কোথাও না পৌঁছনোর ইতিহাস

রন্তিদেব সেনগুপ্ত

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, শতবর্ষটি সিপিএমের নয়। শতবর্ষটি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে সিপিএমের জন্ম ১৯৬৪ সালে। সেই হিসাবে সিপিএমের শতবর্ষের জন্য এখনও আরও বেশ কয়েকটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এখন যারা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষটিকে সিপিএমের আলোয় আলোকিত করে প্রকারান্তরে এটিকে সিপিএমের শতবর্ষের রূপ দিতে চাইছেন, বলতেই হবে, তাঁরা একটি অনৈতিক এবং অন্যায়  কাজ করার চেষ্টা করছেন। সে-প্রসঙ্গে অবশ্য ঢুকছি না। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কবে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সে নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছেই। কেউ কেউ বলেন, ১৯২০-র অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসে তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সূচনা হয়। কারোর মতে, ১৯২১-এর  গোড়ার দিকে তাসখন্দের ইন্ডিয়া হাউসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়েছিল। আবার অন্য এক পক্ষের মতে, ১৯২৫ সালে ২৬ ডিসেম্বর কানপুরে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টির। এই তিন মতবাদের লোকেরাই নিজ নিজ মতবাদের পক্ষে নানারকম তথ্য ও যুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে, এটি সকলেই স্বীকার করেন, বিশের দশকেই এদেশে কমিউনিস্ট পার্টির পতন। কমিউনিস্ট পার্টির পতনের পর দু-দু’বার কমিউনিস্ট পার্টিতে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রথমবার ১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে সিপিএমের জন্ম। পরে সাতের দশকে সিপিএম ভেঙে সিপিআই (এমএল)-এর জন্ম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে অবশ্য সিপিআই (কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া)-কে পিছনে ফেলে সিপিএমই প্রধান কমিউনিস্ট শক্তি এদেশে। কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস নিয়ে বিশদ আলোচনা করতে চাই না। সেটি আবার প্রতিপাদ্য বিষয়ও নয়। বরং আমরা একটু ভাবি শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এদেশের কমিউনিস্টরা কতখানি সাম্যবাদী হয়ে উঠতে পারলেন?

[আরও পড়ুন: অপারেশন ভোলা: সেই পুরানো খেলা]

কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসটি যদি একটু খতিয়ে দেখা যায়, তাহলেই বোঝা যাবে এই দেশের মূলধারার কমিউনিস্ট নেতারা কোনোদিনই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথা ভাবেননি। মুখে যাই বলুন, বিপ্লব সম্পর্কে তাদের অনীহাই ছিল বরাবর। বরং সংসদীয় রাজনীতিতে আগ্রহী সংসদীয় রাজনীতির মধুভাণ্ডটির আস্বাদ নিতেই তাঁরা পছন্দ করেছেন এবং কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসে এও দেখা যায়, এই কমিউনিস্ট নেতারা বৃহত্তর স্বার্থের বদলে নিজেদের ক্ষুদ্র গোষ্ঠী স্বার্থ এবং ব্যক্তিস্বার্থেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। এমনকী, ষাটের দশকে চিন ভারত যুদ্ধের সময় দেশে আটক থাকাকালীনও কমিউনিস্ট নেতারা নিজেদের ক্ষুদ্র গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। বিশিষ্ট কমিউনিস্ট নেতা হরিনারায়ণ অধিকারীর লেখা থেকে জানা যায়, দমদম জেলে আটক কমিউনিস্ট নেতাদের ভিতর গোষ্ঠীবিরোধ এমন পর্যায়ে পেঁছেছিল যে তাঁরা নিজেদের রান্নাঘর ভাগ করার কথাও ভেবেছিলেন। যদিও শেষপর্যন্ত নিরঞ্জন সেনগুপ্তের মতো নেতা বিষয়টি সামাল দেন।

