ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ১২৬ বছরের ব্যবধানে ‘নরেন্দ্র’ নামেই মাতল আমেরিকা

এস. এ. হামিদ: প্রেক্ষিত আলাদা, তা সত্বেও সবকিছুকে এক সূত্রে আবার বাঁধল একটি নাম- ‘নরেন্দ্র’।

একদা শেক্সপিয়ার লিখেছিলেন, ‘নামে কী আসে যায়’। সত্যিই হয়তো নামে কিছু আসে যায় না, কিন্তু তাও এক শতকেরও বেশি তফাতে একটি নামই ভারতের ধ্বজা তুলে ধরল মার্কিন মুলুকে। বিশ্বের দরবারে জিতে নিল কোটি মানুষের হৃদয়। সেই নামটা হল ‘নরেন্দ্র’।

১৯৮৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকার শিকাগোতে হিন্দু ধর্ম নিয়ে তাঁর বিখ্যাত ভাষণটি দিয়েছিলেন। মার্কিন মুলুকে যেখানে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কারোর সম্যক ধারণাই ছিল না, সেখানেই তিনি হিন্দু ধর্মের ত্যাগের দর্শন তুলে ধরে নড়িয়ে দিয়েছিলেন ভোগবাদী বিশ্বকে। স্বামী বিবেকানন্দ সন্ন্যাস নেওয়ার আগে তাঁর নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত।

শিকাগো ধর্ম-মহাসভায় প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতি হিসাবে কার্তিন্যল গিবন্স্ত শ্রোতৃমণ্ডলীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেন ‘নরেন্দ্র’র। অভ্যর্থনার উত্তরে স্বামীজী বলেছিলেন- ‘হে আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ, আজ আপনারা আমাদের যে আন্তরিক ও সাদর অভ্যর্থনা করেছেন, তার উত্তর দেওয়ার জন্য উঠতে গিয়া আমার হৃদয় অনিবর্চনীয় আনন্দে পরিপূর্ণ হয়েছে।

পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। সর্বধর্মের যিনি প্রসূতি-স্বরূপ, তাঁর নামে আমি আপনাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর তরফে আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’

১২৬ বছর ১১ দিন পর সেপ্টেম্বরেই আরও এক ‘নরেন্দ্র’ ফের ভারতের নাম তুলে ধরলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এই নরেন্দ্র অবশ্যই ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। রবিবার হিউস্টন শহরে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি, তাতে ফের একবার ভারতের দিকে ফিরে তাকাতে বাধ্য হচ্ছে বিশ্বের তাবড় দেশগুলি। এদিনের নয়া ‘নরেন্দ্র’র ভাষণ শুনেও অভিভূত হয়েছেন অনেকেই।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি এদিন দীপ্ত কন্ঠে বলেন- ‘এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে – হাউডি মোদি। কিন্তু, একা মোদি কিছুই নয়। আমি এমন একজন মানুষ, যে ভারতে ১৩০ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণে কাজ করে চলেছে। সুতরাং, যখন আপনারা জিজ্ঞেস করেন – হাউডি মোদি ( মোদি আপনি কেমন আছেন ? ), তখন আমি বলতে পারি, ভারতে সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে।’ তিনি ‘সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে’ – এই শব্দবন্ধগুলি একাধিক ভারতীয় ভাষায় উচ্চারণ করেন। বাংলা ভাষাতেও তিনি বলেন- ‘সব খুব ভালো’

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, জানান, ‘ভারত এখন এক নতুন ভারত গঠনের লক্ষ্যে মনস্থির করে ফেলেছে এবং কঠোর পরিশ্রম করছে। এক নতুন ও উজ্জ্বল ভারত গঠনে একাধিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারত সমস্যা থেকে দূরে সরে গিয়ে নয়, বরং সেগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলছে। আপাত পরিবর্তনের লক্ষ্যে নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

হিউস্টনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানিয়ে ডেমোক্রেট নেতা স্টিনি হোনার বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক ভারতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে একদিকে সমগ্র জাতি যখন বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে সচেতন, অন্যদিকে তখন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ভারত মহাকাশে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির পথে নিয়ে গেছে।’

যদিও, এর আগে হিউস্টনের মেয়র সিলভেস্টার টার্নার ভারত – হিউস্টন সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা ও সুদীর্ঘ যোগসূত্রের নিদর্শন-স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে ‘কি টু হিউস্টন’ প্রদান করেন।

তাই একথা সহজে বলা যায়, দুজনের অবস্থান, প্রেক্ষিত, বক্তব্যের বিষয়, সময়, অনেক কিছুই আলাদা হলেও- দুই ‘নরেন্দ্র’ই মার্কিন মুলুকে ভারতকে গর্বিত করেছেন। একদা কবি অতুল প্রসাদ লিখেছিলেন-

বল, বল, বল সবে, শত বীণা-বেণু-রবে

ভারত আবার জগত-সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।

(Visited 23 times, 1 visits today)

1 COMMENT

  1. চাঁদের সাথে মেনি বাঁদরের পোঁদের তুলনা করবেন না please। আর স্বামী বিবেকানন্দ কে আপনাদের নোংরা পলিটিক্স থেকে দূরে রাখুন। নাহলে heavy খিস্তি খাবেন।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here