ভিএইচপির দুর্গা পুজায় এবার তৃণমূলের থাবা! টানটান যাদবপুর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | September 7, 2019 | 8:24 am

রক্তিম দাশ,কলকাতা: এবার দুর্গা পুজা দখলের অভিযোগ উঠল শাসকদলের ওপর! যাদবপুর থানা এলাকার রংকলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও স্থানীয় একটি ক্লাবের পুজা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলকর্মীদের উপর। কিন্তু এ্ই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি ৯৩ ওর্য়াডের স্থানিয় তৃণমূল কাউন্সিলর রতন দে।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যাদবপুর লেক গার্ডেন্স মোড়ে পাশে বিক্রমগড় সংলগ্ন রংকলে দুর্গা পুজা করে আসছে স্থানিয় ক্লাব নেতাজি সংঘ। এই ক্লাবটি বেশ কয়েকবছর ধরেই গেরুয়া শিবিরের ঘেঁষা বলে এলাকায় পরিচিত। রংকল এলাকায় মূলত নিন্মবিত্ত পরিবারের মানুষের বাস। এই এলাকার পুরুষরা দিনমুজরের কাজ করেন আর মহিলারা লেক গার্ডেন্স,গলফগ্রীণএলাকার বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা পৌরসভার ৯৩ ওর্য়াডের অর্ন্তগত  রংকলের দুটি বুথ ২৫১ এবং ২৫২ থেকেই বিজেপি লিড নেয়। এর পাশাপাশি তৃণমূলকে পিছনে ফেলে ওর্য়াডে বিজেপি জিতে যায় ১৬৭৯ ভোটে।

এলাকার ছোট পুজাকে বড় করার লক্ষ্য নিয়ে এবার নেতাজি সংঘ ঠিকে করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে সঙ্গে নেয়। ইতিমধ্যেই খুঁটি পুজা করে ব্যানারও লাগিয়েছেন তাঁরা। আর তারপরই নাকি এই পুজা বন্ধ করার জন্য চাপ আসতে শুরু করছে এমনটাই অভিযোগ। যদিও কাউন্সিলর রতন দে নেতাজি সংঘের অভিযোগ মিথ্যা বলেন দাবি করে বলেন,‘ওই পুজার পারমিশন আমিই করিয়েছি।ওখানে কোনও রাজনৈতিক দল পুজা করবে তা পাড়ার লোকরাই চাইছেন না।’

নেতাজি সংঘের সভাপতি সঞ্জয় হালদারের অভিযোগ,‘স্থানিয় তৃণমূল কাউন্সিলার রতন দে তাদের খবর পাঠিয়ে বলেছেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে নিয়ে পুজা করা যাবে না। তিনি পুজার খরচ দেবেন এবং তিনি উদ্বোধন করতে আসবেন।’এই অভিযোগের উত্তরে রতনবাবু সাফ বলেন,‘ আমি আমার ওর্য়াডের সব পুজাকেই সাহায্য করি। উদ্বোধনেও যাই এটা নতুন কথা নয়।’ সঞ্জয় বাবু বলেন,‘ আমাদের প্রশ্ন পুজা যখন ছোট ছিল তখন রতনবাবু আসেননি। একবার খোঁজও নেননি। এখন কেন আসতে চাইছেন। আমরা এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি বলে ওনি তৃণমুলকর্মীদেও দিয়ে পালটা হোডিং লাগিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, রংকল সার্বজনীন দুর্গা পুজা কেবল মাত্র পাড়ার অধিবাসীবৃন্দের। এই পুজাতে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা থাকবে না।’পুজা বন্ধ করতে নেতাজি সংঘের কর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে সঞ্জয়বাবু বলেন,‘ গত ২৫ আগস্ট ক্লাবের সম্পাদক রাজু খাটুয়া, সদস্য প্রশান্ত নস্কর, প্রসেনজিৎ পুরকাইতকে মিথ্যা মামলায় দেওয়া হয়। এর যাতে জামিন না পায় তার জন্য ৮ দিন পরে আদালতে কেস নম্বর পাঠায় পুলিশ। এর ৮দিন বাড়ি ছাড়া ছিল। পরে আদালত থেকে জামিন পায়।’পুজার কারণে কোনও মিথ্যা মামলা হয়নি বলে দাবি রতনবাবুর। তিনি বলেন,‘ওরা মারামারি করেছে। তা নিয়ে মামলা হয়েছে। এর সঙ্গে আমার বা পুজার কোনও সর্ম্পক নেই।’
স্থানিয় বাসীন্দা  মাধুরি পুরকাইত, কল্পনা জানা, মামনি সরদার, আরতি মাহান্তিরা বলেন,‘ যতই বাধা আসুক আমরা পুজা করব। গত ১৭ বছর ধরে সরকারি সব অনুমতি নিয়ে আমরা পুজা করছি। এটা আমাদের পাড়ার একমাত্র পুজা। কেউ যদি পালটা পুজা করতে চায় তাহলে করতেই পারে। কিন্তু আমাদের পুজা আটকাবে কেন?’

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণ কলকাতা জেলার সহসভাপতি  অনিকেত দেব বলেন,‘ প্রচার করা হচ্ছে আমরা রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা তা নই, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ একটি ধর্মীয় সংগঠন। আমাদেও সঙ্গে নেতাজি সংঘ ক্লাবের এই পুজার করার জন্য একটি চুক্তি হয়েছে।  পুজা ঠেকানোর জন্য  মিথ্যা মামলায় করা হচ্ছে সদস্যদের জন্য। যদি পুজা বন্ধ হয় তাহলে আমরা আদালতে যাব।’

 

 

(Firoz)

 

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট