কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে কলকাতায় চার দিনের বিজ্ঞানের মহোৎসব

শংকর দত্ত, কলকাতা: এ যেন বিজ্ঞানের মহোৎসব! চার দিন ধরে এই মহোৎসবেরই সাক্ষী থাকবে শহর কলকাতা। রাত পোহালেই জমজমাট আসর বসবে ছ’টি কেন্দ্র জুড়ে। ভারতে আয়োজিত পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের (আইআইএসএফ ২০১৯) সেই মহা আসরেই চেষ্টা করা হচ্ছে চারটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার।

উৎসবের প্রথম দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারের আকর্ষণ জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা। এতে যোগ দেবেন ১৭৫০ জন পড়ুয়া। বৃহত্তম অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের পাঠশালা বসবে রাজারহাটের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে। তৈরি হবে বিশ্বরেকর্ড। মহাকাশের গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা থেকে শুরু করে ব্ল্যাক হোলের খুঁটিনাটি বোঝাবেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সির গঠন বোঝাবেন তরুণ গবেষকরা।

দ্বিতীয় দিনের মেগা ইভেন্টের মূল আকর্ষণ ইলেকট্রনিক্স এবং অপটিক্যাল সায়েন্স। ৯৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বৃহত্তম ইলেক্ট্রনিক্স পাঠের সাথে সাথেই দ্বিতীয় গিনেস রেকর্ড গড়বে এই উৎসব। ইনফ্রারেড তরঙ্গ কী ভাবে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তার ব্যাখ্যা দেবেন বিজ্ঞানীরা। জানাবেন, পুকুরে বড় ঢিল ফেললে যেমন বড় তরঙ্গের সৃষ্টি হয় আর তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুকুরের পারে পৌঁছে যায়, মহা-বিস্ফোরণ বা ‘বিগ ব্যাং’-এর পরেও তেমনই অত্যন্ত শক্তিশালী একটি তরঙ্গের জন্ম হয়েছিল। প্রচণ্ড শক্তিশালী মহাজাগতিক বিকিরণ (কসমিক মাইক্রোওয়েভ বা সিএমবি) নিয়েও চলবে আলোচনা।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান আসরের তৃতীয় দিনে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর বেতার তরঙ্গ উদ্ভাবনকে তুলে ধরা হবে। চারশোরও বেশি পড়ুয়ার রেডিও কিট সংগ্রহ করে গড়া হবে তৃতীয় রেকর্ড। ফের মনে করে নেওয়া হবে, বিনা তারে টেলিগ্রাফ যন্ত্রের উদ্ভাবনে দিশা দেখিয়েছিলেন বিশ্বের তিন বিজ্ঞানী। আমেরিকায় লজ্, ইতালিতে মার্কনি ও ভারতের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু।

চতুর্থ তথা শেষ দিনে, ৮ নভেম্বর, ৪০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী দ্বারা গঠিত মানব ক্রোমোজোমের বৃহত্তম মানবিক চিত্র নির্মাণ করে গড়া হবে চতুর্থ বিশ্বরেকর্ডটি। মানব শরীরের মূল নকশা লুকিয়ে রয়েছে যে ক্রোমোজোমে, তার গঠন নিয়ে আলোচনা হবে এ দিন। ক্রোমাটিন প্রোটিনের প্রধান অঙ্গ হিসেবে ডিএনএ-কে আবদ্ধ রাখতে কীভাবে সাহায্য করে হিস্টোন সবিস্তারে জানাবেন বিজ্ঞানীরা। জীববিদ্যার গবেষণায় নিজেদের নতুন চিন্তাভাবনাও তুলে ধরবেন তরুণ বিজ্ঞানীরা।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইআইটি দিল্লিতে প্রথম আইআইএসএফ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে কী ভাবে স্টেম (STEM) অর্থাৎ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিত আমাদের জীবনে উন্নতির জন্যে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে, তাও প্রচার করা শুরু হয় ওই উৎসবের মধ্যে দিয়ে।

সেই বছরেই একসঙ্গে দু’হাজার স্কুলপড়ুয়া দু’টি পরীক্ষা চালিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল ভারতের হয়ে। এবারের চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটিতে সারা দেশের থেকে কমপক্ষে ১২ হাজার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আরও বেশি হবে রেকর্ডের সংখ্যা। এমনকি এই ১২ হাজার পড়ুয়ার সমাবেশটিও পঞ্চম বিশ্বরেকর্ড হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে!

