Lead Newsপশ্চিমবঙ্গ

আচার্য – বিশ্ববিদ্যালয় সংঘাত চরমে, ‘উপাচার্য পরিষদ’ গড়লেন উপাচার্যরা 

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যপাল তথা আচার্যের বৈঠক এড়ানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই উপাচার্যরা তৈরি করলেন ‘উপাচার্য পরিষদ’। মঙ্গলবার এই পরিষদ গঠনের কথা ঘোষণা করেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু, আচার্য জগদীপ ধনকরের আমন্ত্রণ নিয়ে কোনও কথা জানানো হয়নি। যা নিয়ে আচার্য-বিশ্ববিদ্যালয় সংঘাত চরমে উঠল বলে মনে করছে শিক্ষামহল।

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির দাবি-দাওয়া নিয়ে সমন্বয় বজায় রাখতেই এই পরিষদ গঠনের উদ্দেশ্য বলে জানা গিয়েছে। এই উপাচার্য পরিষদের সভাপতি হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস ও সহ সভাপতি হয়েছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী।

আরও পড়ুন: ‘কাগজ আমরা দেখাব না’…… এনআরসি ও সিএএ-র বয়কটের ডাক দিলেন টলি তারকারা

আচার্য-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাত অন্য মাত্রায় পৌঁছয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পেরেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠক বসার ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যপাল। সেই অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি অর্থাৎ সোমবার রাজভবনে উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনও উপাচার্যের দেখা মেলেনি। এরইমাঝে, বিভিন্ন সময় রাজ্যপাল ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে উপাচার্যরা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে কাজ করছেন।

এ দিন নাম না করে সুবীরেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করছি। রাজ্য সরকার কোনওভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ধারণা মেনেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছি।’

এ দিন অবশ্য রাজভবনের ডাকা বৈঠকে উপাচার্যদের অনুপস্থিতি নিয়ে ফের মুখ খুলেছেন রাজ্যপাল। তাঁর মন্তব্য, ‘আসলে উপাচার্যরা ভয় পাচ্ছেন। আমি জানি কিসের ভয় তাঁরা পাচ্ছেন।’ এদিন রাজ্যপাল এও বলেন, ‘বন্দি করা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইট ধরে-ধরে ধ্বংস করা হচ্ছে। সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগে বাধ্য করছে এই সরকার।’

আরও পড়ুন: আচার্যকে এড়িয়ে তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে উপাচার্যরা, বিতর্ক

যদিও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বক্তব্য,’আমাদের ওপরে কোনও চাপ নেই। আমরা নিরপেক্ষ ভাবেই কাজ করছি।’ শিক্ষামন্ত্রীও একই মত পোষণ করে জানিয়েছেন, ‘রাজ্যপাল একের পর এক বিষয়ে এহেন মন্তব্য দুঃখজনক। তবে আমরা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ন্ত্রণ করি না। আমাদের সাহায্য লাগে। আমরা রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তা করি।’

ইতিমধ্যেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আচার্যের ক্ষমতা খর্ব করে নতুন বিধি তৈরি করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। এ বার উপাচার্যরা ‘পরিষদ’ তৈরি করে আচার্যকে আরও চাপে ফেলতে চাইছেন বলে ব্যাখ্যা শিক্ষামহলের। ফলে, আচার্য- বিশ্ববিদ্যালয় সংঘাতে এখন নতুন মোড়।

@এস. এ. হামিদ

(Visited 18 times, 1 visits today)

Related Articles

Back to top button
Close
Close