এন আর সির বিরুদ্ধে ১৩ টি বাঙালি সংগঠনের ধরনা দিল্লির যন্তর মন্তরে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | September 6, 2019 | 7:48 am

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত,নিউ দিল্লি : আসামে হওয়া এনআরসি প্রতিবাদে ১৩ টি বাঙালি অরাজনৈতিক সংগঠন বৃহস্পতিবার দিনভর ধর্না কর্মসুচী পালন করল দিল্লির যন্তর মন্তরে । ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় পাঁচ শতাধিক এনআরসি ছুট বাঙালি ।

 

ধরনা মঞ্চ থেকে অল বেঙ্গলি স্টুডেন্ট এন্ড ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি শ্রী চন্দন চ্যাটার্জী এই এনআরসি অ্যাক্টের বিরোধিতা করে বলেন, “খাতায়-কলমে ১৯ লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া না হলেও সংখ্যাটা আসলে ২৬ লক্ষ । যার মধ্যে আছেন ১২ লক্ষ বাঙালি।আমরা এই ১২ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এতদিন ধরে যারা ভারতবর্ষকে নিজের দেশ বলে মেনে এসেছেন, যারা এই দেশকেই মাতৃভূমি ভাবেন ,যারা এই দেশকে কেন্দ্র করেই জীবনের স্বপ্নের জাল বুনেছেন, তাদের আজ হঠাৎ করে দেশ ছেড়ে দিতে বলা হলো। ভিটেমাটি হারিয়ে এরা কোথায় যাবে ?কি ভবিষ্যৎ এদের? সরকার সেই বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করে না জানিয়েই এতগুলো মানুষের জীবনকে একটা প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল । তারপর আবার কারো ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বাবা বা বা কারোর তিন সন্তানের জননী স্ত্রী বা চার ভাইয়ের একমাত্র বোন বা কোন ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বৃদ্ধা মা সংসারের একজন হয়তো নাম ওঠেনি নাগরিক পঞ্জিতে। এইসব পরিবারের একটিমাত্র  মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবে ? কিভাবে বাঁচবে তারা ? তাদের পুরো পরিবার ছেড়ে কোথায় যাবে ? আমাদের প্রতিবাদ এর বিরুদ্ধে ‌।তিনি ভবিষ্যতে বাংলা আসাম এবং ত্রিপুরা নিয়ে জুড়ে আরো বড় আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেন।” অল আসাম বেঙ্গলি ইয়ুথ এবং স্টুডেন্ট ফেডারেশন পক্ষে- দীপক দে প্রচুর নথি প্রদর্শন করে দাবি করেন “বহু মানুষ আছেন যাদের নাম এন আর সি তে বাদ পড়ে গেছে, কিন্তু যাদের বৈধ পরিচয় পত্র এবং নাগরিক অধিকার সমন্বিত প্রমাণপত্র আছে। প্রশ্ন তোলেন যে খেটে খাওয়া মানুষরা দুবেলা মাঠে ঘাটে কাজ করেন বা দিনমজুরি করে সংসার প্রতিপালন করেন তারা কিভাবে এই ট্রাইবুনাল ,হাইকোর্ট ,সুপ্রিম কোর্টের ঝামেলা সামলাবেন। সরকারের উচিত এদের প্রতি আরো বেশি সমবেদনা সম্পন্ন হওয়া ।এবং এই সমস্যার সুসমাধান করা। “অনুষ্ঠানের শেষে মঞ্চ থেকে সংগঠকরা একযোগে ভবিষ্যতে অনেক বড় আন্দোলনের ডাক দেন ।তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যদি এনআরসি সমস্যার আশু সমাধান না হয় ,যদি বাঙালি রা সত্যই বিতাড়িত হন তাহলে সারা দেশ জুড়ে তারা অরাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। সংগঠকরা একযোগে জানান তাদের প্রাণ থাকতে একজনও বাঙালিকে তারা ভারত থেকে বিতাড়িত হতে দেবেন না।

ধরনায় উপস্থিত ছিলেন ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে সদ্য ফেরত  আসা বাঙালী বিমল বৈদ্য।১১ মাস ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকার পর হাইকোর্টের নির্দেশে ভারতীয় নাগরিক বলে প্রতিপন্ন হন তিনি ।এই সময়ে তিনি হারিয়েছেন তার স্ত্রীকে  ।আসামেই জন্ম নেওয়া, সংসারের একমাত্র রোজগেরে কাঠমিস্ত্রি বিমল কে ডিটেনশন ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বিমলের স্ত্রীর। বিমল বৈদ্য যুগশঙ্খ কে জানান ডিটেনশন ক্যাম্পের মর্মান্তিক কাহিনী । বৈধ নাগরিক হওয়া সত্বেও কিভাবে ১১ মাস ডিটেনশন ক্যাম্পে যন্ত্রণা সহ্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন “ডিটেনশন ক্যাম্প বলে আলাদা কিছু নেই ।অপরাধীদের জন্য তৈরি কারাগারে রাখা হয়েছিল তাদের । অপরাধীদের জন্য বরাদ্দ খাবার এবং শোবার জন্য এক হাত জায়গা ও দু’টি কম্বল বরাদ্দ ছিল তার । দিনে ২ বার খাবার দেওয়া হতো। অসুখ হলে ওষুধ মিলতো না ঠিকমত। ফলে তিনি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন । ঠিকমতো কথা বলতে পারতেন না। এখনো হাঁটাচলা করতে পারেন না সাবলীলভাবে।” কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি। বলেন “আমার জন্ম এই দেশে সমস্ত বৈধ কাগজ আমার আছে যা দেখে আসাম হাইকোর্ট আমাকে মুক্তি দিয়েছে । কিন্তু এগারো মাসে এই বিনা অপরাধে হাজতবাস কেড়ে নিয়েছে আমার সংসার । আমি ইএকমাত্র রোজগেরে হবার কারণে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন আমার স্ত্রী। সন্তানদেরও ছন্নছাড়া অবস্থা। একে আমি নেই তারপর ওদের মা মারা যাওয়াতে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া জোটেনি। পড়াশোনা তো দূরস্ত। আমার মতই বহুলোক আজ ডিটেনশন ক্যাম্প এর নামে বন্দী আসামের  কারাগারে। আমার সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ দয়াকরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করুন এবং যাদের বৈধ নাগরিকত্ব আছে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করে আবার জীবন ফিরিয়ে দিন। তা না হলে আমার পরিবারের মতোই বহু ভারতীয়র পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।”

 

(firoz)

 

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট