স্থিতিশীল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, আপাতত সংকট কেটে গিয়েছে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | September 7, 2019 | 11:50 pm

অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: স্থিতিশীল রয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আপাতত সংকট কেটে গিয়েছে। দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কথাও বলেছেন চিকি‍ৎসকদের সঙ্গে। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ফুসফুসের সংক্রমণ সারতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তাই তিনি বাড়ি যেতে চাইলেও  হাসপাতালে রেখেই চলবে চিকি‍ৎসা। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকায় শনিবার রাতে ফের তাঁকে এক ইউনিট রক্ত দেওয়া হয়। প্রয়োজন মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সোয়াইনফ্লুর জন্য যে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার রিপোর্টও নেগেটিভ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

শনিবার বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেডিকেল বোর্ডের চিকি‍ৎসক ফুয়াদ হালিম এবং কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, শুক্রবার রাতে যে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। তবে রক্তে কার্বন-ডাই- অক্সাইডের মাত্রা এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। সেই কারণে বাইপ্যাপ ব্যবহার করে তা কমানোর চেষ্টা চলছে। তব চিকি‍ৎসায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ডাক্তাররা জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুটি ফুসফুসেই সংক্রমণ রয়েছে। তার মধ্যে ডানদিকের ফুসফুসটি একটু বেশিই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু এখনই তাঁর সিটিস্ক্যান করা হচ্ছে না। পরে প্রয়োজন হলে সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে, হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে অনিচ্ছুক বুদ্ধবাবু  একটু সুস্থ হতেই বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও চিকিৎসকরা তাঁকে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ না হলে তাঁর বাড়ি ফেরা হবে না।চিকিৎসকদের দাবি, এখনই ছেড়ে দেওয়ার মতো সুস্থ নন বুদ্ধবাবু। তাঁকে আরও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এমনিতে তিনি সহজে হাসপাতালে আসতে চান না। বাড়িতেই চিকিৎসা করিয়ে নিতে চান। সেখানে তাঁকে যখন একবার হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়েছে, শারীরিক অবস্থা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখেই তাঁকে ছাড়া হবে। তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মোটের উপর স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত দুই ইউনিট রক্ত তাঁকে দেওয়া হয়েছে।

 

এর মধ্যেই দলীয় নেতৃত্ব মারফত, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা দেখতে এসে হাসপাতালে ভিড় জমাক, বা হাসপাতালে কোনওরকম অসুবিধা হোক, তা তিনি চান না।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বেশ কয়েকদিন আগে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে তাঁর। শুক্রবার দুপুরে ঘরেই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হওয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষ কেবিনেই এখন আছেন তিনি। রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছিল শুক্রবার। রক্তচাপ ছিল ৭০/৫০। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে, বেড়ে যায় শ্বেতকণিকা। অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। ফলে রক্ত ও অক্সিজেন দিতে হয় বুদ্ধদেববাবুকে। রাতের দিকেই জ্ঞান ফেরে তাঁর।

কৌশিক চক্রবর্তী, ফুয়াদ হালিম, সুনীলবরণ রায়, সৌতিক পাণ্ডা, সোমনাথ মাইতির তত্ত্বাবধানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। তিনি ভর্তি হওয়ার খবর পেতেই হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূর্যকান্ত মিশ্র, মহম্মদ সেলিম, রবীন দেব-সহ বহু সিপিএম নেতা, কর্মী অনেক রাত পর্যন্ত ছিলেন সেখানে। শনিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে যান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ও সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য।

 

 

(firoz)

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট