও এসে যান বাঙালি  হিসাবেই। তবে আমর্ত সেনের পর এ বাংলার বাংলিকে আবার সত্যিই গর্বিত করলেন শ্রী বন্দোপাধ্যায়। আর যে বাঙালি  সঙ্গে সরাসরি রাজধানীর বেড়ে ওঠার কাহিনী জুড়ে থাকে,তিনি তো একটু ব্যতিক্রমী বটেই। তাঁর এই সাফল্যে রাজ্যের মুখমন্ত্রী থেকে রাজ্যপাল এমনকি বন্ধু মহল ও শিক্ষা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব গণ উচ্ছসৃত হয়ে শুভেছা জানিয়েছেন ।

(shreyashree)

(Visited 24 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here