কেষ্টপুরে পুলিশের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | September 7, 2019 | 11:29 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কলকাতা পুলিশে কর্মরত স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর  দেবাশীষ রায়ের কেষ্টপুরের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ। গতকাল রাতের এই ঘটনায় তার স্ত্রী সাথী রায়ের শরীর ৯০% পুড়ে গিয়েছে। সাথী কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে গতকাল রাতে ত্রিমুর্তি আবাসনের এক তলার ঘরে বিষ্ফোরনের জেরেই আহত হন ওই গৃহবধু। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ওই আবাসনের এক তলার একটি ঘরে বিকট শব্দ শোনা যায়। গৃহকর্তা দেবাশিষ রায় সেই সময়ে ঘরের বাইরে দাড়িয়ে ছিলেন। তার স্ত্রী সাথী রান্নাঘরে রান্না করতে গিয়েছিলেন।  রান্না ঘরে গিয়ে আগুন জ্বালার চেষ্টা করতেই বিকট শব্দ তৈরি হয়।  আওয়াজ শুনে ঘরের বাইরে দাড়িয়ে থাকা দেবাশিষবাবু এবং তার শ্যালক দুজনেই ঘরের ভিতরে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান সাথীর শরীরের অনেকাংশই পুড়ে গিয়েছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ঘরের ভিতরের কোনও অংশেই আর পুড়ে যাওয়ার কোনও চিহ্ন নেই। অথচ দুই কামড়ার ঘর কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। ঘরের দরজা ভেঙে গিয়েছে। শোয়ার এবং খাবার ঘরের আসবাবপত্র, দরজা মাটিতে ভেঙে পড়ে আছে। কিন্তু রান্না ঘরে বিষ্ফোরন ঘটলেও সেখানে খুব বেশী ক্ষতি নেই। রান্না ঘরের চিমনি অবিকৃত ছিল।  দ্রুত স্ত্রীকে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে জান দেবাশিস বাবু।

বাগুইআটি থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গোটা ঘর তারা ভাল করে পরিক্ষা করে। কিন্তু সেখানে বিষ্ফোরনের কোনও কারণ তারা জানতে পারেনি। এমনিক রান্না ঘরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারও একেবারে অবিকৃত ছিল বলেই পুলিশ সূত্রে জানতে পারা গিয়েছে। তাহলে এই বিষ্ফোরন কিভাবে ঘটল তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। এদিকে ওই আবাসনের নিরাপত্তা কর্মি প্রবীরবাবু জানিয়েছেন, “আমাদের আবাসনের সম্পাদক দেবাশিষবাবু। ওই দিন রাতে পাড়ার গণেশ পুজোর ভাসান সেরে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি। পরে আমরা একটা বিকট শব্দ শুনতে পাই। আর তখনই ছুটে গিয়ে দেখি দেবাশিষবাবু তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন।” এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও একই রকমভাবে এই বিষ্ফোরনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি দেবাশিষবাবুর এক ছেলে এবং মেয়ে। দুজনেই দিল্লির নিবাসী। এমনিতে পরিবারের সকল সদস্যরাই খুব মিশুকে ছিলেন। কিন্তু কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়েই প্রশ্ন সকলের মধ্যে। এদিকে বিধাননগর সিটি পুলিশেত তরফে গোটা ঘটনার কারণ জানার জন্য ফরেন্সিক তদন্তকারি দলকে ডেকে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের দাবি ঘরে কোনওভাবে দাহ্য গ্যাস ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই আগুন জ্বালার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে বিষ্ফোরন হয়।

 

 

 

(firoz)

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট