Lead NewsSlideTop Newsপশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূলের বুথ সভাপতি নৃশংসভাবে খুন মালদায়

মিল্টন পাল, মালদা: তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। সোমবার রাত্রিবেলা ঘটনাটি ঘটেছে মালদার গাজোল থানার মাজরা অঞ্চলে। যদিও ঘটনাটি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জের বলে দাবি বিজেপির। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মৃতের নাম প্রদীপ রায়(৪২) বাড়ি মাজরা এলাকায়। তিনি তৃণমূলের বিবেকানন্দ বুথের সভাপতি। তার আত্মীয় ভুপেন রায় জানান, এদিন তার শ্বশুড় বাড়িতে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তাদের আত্মীয় প্রদীপ। হঠাৎ শব্দ শুনতে পায় তারা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখেন মোটরবাইক পড়ে রয়েছে। বাইকের কাছে যেতেই রক্তাক্ত অবস্থায় প্রদীপকে পরে থাকতে দেখেন। অভিযোগ দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে প্রদীপকে ফেলে দিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে প্রদীপকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাতিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর গাজোল থানায় খবর দিলে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ঘটনায় গাজোলের তৃণমূল নেতার রঞ্জিত বিশ্বাসের অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি মাজরা এলাকায় সন্ত্রাস শুরু করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা ওই এলাকায় সন্ত্রাস করেছিল। প্রদীপ একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির মালদা জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা সরকার বলেন, মালদা জেলায় রাজনৈতিক খুনখারাপি সেরকম কালচার নেই। যতটা জানি এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগাযোগ নেই। প্রদীপ গ্যারেজ মিস্ত্রী ছিলেন। কোন ব্যক্তিগত ঝামেলা বা অর্থ সংক্রান্ত লেনদেনের জেরেই এই খুন বলে মনে করি। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদিও এই ঘটনার পর পুলিশ মিথ্যে মামলায় তৃণমূল কর্মীদের জড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির ওপর দোষ দিয়ে অতিরঞ্জিত করতে চাইছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাত্রিবেলায় এক বিজেপি কর্মীকে আটক করেছে গাজোল থানার পুলিশ। পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ মালদা মেডিক্যালে পাঠিয়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই যাতে নতুন করে অশান্তি না হয় সে কারণেই এলাকায় পুলিশি টহল দিচ্ছে।

(Visited 4 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close