বিজেপি কর্মীকে অপহরণ, অভিযুক্ত তৃণমূল

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 13, 2019 | 7:57 pm
আক্রান্ত বিজেপি কর্মী

মন্তেশ্বরে বিজেপি কর্মীকে অপহরণ করে খুনের চেষ্টায় নাম জড়ালো তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের

পূর্ব বর্ধমান: বিজেপি করার অপরাধে এক বিজেপি কর্মীকে অপহরণ করে তাঁকে বেদম প্রহার ও খুনের চেষ্টার ঘটনায় নাম জড়ালো তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্যের। ঝন্টু সেখ নামে ওই বিজেপি কর্মীকে পুলিশ উদ্ধার করে মন্তেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপরেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কালনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিজেপি নেতৃত্ব ও ঝন্টুর পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির এই অভিযোগ মিথ্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ঝন্টু সেখ নামে ওই বিজেপি কর্মীকে বেশ কয়েকজন মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম বাজার থেকে পাশের তেঁতুলিয়া এলাকায় বাইক বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। আর এই ঘটনায় অভিযোগে নাম উঠে এসেছে তৃণমূল নেতা তথা মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কানু সেখের। এরপর মন্তেশ্বর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তেঁতুলিয়া এলাকা থেকে ঝন্টু সেখকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মন্তেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এরপর তাকে কালনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই বিষয়ে ঝন্টু সেখ কালনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, ‘শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ কুসুমগ্রাম বাজারে তৃণমূল নেতা কানু সেখ ও তার সঙ্গে থাকা বাইক বাহিনী আমাকে আহম্মদ সেখের নাম করে ব্লক অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। আমি যেতে না চাইলে ওরা আমাকে জনসমাগম এলাকা থেকেই অপহরণ করে নিয়ে যায় তেঁতুলিয়া এলাকায়। এরপরেই আমাকে বন্দুক দিয়ে ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করে আর বলে বিজেপি দল ছাড়তে হবে। পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।’ ঘন্টা তিনেক ধরে চেষ্টার পর ওই বিজেপি কর্মীকে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঝন্টু সেখ আরও জানায় যে, ‘আমাদের বাড়ি তেঁতুলিয়া এলাকাতেই। গ্রাম্য বিবাদের জেরে আমরা প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে ঘরছাড়া। ধেনুয়া গ্রামে থাকি। একসময়ে আমরা সিপিএম করতাম এখন বিজেপি করি। আর সেই কারণেই তৃণমূলের সদস্য কানু সেখের নেতৃত্বে দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যদিও এই ঘটনার পর জানা যায় যে আহম্মদ সেখের নাম করে ওই তৃণমূল নেতা ঝন্টুকে তুলে নিয়ে যায় সেই আহম্মদবাবু মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি পদে রয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি।

এই বিষয়ে জেলা বিজেপির সহ সভাপতি ধনঞ্জয় হালদার ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ পোদ্দার বলেন, ‘বিজেপি করার অপরাধে আমাদের কর্মীকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরা না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।’ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আজিজুল হক সেখ বলেন, ‘তৃণমূলের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই এই ঘটনার। বিজেপির অভিযোগ মিথ্যা।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *