Lead NewsSlideTop Newsকলকাতা

২০ বছরের যাত্রাপথে দোহার, আজ সন্ধ্যায় কলকাতার শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠান

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:    ‘দোহারে বন্দে সুর তাল ছন্দে’….
৭ আগস্ট দোহার – গানের দল উদযাপন করতে চলেছে তার ২০ বছরের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় শিশির মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান, দোহার ২০। এই পথ চলার মধ্যে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েও দোহার সাথে অবিচ্ছন্ন ভাবে জড়িয়ে থাকবে কালিকাপ্রসাদ।
একমুখ হাসিওয়ালা এক মানুষ। গানের সঙ্গেই ঘর বাঁধা। গানই জীবন। বাউলফকিরদের হারিয়ে যাওয়া গানের শিকড় ছিলেন কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর গানে ছিল যেন গ্রাম বাংলার মাটির গন্ধ, ছিল মন ভুলানো গানের সুর এবং আদি বাংলার ছোঁয়া। বুঝিয়ে দিচ্ছেন, মাটির সঙ্গে সংস্কৃতির সংযোগ। বলছেন, গানের ইতিহাস, সংগ্রহের গল্প, যাপনের লোকশিল্প। জীবনের সুর-ছন্দ-তাল।
তিনি বিশ্বাস করতেন ‘দোহার’ ব্যান্ড নয়। ‘গানের দল’। ‘লোকগানের দল’।
শুধুমাত্র বাহারি অনুষ্ঠান নয়, লোকগান নিয়ে আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজকরা একটা আলাদা অস্তিত্ব তৈরি করতে চাইছেন। কুড়ি বছর আগের দোহার আজকের দোহার মধ্যে শুধু কালের ব্যবধান। বদলে গিয়েছে ‘দোহারে’র দর্শক। গানের তালে তালে, ঢোলের ছন্দে ছন্দে মাতিয়ে রেখেছেন।
যাত্রাপথটা তেমন মসৃণ ছিল না বলাই যায়। ১৯৯৯ সালে জন্ম ‘দোহার’। ৭ অগাস্ট কলকাতার কলেজস্ট্রিট গোলদিঘির পাশে স্টুডেন্টস হলে কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটা ছোট্ট ঘরোয়া আসরে জন্ম নিয়েছিল দোহার। সঙ্গী ছিলেন রাজীব। উদ্দেশ্য ছিলো কালিকাপ্রসাদের এক কাকা অনন্ত ভট্টাচার্যকে তারই সংগৃহীত গানের ডালি দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অভীক মজুমদার দিয়েছিলেন দোহার নামটি। সেদিন একের পর এক ভাটিয়ালি, জারি, সারি, গাজন, মনসা মঙ্গল, ধামাইল ইত্যাদি পূর্ববঙ্গের শ্রীহট্ট অঞ্চলের গানে আসর মাত করে দিয়েছিল দোহার। অনুষ্ঠানের শেষে গামছা পেতে চাওয়া হয়েছিলো সেই অনুষ্ঠানের জন্যে আর্থিক সাহায্য।
খরচের অনেক বেশি টাকা উঠে এসেছিলো সেদিন। তারপরে দূরদর্শনে এলো ডাক। বন্ধু- বান্ধবের উস্কানিতে শিশির মঞ্চে আয়োজন করা হলো দোহারের প্রথম একক অনুষ্ঠান। একে একে নানা ওঠা-পড়া, আলো-আঁধার, সুখ-দুঃখের মাঝে কেটে গেছে কুড়িটা বছর। সেই দোহার আজ একটি মঞ্চসফল লোকগানের দল। দেশবিদেশে অবিভক্ত বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রদর্শনের পাশাপাশি নানা লোকশিল্প ও শিল্পীকে সর্বসমক্ষে তুলে আনা অথবা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে থাকছে দোহারের কুড়ি বছরের আড্ডা। আর দ্বিতীয় পর্বে থাকছে বাংলার নানা উৎসব-পালা-পার্বণের নৃত্য-গীত সম্বলিত উৎসব-পরবের গীতি কথা -“বাংলার মুখ”। এতে বর্ধিত দোহার পরিবারের প্রায় ২৫ জন কলা-কুশলী অংশগ্রহন করবে। এই গীতি-কথা ভারতের অন্যান্য শহরে দু-একবার হলেও কলকাতায় হচ্ছে প্রথমবার।

(Visited 19 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close