স্বপ্ন পূরণের লড়াই, টোটো সম্প্রদায়ের দুই ছাত্রী বিজ্ঞানী হতে চায়

মনোজ রায়: এ এক কঠোর বাস্তবের পথে পায়ে হেঁটে স্বপ্ন পূরণের লড়াই। পাহাড়ের কোলে আদিম জনজাতির ছোট এক গ্রাম। মাত্র ১৫৮৫ জন মানুষ এখানে বাস করেন। তাদের মধ্য থেকেই ক্লাস নাইনের প্রিয়া ও ক্লাস টেনের প্রতিমা নামে দুই ছাত্রীর ভাবনা এবার নজর কাড়ল সকলের। তাদের নিয়ে রীতিমতো সাড়া পড়ে গেল জেলাজুড়ে।

ভুটান পাহাড়ের কোলে এই ছোট গ্রামের নাম টোটোপাড়া। লুপ্তপ্রায় টোটো জনজাতির মানুষের বাস এখানে। বাইরে জগতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। পাহাড়ের গায়ে ভুট্টা আর মারুয়া চাষ করেই জীবিকা অর্জন করেন তাঁরা। তিতি, হাউড়ি ও বাংরি এই তিনটি নদী মোট ন’বার পেরিয়ে তবেই পৌঁছোনো যায় টোটোপাড়ায়। টোটো সমাজে এখনও পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন মাত্র পাঁচজন আর মাস্টার্স একজন।

কিন্তু এবার বিজ্ঞান ভাবনায় নজর কাড়ল এই অনুন্নত টোটো সম্প্রদায়ের দুই ছাত্রী প্রিয়া টোটো ও প্রতিমা টোটো। সম্প্রতি জেলাস্তরের বিজ্ঞান কংগ্রেসে তাঁরা জিতে নিল পুরস্কারও। জৈব সার ব্যবহার করে কিভাবে টোটোপাড়ার চাষ আবাদে পরিবর্তন আনা যায় কিংবা কিভাবেই বা স্বাবলম্বী হতে পারে টোটো জনজাতির মানুষেরা, সেই প্রকল্পই আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে হাইস্কুলে আয়োজিত জেলা বিজ্ঞান কংগ্রেসে আসা সকলকে সুন্দর ভাবে টোটো ভাষায় বুঝিয়ে দিল নবম শ্রেণির প্রিয়া টোটো। শুধু তাই নয়, সেই ভাষাকে আবার বাংলা ও ইংরাজিতে ব্যখ্যা করল দশম শ্রেণির প্রতিমা টোটো।

এই জেলা বিজ্ঞান কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন ধনপতি টোটো মেমোরিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিশা ঘোষাল। প্রিয়া ও প্রতিমা জানায়, তারা বিজ্ঞানী হতে চায়। বিজ্ঞান তাদের খুব প্রিয় বিষয়। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে, একমাত্র বিজ্ঞান পড়লেই আমাদের চারপাশের অনেক কিছুই পাল্টে ফেলা সম্ভব হবে। কার্যত এই দুই মেয়ের বিজ্ঞানচিন্তায় এখন রীতিমত অভিভূত গোটা জেলার শিক্ষামহল। আলিপুরদুয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক তপন সিংহ বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার টোটো সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের মধ্যে এই বিজ্ঞান ভাবনার নজির সত্যি আমাদের গর্বিত করছে। ওরাও যে দিন দিন বিজ্ঞান ভাবনায় এগিয়ে যাচ্ছে, তা জেনে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

@মনোজ 

(Visited 19 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here