বাংলা কি জেহাদিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে? প্রশ্ন জিয়াগঞ্জ কাণ্ডে

শংকর দত্ত,কলকাতা: মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের  রোমহর্ষক খুনের ঘটনা কি জেহাদিদের নকশা? একদিকে তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের পুজোয় অঞ্জলি দেওয়ার পর মৌলবাদীদের ফতোয়া, অন্যদিকে সংঘ ও বিজেপির দাবি অনুযায়ী তাঁদের সমর্থক হওয়ার কারণে জিয়াগঞ্জের স্কুল শিক্ষককে স্বপরিবারে হত্যার রূপ রেখাই বলে দেয় বাংলায় মৌলবাদের উত্থান ঘটে গেছে অজান্তেই। স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মা-মাটি সরকারের আমলে কি পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত বেড়ে গেছে? যদিও অতীতে খাগড়াগড় কাণ্ড প্রমাণ করেই দিয়েছে এবঙ্গে জেহাদি কার্যকলাপ বেড়ে গেছে অনেক গুণ। ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গকেও জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য বানাতে চলেছে সুকৌশলে। এখন প্রকৃত তদন্ত হলেই বোঝা যাবে এখানেও না খাগড়াগড় কাণ্ডের মতোই কেঁচো খুঁড়তে সাপ না বেরিয়ে যায়।

শারদ উৎসবের দশমীতেই মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এক প্রাইমারি শিক্ষক সহ তাঁর শিশু সন্তান ও গর্ভবতী স্ত্রীকে ন্যাক্কারজনকভাবে বাড়িতে ঢুকে খুন করা হল। বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর স্ত্রী বিউটি ও সন্তান আর্যকে কারা মারল এই নিয়েই তোলপাড় রাজ্য। খুনের সঠিক কিনারা এখনও হয়নি। ৭২ ঘন্টা কাটলেও গ্রেফতারিও হয়নি কেউ।

শোনা যাচ্ছে বাড়ি থেকে উদ্ধার এক ডায়েরিতে যা লেখা, তাতে তাঁদের পারিবারিক কলহ সামনে উঠে আসছে। তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি এমনকি বন্ধুপ্রকাশের সঙ্গে জমি মাফিয়াদের অতীত ঝামেলার কোথাও নাকি উঠে আসছে। অস্বাভাবিক নয় প্রণয়ঘটিত কারণও। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে যে প্রসঙ্গটি সেটা রাজনৈতিক বিতর্ক।

সংঘ ও বিজেপির দাবি তিনি আরএসএসের লোক এবং বিজেপির সমর্থক। তার পক্ষে তাঁরা জোরালো সওয়াল করছেন। এমনকি উক্ত বিষয়ে মন্তব্য ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং রাজ্যপালও। মন্তব্য করেছেন একদা মমতা ঘনিষ্ঠ বাংলার এক প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক। রাজ্যের এই পরিস্থিতিতে এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়াটাও যে অমূলক নয় সেটা মেনে নিয়েই এক যোগে তৃণমূল-বিজেপির সেটিং তত্বকের দায়ী করেছে কংগ্রেস।

পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে যে তথ্যই তুলে আনুক না কেন,  রাজ্য বিজেপি এমনকি কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতারাও এই হত্যাকাণ্ডে জেহাদিদের যোগই দেখছেন। এটা উগ্র মৌলবাদীদের কাজ বলেই মনে নিচ্ছেন তাঁরা। আর যদি তাঁদের তথ্যই ঠিক হয় তাহলে রাজ্যের মানুষকে আরও ভয়াবহ দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে এটা নিশ্চিত।

যদি বিজেপির দাবিই সত্যি হয়।যদি ভদ্রলোকের অপরাধ এটা হয় যে তিনি আরএসএস করতেন এবং বিজেপিকে সমর্থন করতেন, তাহলে প্রশ্ন উঠে যায় আরও অনেক।

