বেহাল জাতীয় সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও যানজট

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 8, 2019 | 5:02 pm

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাটঃ খানাখন্দে ভরা রাস্তা। তার উপর বৃষ্টিতে অবস্থা আরও শোচনীয়। কারণ গর্তের গভীরতা বোঝার উপায় থাকে না। দীর্ঘদিনের সমস্যা ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর রামপুরহাট মাড়গ্রাম মোড়ের রাস্তার ছবিটা বদলায়নি আজও। এলাকার মানুষের অভিযোগ, রাস্তার এমন শোচনীয় দশা, কিন্তু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কোন নজরই নেই। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, রাস্তার খারাপ অবস্থা নিয়ে তাঁরা ওয়াকিবহাল। শীঘ্রই মেরামতির কাজ শুরু হয়ে যাবে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় দুই দশক আগেপানাগর – মোড়গ্রাম  ১৬০ কিলোমিটার রাস্তা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ নিজেদের অধীনে নিয়ে ডবল লেনের রাস্তা করে। পরে সেই রাস্তা রানীগঞ্জ – মোড়গ্রাম হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু রাস্তার উদ্বোধন করেন। কিন্তু কয়েক বছর যেতেই রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা দেখা যায়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষে তত্ত্বাবধানে রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু তা সাময়িক। কিছুদিন কাটতেই রাস্তার পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। খানাখন্দের পথে বিপদের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। চলছে বাস, ট্রেকার থেকে ভ্যানরিকশা, মোটরবাইক, ট্রাক সব। ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাস্তায় বড় গর্তের জেরে প্রবল যানজটে দিনভর ভোগান্তি নিত্যদিনের ঘটনা নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে ট্রাক চালকদের।

স্থানীয়দের দাবি নামকে ওয়াস্তে গর্ত পাথর দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। বিশেষ করে রামপুরহাট শহরের চামড়া গুদাম মোড়ের অবস্থা ভয়াবহ। কারন জায়গাটি হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। চামড়া গুদাম মোড়ে জাতীয় সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার শ্যামসুন্দর পাল বলেন, “চার মাথা ওই মোড়ে এক দিকে চলে গিয়েছে মাড়গ্রাম, বিষ্ণুপুর হয়ে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, কান্দি। উল্টো দিকে শহরে ঢোকার প্রধান রাস্তা। পাশেই রয়েছে শহরের একমাত্র বাস স্ট্যান্ড। ওই খানাখন্দ পেরিয়ে যেতে হয় স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে অফিস যাত্রীদের। রাস্তার মাঝে গর্ত থাকায় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। সৃষ্টি হয় যানজটের। গর্তে যানবাহনের চাকা পড়ে যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে সড়কের মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকছে যানবাহনগুলি। গর্তগুলি এড়াতে গিয়ে বেপরোয়া ভাবে চলছে যানবাহনগুলি। ছোটখাটো চারচাকা গাড়ি প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে”। ট্রাফিক পুলিসের এক কর্তা বলেন, বেশ কয়েকবার গর্ত ভরাটের জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। হচ্ছে হবে আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলেনি। স্কুল ছাত্রী দিলরুবা খাতুন, ছাত্র দীপক দাসরা বলে, “বেহাল রাস্তার কারনে যানবাহনগুলি যেভাবে চলছে তাতে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে ভয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটি মেরামত করায় খুব অল্প দিনেই বেহাল হয়ে পড়েছে। তার উপরে ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ছে”।  তৃণমূলের নলহাটি ২ ব্লকের কার্যকরি সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “প্রথম থেকেই এই সড়কের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় এই অবস্থা। রাস্তা নতুন ভাবে নির্মাণ না করলে দুর্ভোগ কমবে না”।

 

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট