ExclusiveReader's Choiceব্লগ

নিরুত্তাপ অযোধ্যা! বাবরি ভাঙার ২৭ বছর পর স্মৃতি রোমন্থন করসেবকদের

রক্তিম দাশ, অযোধ্যা: কলকাতা থেকে দুন এক্সপ্রেস প্রায় ২ঘণ্টা লেট করে বিকাল ৪টা অযোধ্যা স্টেশনে পৌঁছল। আর পাঁচটা দেশের প্রাচীন শহরের মতো রামলালার শহর অযোধ্যা। অপরিসর রাস্তা দিয়ে অটো করেই এই ছোট্ট শহরে ঘুরে বেড়ানো যায়। রাস্তার মোড়ে পুলিশ থাকলেও তারা ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে। সারা দেশ জুড়ে যখন আগামিকাল ৬ ডিসেম্বর শোক বা উৎসব পালিত হবে ঠিক তার আগের দিনটিতেই কিরকম যেন নিরুত্তাপ এই শহর।
অটোর চালক পঙ্কজ বলেছিলেন, ‘প্রতিবছরই এরকমই থাকে অযোধ্যা। আলাদা করে কিছু হয় না। কোনও অশান্তিও হয়নি কখনও।’ রাম জন্মভুমি মামলায় রায় তাঁদের পক্ষে গেলেও বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান করছেন না তাঁরা এমনটাই জানালেন বিশ্ব হিন্দুপরিষদের বীরেন্দ্র বর্মা।
অযোধ্যা করসেবকপুরমে দায়িত্বে থাকা বীরেন্দ্র বর্মা বললেন,‘ শুক্রবার সন্ধ্যায় এখানে প্রতিটি হিন্দুর ঘরে প্রদীপ জ্বালানো হবে রাম মন্দির গড়ার শপথে।’

এই নিরুত্তাপ কেন অযোধ্যা?

তার জবাব মিলল  রামজন্মভুমি মামলায়  রামলালার প্রতিনিধি এবং করসেবকপুরমে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ কার্যকর্তা  ত্রিলোকিনাথ পাণ্ডের কথায়। তিনি বললেন,‘ এই রায় অযোধ্যার হিন্দু-মুসলিম সবাই খুশি। এখন আর এই নিয়ে কোনও গুরুত্ব নেই। ঝগড়াও নেই। এটা হিন্দু বা মুসলিমের বিষয় নয়। বাবর যে বিজয়স্তম্ভ বানিয়েছিল তা লোকে ভেঙে দিয়েছি ৫০০ বছর পর। বাবরি  কোনও  উপসনার স্থান ছিল না। দুভার্গ্য মুসলিমরা বাবরকে হিরো মানত তাই এই বিবাদ। সুপ্রিম কোর্টের রায় এখানকার হিন্দু-মুসলিম সবাই মেনে নিয়েছে।’

৬ ডিসেম্বর ৯২ এর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ত্রিলোকিনাথ পাণ্ডে। সেই দিনটি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন,‘ করসেবার দিন ঠিক হয়েছিল ওই বছর ৯ নভেম্বর।  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও অযোধ্যার সন্তদের কাছে বিষয়টি ফয়সালা করার জন্য চার মাস সময় চেয়েছিলেন।  কিন্তু  তিনি তা করেননি। সবার মনে রাগ ছিল। ৬ ডিসেম্বর করসেবার ডাক দেওয়া হল ফের। ওই দিন প্রশাসন প্রথমে বাধা দিলে পরে তারাও হাল ছেড়ে দেয়। করসেবকরা হাতুড়ি-গাইতি ছাড়াই ভেঙে দিল সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে।’
বাবরি এর আগেও একবার ভাঙা হয়েছিল দাবি করে ত্রিলোকিনাথ পাণ্ডে। তিনি বলেন,‘ ১৯৩৪ সালে গোহত্যা কেন্দ্র করে সন্তরা ক্ষেপে গিয়ে বাবরি গম্বুজ ভেঙে দেন। পরে ইংরেজ সরকার তা আবার মজবুত করে বানিয়ে দেয়।’
এদিন ধর্মস্থান আইনের উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ আমাদের দেশে ধর্মস্থান আইনে বলা আছে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত যেখানে যে ধর্মস্থান আছে তাকে সেই ভাবেই রাখতে হবে। কিন্তু এটা কিন্তু বাবরির উল্লেখ নেই। তার মানে প্রথম থেকেই এই স্থান রাম জন্মভুমি হিসাবে স্বীকৃত। ভারতে হিন্দু অনেক ধর্মীয় স্থান ভেঙে ফেলে মসজিদ মাজার বানানো হয়েছে। এসবের পুনরুদ্ধারের জন্য এই আইন বাতিল করা হোক এটা আমাদের দাবি।’

করসেবকপুরমে দেখা মিলল প্রাক্তণ বজরং দলের কলকাতার আহ্বায়ক বীরবাহাদুর সিংয়ের  সঙ্গে। বাবরি ভাঙার দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন অযোধ্যায়। প্রতিবছরই এই দিনটিতে আসেন এখানে।

তিনি বললেন,‘ আমরা বজরং দলের থেকে ৪ ডিসেম্বরই চলে এসেছিলাম। ৬ তারিখ সকালে আদবানিজির সভা হচ্ছিল। ওই সভায় বলা হচ্ছিল আমরা প্রতীকি করসেবা করে ফিওে যাব। একথায় সভায় থাকা করসেবকরা উত্তেজিত হয়ে যায়। তারা বাবরির দিকে চলে যায়। পুলিশ প্রাথমিক বাধা দিলেও পরে সরে আসে।

‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিয়ে কয়েক হাজার করসেবকের সঙ্গে আমি আর বাংলা থেকে আসা বজরং দলের সদস্যরা  ভাঙা শুরু করি। সবাই মিলে বাবরির দেওয়ালে আঘাত করতে থাকি। পুরনো চুন-সুড়কির চার ঘণ্টার মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সন্ধায় সরজু নদীতে স্নান করে আমরা রামলালার পুজো করি। পরের দিন শুনি চারদিকে কার্ফু হয়ে গিয়েছে। পুলিশ আমাদের নিয়ে ট্রেনে তুলে দেয়। আজ খুব ভালো লাগছে সেদিন দেশের এক কলঙ্কময় অধ্যায়কে সরাতে পেরেছি বলে।’

bipasha

 

 

 

 

 

(Visited 50 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close