তবে আইআইএসএফ বিশ্বরেকর্ডের ইতিহাস গড়েছে প্রতি বছরই। ২০১৬ সালে ৫৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে সেজেছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মতো। রেকর্ড হিসেবে গৃহীত হয়েছিল সেই উদ্যোগ।

২০১৭ সালে চেন্নাইয়ে বসেছিল বায়োলজির বৃহত্তম পাঠশালা। তামিলনাড়ুর কুড়িটিরও বেশি স্কুল থেকে নবম ও দশম শ্রেণির হাজার জন পড়ুয়া অংশগ্রহণ করে এই আসরে।

২০১৮ সালে লখনৌতে তৈরি হয়েছিল দু’টি রেকর্ড। ডিএনএ আইসোলেশন এক্সপেরিমেন্টে অংশ নিয়েছিল সাড়ে ৫০০ স্কুলপড়ুয়া। বৃহত্তম ফার্স্ট এইড শিক্ষার পাঠে অংশ নিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের তিন হাজারেরও বেশি স্কুলপড়ুয়া।

কবিতা, নাটক, গল্প দিয়ে চর্চা হবে বিজ্ঞানের! বিজ্ঞান উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বিজ্ঞানিকা
অপেক্ষার শেষ প্রহর। রাত পোহালেই মঙ্গলবার থেকে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পঞ্চম ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল (আইআইএসএফ)। কলকাতায় এই প্রথম এত বড় বিজ্ঞান উৎসব আয়োজিত হতে চলেছে।

চার দিন ধরে চলা এই উৎসবের ২৮টি ইভেন্টের মধ্যে অন্যতম ‘বিজ্ঞানিকা’ বা বিজ্ঞান সাহিত্য উৎসব। নাটক, কবিতা, আলোচনা – ইত্যাদির মাধ্যমে বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য আদানপ্রদানের কথা বলবে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মন্ত্রকের বিজ্ঞান প্রসার ও বিজ্ঞান ভারতীর উদ্যোগ বিজ্ঞানিকা। বিজ্ঞানিকারই অংশ হিসেবে আইআইএসএফ-এ তিন দিনব্যাপী একটি বিজ্ঞান বইমেলাও আয়োজিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের ৩০টিরও বেশি প্রকাশনার বই ও পত্রিকা থাকবে তাতে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিশ্ব বিজ্ঞান মন্ত্রক এবং বিজ্ঞান ভারতীর (বিভা) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল বিজ্ঞান উৎসব কলকাতার ছ’টি আলাদা আলাদা জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারকে বেছে নেওয়া হয়েছে অন্তত দেড় হাজার তরুণ বিজ্ঞানীর সম্মেলনের জন্য।

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন সেখানে অনুষ্ঠান উদ্বোধনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। থাকবেন বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি দফতরের সচিব প্রফেসর আশুতোষ শর্মা। সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাসট্রিয়াল রিসার্চের সচিব এবং সিএসআইএার-এর অধিকর্তা ডক্টর শেখর সি মান্ডেও বক্তৃতা রাখবেন উদ্বোধনে। আরও কয়েক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যের মন্ত্রী-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিজ্ঞানী এবং সরকারি আধিকারিকরা এই চার দিনের বিজ্ঞান মেলা বা উৎসবের অংশীদার হবেন।

উদ্বোধনের পরেই শুরু হবে বিজ্ঞান মন্থন (প্যানেল ডিসকাশন), বিজ্ঞান মঞ্চন (নাটক এবং কবিতা), বিজ্ঞান স্পন্দন (বৈজ্ঞানিক আলোচনা) এবং বিজ্ঞান প্রকাশন (বইমেলা)। ৭৫ জন বিজ্ঞান আলোচক, লেখক, গবেষক এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে। এ দেশের তো বটেই, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল ইত্যাদি দেশ থেকে ২০০ জনেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি আসবেন অনুষ্ঠানে।