এমনকী, প্রমোদ দাশগুপ্ত ও জ্যোতি বসুর গোষ্ঠী বিরোধ কী পর্যায়ে গিয়ে পেঁছেছিল, হরিনারাযণ অধিকারীর লেখায় তারও একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হরিনারায়ণবাবু লিখেছেন, ‘জেলের অভ্যন্তরে পার্টি নেতাদের মতবিরোধ থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি ভালো লাগছে না, মেনে নিতে পারছি না। আমাদের নেতা প্রমোদ দাশগুপ্ত-জ্যোতি বসুর অন্তত জেলে ঐক্যবদ্ধভাবে চলা উচিত। জেলের বাইরে এসব নিয়ে আলাপ-আলোচনা চললেই ভালো হত।’ এর উত্তরে হাসির ছলে প্রমোদ দাশগুপ্ত বলেন, ‘তুমি কি জিন্না-গান্ধীর ঐক্যের কথা বলছ।’ কমিউনিস্ট পার্টির ওই যৌবনকালেই কমিউনিস্ট নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে পেঁছেছিল যে মতাদর্শগত বিরোধ শিকেয় তুলে রেখে এই কমিউনিস্ট নেতারা পরস্পরের চরিত্র হননে মেতেছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হওয়ার প্রাক্কালে দলের রুশপন্থী নেতারা, অর্থাৎ ভবানী সেন, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায, রণেন সেন, সোমনাথ লাহিড়ি প্রমুখ দলের চিনপন্থী নেতা মুজফফর আহমেদ, প্রমোদ দাশগুপ্তদের বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপের অভিযোগ এনেছিলেন। এর জবাবে আবার মুজফফর আহমেদ-প্রমোদ দাশগুপ্তরা রুশপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছিলেন- এই নেতারা পার্টি কেন্দ্র থেকে প্রচুর টাকা পেয়েছেন। তার ওপরও তাঁরা প্রচুর দেনা করেছেন। কেন দেনা করেছেন, তা তাঁরাই জানেন। এই কদর্য চরিত্র হননের গোষ্ঠী-রাজনীতি দেখেই বোঝা গিয়েছিল, যতদিন যাবে, পার্টি আয়তনে যত বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষমতায় আসবে, তত দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠী-রাজনীতিও চূড়ান্ত আকার নেবে। এবং নিজ নিজ গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করা এবং সেই গোষ্ঠীর মাধ্যমে পার্টিতে নিজ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার লক্ষ্যে অনিযন্ত্রিতভাবে বেনোজল ঢোকানোর প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে। এবং তার ফলে পার্টি একদিন আদর্শচ্যুত হতে বাধ্য।

এবং কালে কালে কার্যত তা হয়েছেও। ১৯৭৭ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এরাজ্যে ক্ষমতার আসা থেকে ২০১১-র বিদায় লগ্নটির মাঝে ৩৪ বছর কমিউনিস্টরা সাম্যবাদের আদর্শ থেকে সহস্র যোজন দূরে সরে গিযেছে। এই ৩৪ বছরে প্রধান্য পেয়েছে শুধু সংকীর্ণ ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীস্বার্থ। কেমন সেই স্বার্থের চেহারা? বামপন্থী অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজে তাঁর ‘পভার্টি ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড আই আরডিপি ডিলিউশন’ গ্রন্থে বাম আমলে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতের একটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড  রুরাল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী-সমর্থকরাই। কাজেই শ্রেণিগতভাবে সাহায্য পাওয়ার বদলে পার্টিগতভাবে সাহায্য পাওয়াটাই এখানে বড় হয়ে উঠেছে।’ দলের অভ্যন্তরে এবং দলের বাইরেও নিজেদের আধিপত্য কাযেম রাখতে পার্টি নেতারা এভাবেই সরকারি সাহায্য নিজেদের অনুগতদের ভিতরই বিলি করতেন কেবল। আবার, শতদল দাশগুপ্ত এবং রজতশুভ্র মুখোপাধ্যায়ও তাঁদের ‘পার্টি পলিটিক্স, পঞ্চাযেত অ্যান্ড কনফ্লিক্ট ইন আ ওয়েস্ট বেঙ্গল ভিলেজ’ নিবন্ধে বাম আমলে গ্রামীণ উন্নতির কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘নিজেদের ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখতেই এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির আওতা থেকে অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ জঁ দ্রেজে, শতদল দাশগুপ্ত, রজতশুভ্র মুখোপাধ্যায প্রমুখের দৃষ্টি থেকে এটা এড়ায়নি যে- বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থের বদলে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীস্বার্থই বামপন্থীদের কাছে বড় হয়ে উঠেছিল। আর ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীস্বার্থ যখন বড় হয়ে ওঠে, তখন যে বৃহত্তর লক্ষ্যে যে পেঁছনো সম্ভব হয় না তার খুব বেশি বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।

তাঁরা যে আর বড় কোনও লক্ষ্যে পেঁছতে পারছেন না, বরং ক্ষুদ্র গোষ্ঠীস্বার্থ তাঁদের জনবিচ্ছিন্নই করে তুলছে  তা যে বামপন্থী নেতারা বুঝতে পারেননি এমন নয়। নয়ের দশকেই সিপিএমের বর্ধমান জেলা কমিটি তাদের আন্তঃপার্টি দলিলে লিখেছিল, ‘যুব সম্প্রদায়ের কাছে বামপন্থার কথা এখন পুরনো হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়। পুরনো আমলের কমিউনিস্ট নেতাদের যে আদর্শবাদ, সততা, স্বার্থত্যাগ, বৈভবহীন জীবনযাপন, শিক্ষা যুব সমাজকে কমিউনিজমের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল, সে অবস্থা এখন আর নেই। এখন আর অন্য রাজনৈতিক দলগুলির থেকে কমিউনিস্ট পার্টির কোনও ফারাকই নেই। গত কয়েক বছর ক্ষমতায় থেকে আমাদের পার্টির নেতা এবং কর্মীরা এখন আমলা নির্ভর হয়ে পড়েছেন। পেটি বুর্জোয়া শ্রেণি এখন আমাদের পার্টিকে গ্রাস করেছে পুরোপুরি। যে সংগ্রাম আমরা এসবের বিরুদ্ধে শুরু করেছিলাম, তা আর এখন দেখা যায় না। জনগণের সামনে আমাদের ইমেজেও কালিমালিপ্ত হয়েছে। কেউ কেউ ভাবছেন নীচের তলার কর্মীদের ভিতরই শুধু পেটি বুর্জোয়া মনোভাব দেখা দিয়েছে, তা ঠিক নয়। উপরতলার পরীক্ষিত নেতারাও আজ শিকার হয়েছেন এই মনোভাবের। এর বিরুদ্ধে যদি আমাদের লড়াই শুরু করতে হয়, তাহলে সে লড়াই শুরু করতে হবে ওপরতলা থেকেই।’ কমিউনিস্ট পার্টি শতবের্ষ পা রাখার অন্তত দেড় দশক আগেই সিপিএমের বর্ধমান জেলা কমিটি একথা বলেছিল। এবং অত্যন্ত খোলাখুলি ভাবেই বলেছিল।

সংকীর্ণ গোষ্ঠীস্বার্থ যে বামপন্থীদের ক্রমশ এক ভুলভুলাইয়ার ভিতর নিয়ে চলেছে, তা কিন্তু অনুধাবন করেছিলেন অনেকেই। বামপন্থী সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের কাজের মানসিকতা এবং ধরন দেখে জোসেফ লেলিভেল্ড তাঁর ‘ক্যালকাটা’ গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘… next to the interest of his family, the public interest does not exist’ এবং এর ফলে সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতা যে ক্ষয় হচ্ছে তা দৃষ্টি এড়ায়নি রস মালিকের মতো সমাজতাত্ত্বিক অর্থনীতিদেরও। রস মালিক তাঁর ‘ডেভেলপমেন্ট পলিসি অফ এ কমিউনিস্ট গভর্নমেন্ট’ বইয়ে বাম আমলে সরকারি অফিসের চেহারা তুলে ধরতে গিয়ে লিখেছেন  ‘পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মচারীরা কাজে আসে এক-দু’ঘণটা দেরি করে, যায় ছুটির এক-দু’ঘণটা আগেই।’ রস মালিক আরও বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস জমানার থেকেও প্রশাসনিক দক্ষতা হ্রাস পেয়েছে মার্কসবাদীদের আমলে।’ সাতাশ বছর এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে থাকা জ্যোতি বসুও সখেদে বলেছিলেন, ‘আমি কাকে কাজ করতে বলব? চেয়ার টেবিলকে?’ না, সরকারি কর্মচারীদেরও কাজ করতে বলতে পারেননি বামপন্থী নেতারা। কারণ, ওই সংকীর্ণ গোষ্ঠীস্বার্থ।

ক্ষমতায় থাকার সময়ই বামপন্থী নেতৃবৃন্দ বুঝেছিলেন পার্টিতে অবাঞ্ছিতদের ভিড় বাড়ছে। পার্টির এই অনিয়ন্ত্রিত শক্তিবৃদ্ধি যে আসলে ফোলানো ফানুসের মতো তাও বুঝতে পারছিলেন বাম নেতারা। ১৯৯৪ সালে সিপিএমের মুখপত্র ‘দেশহিতৈষী’-র শারদ সংখ্যায় তৎকালীন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন সেন লিখেছিলেন, ‘অবাঞ্ছিত, ভাগ্যান্বেষী, আত্মপ্রতিষ্ঠাকারী অনেকেই এখন ভিড় জমাচ্ছেন পার্টির আশেপাশে।’ ওই একই শারদ সংখ্যায় সিপিএমের তৎকালীন বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক (পরে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী) নিরুপম সেন লিখেছিলেন, ‘পার্টি ক্ষমতায় থাকার কারণে এমন অনেকেই পার্টির কাছাকাছি আসতে চান- যাঁদের মূল লক্ষ্য হল ব্যক্তিগত প্রভাব-প্রতিপত্তি বা সুবিধা আদায়। এই অংশটি খুব স্বাভাবিকভাবেই মতাদর্শ চর্চায় আগ্রহী নয়। যদি পার্টির অভ্যন্তরে এই চেতনা সঞ্চারিত না হয়, তবে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না যে এই সকল সুবিধাভোগী ব্যক্তিরাই পার্টির কর্তৃত্ব দখল করে নেবেন। আর এটা যেখানে ঘটবে, সেখানে অতি অবশ্যই মতাদর্শগত ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হতে থাকবে। যদি তাই হতে থাকে, তবে পার্টি একসময় কেবল ব্যক্তি স্বাতন্ত্র‌বাদী এবং সুবিধাবাদীদের আখড়ায় পরিণত হবে’। নিরুপমবাবুর এই আশঙ্কাই কিন্তু সত্য হয়েছিল।

বিষয়টা হচ্ছে, আশঙ্কা যখন সবাই প্রকাশ করছিলেন, তখন পার্টিকে সংযত করা গেল না কেন? গেল না এই কারণেই যে, গোষ্ঠী রাজনীতি কমিউনিস্ট নেতারা প্রায জন্মলগ্ন থেকেই শুরু করেছিলেন, সেই গোষ্ঠী রাজনীতির আঙিনা ডিঙিয়ে তাঁরা বৃহত্তর কর্মযজ্ঞে প্রবেশ করতেই পারলেন না। গোষ্ঠী রাজনীতির বাধ্য-বাধকতাই তাঁদের চলার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। কাজেই একশো বছর পরে কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস যদি কেউ লিখতে বসে, তাঁকে উপসংহারে লিখতেই হবে ‘এ আসলে কোথাও না পৌঁছাতে পারার এক ট্রাজিক কাহিনি।’

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাহীন রিক্ত-নিঃস্ব মার্কসবাদীদের সম্পর্কে দু-দশক আগেই বামপন্থী শ্রমিক নেতা নীরেন ঘোষ এক অব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন। সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতে ১৯৯৪ সালের অক্টোবর নীরেনবাবু লিখেছিলেন, ‘একথাও মনে রাখা দরকার, সমাজবিরোধীরা, সুবিধাবাদীরা, শাসক পার্টির ছত্রছায়ায় থাকতে চায় বা আশপাশে ভিড় করে। যদি পার্টি রাজ্যের ক্ষমতায় না থাকে তবে আজকাল যাদের দেখা যায় পার্টির আশেপাশে ভিড় করে আছে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তারা হাওয়া হয়ে উড়ে যাবে। টিকিও দেখা যাবে না। আগে যে পার্টির ভাবমূর্তি ছিল, তা আর আছে কি? কতটুকু ম্লান হয়েছে? সামনে যদি আশার আলো না থাকে তো আর্দশভ্রষ্টতাও দেখা দিতে পারে। আর নীতিহীন কাজকর্ম যদি একটু একটু করে দেখা দেয়, তবে পার্টির বিপ্লবী সত্ত্বা ক্রমশ ক্ষুণ্ণ হবেই।’

শুধু সিপিএম নয়, যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন নীরেনবাবুর এই সতর্কবার্তাটি তাঁদের সকলের পক্ষেই প্রযোজ্য।

(shreyashree)

(Visited 71 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here