পুজোর স্টলে রেকর্ড টাকার বই বিক্রি করার দাবি সিপিএমের

0
41

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: স্বাধীনতার পর এই প্রথম ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে বামেদের কোনও সদস্য নেই সংসদে। ভোট এসে ঠেকেছে ৭ শতাংশে। ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু এই অবস্থাতেও এ বার পুজোয় বই বিক্রিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিল সিপিএম। সিপিএম নেতাদের দাবি, সারা রাজ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে শারোদৎসবে।

বুকস্টলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু

সিপিএমের নেতৃত্বের কথায়, জেলাগুলি থেকে সমস্ত হিসেব আসতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ হয়ে যায়। তবু এখনও পর্যন্ত যা হিসেব, তাতেই রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে সব থেকে বেশি বই বিক্রি হয়েছে যাদবপুরে। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ‘যাদবপুর এইট বি-র বুক স্টলেই তিন লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নারকেল বাগানের বুক স্টলে বই বিক্রি হয়েছে এক লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার বই। এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে রানিকুঠির স্টল থেকে।’ আর প্রায় সব স্টলেই বিক্রির তালিকায় শীর্ষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নতুন বই, ‘স্বর্গের নীচে মহাবিশৃঙ্খলা।’

বুক স্টলে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিত নজরকাড়া বলে দাবি করে পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘উৎসবের সময়ে তরুণ প্রজন্মের কর্মীরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে বলে এই স্টলগুলিতে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক কর্মীরাই দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু এ বার সারা রাজ্যেই দেখা গিয়েছে বুকস্টলগুলিতে ছাত্র-যুবদের ভিড় ছিল ব্যাপক। কারণ দেশে এবং রাজ্যে যা চলছে, তাতে মানুষের মধ্যে উৎসাহ বাড়ছে বিষয়গুলির গভীরে গিয়ে জানার। সে কারণেই এই জায়গায় পৌঁছেছে বই বিক্রি।’

তবে সিপিএমের দাবি এ বার শুধু বই বিক্রি নয়, বেড়েছে স্টলের সংখ্যাও। ২০০৮-০৯ সালের সময় থেকে যে সমস্ত এলাকায় সিপিএমের স্টলের নাম নিশান দেখা যেত না, সেখানেও এ বার বুক স্টল হয়েছে। উৎসবের সময় দলীয় ব্যানারে বুক স্টল খোলা এ রাজ্যে বামেদের অনেক পুরনো রেওয়াজ। শুধু সিপিএম নয়। আরএসপি, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এমনকী এসইউসি’র মতো দলও যেখানে যেমন শক্তি সেখানে তেমন বইয়ের স্টল করে। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বিভিন্ন পুজো ও উৎসবে বুক স্টল করে সিপিএম এবং তার গণসংগঠনগুলি।

@এস. এ. হামিদ

(Visited 24 times, 1 visits today)