কমিশনে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়ো হলফনামা! অভিষেককে সমন দিল্লি আদালতের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | September 5, 2019 | 11:02 pm

রক্তিম দাশ,কলকাতাঃনির্বাচন কমিশনে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়ো হলপনামা দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দিল্লি আদালত ফের সমন পাঠালো তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর তা নিয়ে এবার সরব হয়েছে বিরোধিরা।

এই মামলার অভিযোগকারী সর্থক চতুর্বেদী অভিযোগ করেছেন, ‘২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ডহারবার লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যাতার ভুয়ো হলফনামা দিয়েছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০৯ সালে নিজেকে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। এই ঘোষণাটি মিথ্যা কারণ আইআইপিএমের এমবিএ কোর্স ডিগ্রি নয় এবং ইউজিসি বা ভারতের অন্য কোনও প্রতিষ্টান দ্বারা স্বীকৃত নয়।’এই সর্থক চর্তুবেদির আইনজীবী নিরজের দায়ের করা অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,‘অভিষেক ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, যাতে নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থী হিসাবে মিথ্যা ধারণা তৈরি হয় জনমানসে।’

গত ১১ জুলাই এই মামলাটি দিল্লির নিন্ম আদালতে দায়ের করা হয়। ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সমর বিশাল। শুনানিতে বিচারক বলেন,‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা চালাবার  যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে। ফলে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১২৫ এ ধারায়, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে, কমিশন অফ অফেন্স (ভুয়ো হলফনামা জমা দেওয়া) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’ জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৫এ ধারায় এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছ’মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে অভিযুক্তের।কিন্তু শমন পেয়েও আদালতে উপস্থিত না হয়ে অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ্য তাঁকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দেওয়া হোক। এদিন এই মামলায় বিচারক সমর বিশাল অভিষেকের পাঠানো মেডিক্যাল রির্পোট দেখেন। এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখে ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিষেকের আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় কড়া সমলোচনা করেছেন সিপিএম নেতা তথা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। তিনি এদিন বলেন,‘ এরা রাজনীতির কলঙ্ক। এর থেকে দূর্ভাগ্যজনক কিছু হতে পারে না এরাই রাজনীতি করছেন। পিসির দেখানো পথেই চলছে ভাইপো। পিসি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পেয়েছিলেন। ভাইপোও তাই পেয়েছেন।’বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন,‘ উনি পালিয়ে বেড়াতে পারবেন না। আদালতে গিয়ে প্রমাণ করতে হবেই উনার ডিগ্রি ভুয়ো কিনা। আমায় আদালত ডাকলে আমায়ও  যেতে হবে। সংবিধান বা আইনের উর্দ্ধে কেউ নন।’কংগ্রেস নেতা অর্ঘ গণ কটাক্ষ করে বলেন,‘ সততার প্রতীক যে দল তাঁর যুবসভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েই আদালত প্রশ্ন তুলছে। উনি যদি সৎ হন তাহলে ভয়ে কিসের? কেন আদালত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’

 

 

(firoz)

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট