অত্যাধিক দূষণ থেকে বাড়ছে অ্যালঝাইমার্স

0
18

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আমাদের চারপাশে পরিবেশ দূষণ যে মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এর থেকে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস বা হার্টের ক্যানসার, শ্বাসজনিত নানাবিধ জটিলতা ইত্যাদি হয়। তবে সম্প্রতি হওয়া একটি গবেষণার ফল থেকে জানা গেছে, এই ক্রমশ বেড়ে চলা দূষণের কারণে আগের থেকে মানুষ বেশি বেশি করে অ্যালঝাইমার্স, ডিমেনশিয়ার মতো স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হ্যাঁ, পরিবেশ দূষণ মানবমস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। তবে এই প্রক্রিয়াটা এতটাই ধীরে ধীরে হয় যে সেটা প্রথমাবস্থায় আমরা বুঝতেও পারি না।

সাধারণত চিকিত্সকরা বলে থাকেন অত্যধিক ধূমপান, অ্যালকোহল মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া, সুষম খাবার সময়মতো না খেলে, নিয়মিত ব্যায়াম না করলে অথবা জিনগত কারণে একজন ব্যক্তি স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কয়েকদিন আগে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রোসিডিং অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে বায়ুদূষণের জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করে বাড়ে অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগ। আর অ্যালঝাইমার্সের এখনও পর্যন্ত সেই অর্থে কোনও কপিবুক ˆট্রিটমেন্ট নেই।

উপসর্গভিত্তিক চিকিত্সা ও স্নায়ুর কিছু ওষুধ দিয়ে রোগীকে সাময়িকভাবে সুস্থ রাখা যায়, তবে তাতে খুব একটা লাভ কিছু হয় না। সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাযুরোগ বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, বায়ুদূষণের মধ্যে সবসময়েই থাকতে থাকতে মানুষের হার্টের রোগ ও হাঁপানির পাশাপাশি মস্তিষ্কেরও ক্ষতি হচ্ছে। আসলে এই দূষণের ফলে আমাদের শরীর এমন কিছু ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে আসে যাতে নিউরোন মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজটা ধীর গতিতে করে।

বেশ কয়েকটি কেসস্টাডি থেকে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে স্নায়ু এতটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয় যে তথ্য আদান প্রদানে অংশ নিতেই পারে না। এর জন্য মূলত দায়ী আমাদের চারপাশের পরিবহন থেকে বের হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইেˆট্রাজেন-ডাই-অক্সাইড, পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম), সালফার ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ যা সূর্যে অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি করে ক্ষতিকর ওজোন গ্যাস। আর এই পার্টিকুলেট ম্যাটার এতটাই সুক্ষ আর ছোট যে তাকে খালি চোখে তো দেখাই যায় না, উপরন্তু এটা শ্বাসনালী দিয়ে সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে যায়। এটা ক্রমশ ফুসফুসে জমতে জমতে ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)-র সমস্যা হয়।

এর দরুন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফুসফুসের কাজকর্ম। ফুসফুসের অ্যালভিওলাই শুকিয়ে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় শরীরে। আর এই উপাদানটির জন্যই ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিউরোনের সক্রিয়তাও ব্যাহত হয়। আর নিউরোন মস্তিষ্কে ঠিকমতো সিগনাল পৌঁছতে না পারলে মানুষের স্মৃতিভ্রংশ রোগও হবে। কাজেই বায়ুদূষণ না কমাতে পারলে ভবিষ্যতে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে সেই বিষয়েও চিকিত্সকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়েছেন।

sweta

 

(Visited 6 times, 1 visits today)