বিজ্ঞান মন্থন, অর্থাৎ যে চারটি প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হবে, তার থিমগুলি হল সায়েন্স অফ হ্যাপিনেস, কনটেম্পোরারি সায়েন্স লিটরেচার, সায়েন্স কমিউনিকেশন ইন ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়োজেস এবং টকিং সায়েন্স টু দ্য পিপল- চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড সলিউশনস। এই চারটি বিষয় নিয়ে কথা বলবেন মোট ২৭ জন। এর পরের অনুষ্ঠান, বিজ্ঞান স্পন্দনে অর্থাৎ বিজ্ঞান-বিষয়ক আলোচনার থিম সায়েন্স কমিউনিকেশন– ইনোভেটিভ অ্যাপ্রোচেস। বৈজ্ঞানিক ও গবেষকরা ১৪টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনা করবে এই পর্বে।

এই ধরনের আলোচনাভিত্তিক পর্ব ছাড়াও থাকবে বিজ্ঞান বিষয়ক কবিতার আসর। পরিবেশিত হবে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের উপরে নির্মিত একটি নাটক। এছাড়াও থাকবে বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাজিক শো। থাকবে বিজ্ঞান বিষয়ক বিতর্ক সভা। থাকবে বিজ্ঞান বিষয়ক কার্টুন আঁকার প্রতিযোগিতাও।

বিজ্ঞানের মতো একটি নীরস বিষয়কে অন্য রকম পদ্ধতিতে দর্শক শ্রোতাদের কাছে মনোগ্রাহী করে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশেই এই আয়োজন। নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহিত করতেও এই নতুন নতুন পদ্ধতির জুড়ি নেই।বিজ্ঞান চলচ্চিত্রের বিপুল আয়োজনে এসআরএফটিআই।

কলকাতা হল ভারতের বিজ্ঞানচর্চার পীঠস্থান। বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কারের পুরো গবেষণাই হয়েছিল এই কলকাতায়। বিজ্ঞানীদের কথাই ভাবুন, সত‍্যেন্দ্রনাথ বোস, মেঘনাদ সাহা, জগদীশচন্দ্র বসু, প্রশান্তচন্দ্র মহালনবীশ, প্রফুল্লচন্দ্র রায়— সকলেই কলকাতার মানুষ। তাই একটা আন্তর্জাতিক স্তরের বিজ্ঞান উৎসবের জন্য ভারত সরকারের এই বিভাগে কলকাতা কেই বেছে নিয়েছে।

সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই উৎসব প্রসঙ্গে বক্তব্য শুরু করলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান প্রসারের ডিরেক্টর ড: নকুল পরাশর। ভারতের পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসব হবে আগামী ৫-৮ নভেম্বর, কলকাতায়। ২৮টি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ এই উৎসবের একটি বিভাগ, তিনদিনব‍্যাপী বিজ্ঞান বিষয়ক চলচ্চিত্র উৎসব, যা যৌথভাবে বিজ্ঞান প্রসার এবং সত‍্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট আয়োজন করেছএসআরএফটিআই ক‍্যাম্পাসে।

বিশেষ বিভাগের ১১টি ছবি এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত ৩৫টি ছবি থাকছে এই চলচ্চিত্র উৎসবে। তা ছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে থাকছে ৩২টি ভারতীয় ছবি এবং ছাত্রছাত্রীদের তৈরি ২৪টি ছবি। সব ছবিরই মুখ্য বিষয় হবে বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির প্রয়োগে দেশের সাফল্য। এই চলচ্চিত্র উৎসবে থাকবে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের কাহিনীচিত্র— ‘পরমাণু-দি স্টোরি অফ পোখরান’ এবং ‘মিশন মঙ্গল’।

পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের এ বছরের থিম ‘রাইসেন ইন্ডিয়া অর্থাৎ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণায় ভারতের সাফল্য। চলচ্চিত্র উৎসবে সেই ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলা হবে। নামী চলচ্চিত্র পরিচালকদের পাশাপাশি নবীন প্রজন্মের পরিচালকদের ভাবনাকে তুলে ধরা হবে পর্দায়। শর্ট ফিল্ম, ডকুমেন্টারি, ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকারদের তৈরি ছবি বিশেষত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ের উপর অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন, গ্রাফিক্সও থাকবে এই চলচ্চিত্র উৎসবে।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি থাকবে সিম্পোজিয়াম অর্থাৎ ‘প্যাকেজিং সায়েন্স ফর পাবলিক ইন্টারেস্ট’-এর উপর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বক্তাদের আলোচনা, মাস্টারক্লাস।
যে কোনও চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনে এসআরএফটিআই-এর যে উদ্দেশ্য— ‘আসুন, দেখুন, কথা বলুন’, সেই ভাবনাই আগামী ৬-৮ নভেম্বর সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে পঞ্চম আন্তর্জাতির বিজ্ঞান উৎসবে।
সাহিত্যে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের বইমেলা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবে

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক আয়োজিত পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হতে চলেছে আন্তর্জাতিক সায়েন্স লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল বা বিজ্ঞানিকা-র আয়োজিত বইমেলা। বিজ্ঞানের এই উৎসবে নজর কাড়বে বিজ্ঞান বিষয়ক দেশি-বিদেশি লেখকের গবেষণাভিত্তিক বই এবং বিজ্ঞান পত্রিকা। ৩০ জনেরও বেশি প্রকাশক তাঁদের বিজ্ঞানভিত্তিক নানা বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসবেন এই উৎসবে।

বিজ্ঞানের গবেষণায় ভারতের অগ্রগতিকে তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক এবং বিজ্ঞান ভারতীর উদ্যোগে ৫ থেকে ৮ নভেম্বর বিশ্ববঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে বসবে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের আসর। সায়েন্স সিটিতে হবে বিজ্ঞান মেলা ও প্রদর্শনী। পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের এ বছরের থিম ‘রাইসেন ইন্ডিয়া’ অর্থাৎ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ও প্রয়োগভিত্তিক গবেষণায় ভারতের সাফল্য।

৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার এই বইমেলার উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. হর্ষবর্ধন। অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক আশুতোষ শর্মা, কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল শেখর সি মান্ডে।

বিজ্ঞানিকা বা আন্তর্জাতিক সায়েন্স লিটারেচারের মূল উদ্যোক্তা সিএসআইআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন রিসোর্সেস, বিজ্ঞান প্রসার এবং বিজ্ঞান ভারতী। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের উপর জনসাধারণের আগ্রহ তৈরি করতেই এই প্রচেষ্টা বিজ্ঞানিকার। বিজ্ঞানের এই বইমেলার জন্য তাই বেছে নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের আসরকেই। ৫-৮ নভেম্বর চার দিন বিশ্ববঙ্গ কনভেনশন সেন্টারেই আয়োজন করা হবে এই বইমেলার।

মহাকাশ গবেষণা হোক বা জীববিদ্যা, রসায়ন হোক বা পদার্থবিদ্যা—বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের উপর দেশি-বিদেশি লেখকদের বই থাকবে এই বইমেলায়। থাকবে জ্যোতির্পদার্থবিদ্যার নানা বিষয়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক সায়েন্স লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে বিজ্ঞানের নানা শাখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন গবেষকরা। বিজ্ঞানের বাস্তব ও প্রয়োগভিত্তিক বিষয় নিয়ে পেপার প্রেজেন্টেশন করবেন গবেষকরা। ভূমিকা থাকবে তরুণ বিজ্ঞানীদেরও। অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিজ্ঞান বিষয়ের উপর নাটক, কবিতাপাঠ ও ম্যাজিকেরও আয়োজন করা হয়েছে।

নামীদামি প্রকাশকরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক-পড়ুয়ারা তাঁদের গবেষণাপত্র তুলে ধরবেন এই বইমেলায়। তা ছাড়া প্রতিয়োগিতারও আয়োজন করেছে বিজ্ঞানিকা। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে ডিবেট সেশন, গল্প বলার আসরের আয়োজন করা হয়েছে।

MIJANUR

(Visited 25 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here