আর চোখকান খোলা রাখলে এটা মেনে নিতেই হয়, এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে এক চরম অরাজকতা চলছে।ঠিক এই ঘটনা না ঘটলেও এর আগেও এমন ঘটনা ঘটে গেছে রাজ্যে।

বস্তুত, পঞ্চায়েত ভোট থেকে শুরু করে,  লোকসভা ভোট কিংবা কোনও উপনির্বাচন প্রতিটা ক্ষেত্রেই রাজ্যের শাসক নিজেদের ক্ষমতা দখলের জন্য যেনতেন প্রকারেণ প্রশাসনকে যাচ্ছেতাই ভাবে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে এটা আজ অন্ধ মানুষও জানেন।

সন্দেশখালি থেকে ভাটপাড়া, কিংবা বসিরহাট থেকে ইসলামপুর যেকোনও ঘটনাতেই সাম্প্রদায়িক উস্কানির গন্ধ পাওয়া গেছে।

শেষমেশ কন্ট্রোল করতে না পেরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছে। আসল ঘটনাকে চেপে দিয়ে অন্য বিষয়কে সামনে আনবার চেষ্টা করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া জিয়াগঞ্জের নারকীয় ঘাটনাকেও তাঁরা আগের মতোই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও এই ঘটনার আসল দোষীদের ধরতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিজেপি সহ অন্যান্য দল গুলিও। তারাও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ দাবি করছেন। কেউ কেউ সিআইডি এমনকি সিবিআই তদন্তেরও পক্ষে মত দিচ্ছেন।

আরএসএস বা বিজেপি করার অপরাধে ধর্ম নিরপেক্ষ রাজ্য হিসাবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে জেহাদিরা বর্বর আক্রমণ করে মেরে শেষ করে দেবে এটাও সহ্য করতে হবে আজ?  এখানে একজন সাংসদ নুসরত জাহান নিজের ইচ্ছায় অঞ্জলি দিতে গিয়ে জেহাদিদের ফতোয়ার মুখে পড়বেন, এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা? এটা কি বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান? যেখানে মুসলিম গ্রামের ওপর দিয়ে দুর্গা প্রতিমা ভাসান গেলে প্রতিমা ভেঙে দেবে কিছু উগ্র মৌলবাদী! সরকার একটা শ্রেণীকে তোষণ করতে করতে আসলে প্রশ্রয় দিচ্ছে মৌলবাদকেই। আসলে এটাই এখন দস্তুর এ রাজ্যে। কিসের উন্মাদনা এদের?  আজ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ ধর্ম নিরপেক্ষ অনেক মুসলিমরাই। তারাই দূরে সরে যাচ্ছেন শাসকের কাছ থেকে। একে অপরের থেকে। আর এই কাজটি দায়িত্ব সহকারে করছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঠিক যখন জিয়াগঞ্জ নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য। ঠিক তখনই তিনি ব্যস্ত রয়েছেন দুর্গা প্রতিমার ভাসান নিয়ে রেড রোডে মহা-কার্নিভালে। যখন রাজ্যের মানুষ মরছে, যেখানে গায়ংগোছ প্রশাসন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, যেখানে অপরাধীদের খুঁজে বের করবার জন্য সাধারণ নাগরিক পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ, তখন রাজ্যের প্রধান কান্ডারি তিন হাজার পুলিশ প্রহরা দিয়ে বিপুল খরচে কার্নিভালে মেতে আছেন। কেউ কেউ বলছেন,  ‘এত রোমে আগুন লাগার সময় নির্লিপ্ত সম্রাট নিরোর বাঁশি বাদনের মতোই ঘটনা।’  ঘটনা যাইহোক, রাজ্যে জেহাদিদের উত্থান যে ঘটেই গেছে তা প্রমাণ করে দিয়েছে সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাতের ওপর মৌলবাদীদের ফতোয়া জারির ঘটনায়। তাই অনেকেরই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গ কি এইবার তালিবানি জঙ্গিদের ঘাঁটি হয়ে উঠছে? নাকি পাকিস্থানি মদতকারীদের আখড়া হয়ে উঠছে?

bipasha

(Visited 192 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here