Top Newsদেশ

‘সময়, অর্থ ও শক্তি বেঁচে গেল’! তেলেঙ্গানা এনকাউন্টার প্রতিক্রিয়া তসলিমার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  হায়দারবাদ কান্ডে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তদন্তের জন্য ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার কাজ করছিল পুলিশ। সেখানেই পুলিশের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয় তারা, এবং পলায়ন করতে চায়। সেই সময়েই পালটা গুলি চালিয়ে চারজনকে খতম করে পুলিশ।

সব ঠিক আছে, কিন্তু আসলেই কি এনকাউন্টার অথবা ফাঁসি, শাস্তি দিয়ে নারী নির্যাতন বন্ধ করা যাবে? নারী-পুরুষের সমানাধিকারের বিশ্বাস না করা, নারী নির্যাতন করা, এসবের গোঁড়াটা কোথায়? বারবারই তসলিমা নাসরিন সে কথা বলে আসছেন। আজ ফের টুইটারে পোস্ট করেন তিনি।

এ বিষয়ে তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেন,  “বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। ভারতে আজ পুলিশি এনকাউন্টারে ৪ জন ধর্ষক এবং খুনি নিহত হয়েছে। সময়, অর্থ ও শক্তি সবই বেঁচে গেল! এক দিক থেকে এটি ভাল, তবে আদৌ এটি কি ভাল?” লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, পুরুষতন্ত্র যতদিন না বিলুপ্ত হচ্ছে সমাজ থেকে, ততদিন শাস্তিতে কিছু হবে না।

“ধর্ষকেরা ফাঁসিকে ভয় পায় কে বলেছে? অপরাধীরা অপরাধ করার সময় এ কথাটা গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে তারা ধরা পড়বে না। হায়দারাবাদের ধর্ষকরাও তা মনে করেছে। তাই পুড়িয়ে এমনভাবে ছাই করে ফেলেছে প্রিয়াংকাকে, যেন কেউ তাকে চিনতে না পারে। তাকে চিনতে না পারলেই, তাদের বিশ্বাস, তারা দিব্যি বেঁচে যাবে। প্রশ্ন হলো, কেন তারা মনে করে তারা ধরা পড়বে না! মনে করে, কারণ এমন ঘটনা অহরহই ঘটে যে অপরাধীরা ধরা পড়ে না। জনতার ভিড়ে অপরাধীরা মিশে যায়। প্রমাণ ছাই করে দিয়ে অর্থাত্‍ নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে হায়দারাবাদের ধর্ষকরাও দিব্যি বেঁচে থাকতে চেয়েছিল।

দিল্লির বাসে গণধর্ষণের ঘটনা শুধু ভারতবর্ষেরই নয়, পৃথিবীর বহু দেশের মানুষকে কাঁপিয়েছে। ধর্ষকদের ফাঁসি হলো, কিন্তু ধর্ষণের সংখ্যা সমাজে সংসারে মোটেও কমেনি। মানুষ আর কত রাস্তায় নামবে প্ল্যাকার্ড পোস্টার হাতে, কতদিন আর চিৎকার করবে, এবং যথারীতি কেউ শুনবে না।

কয়েকজনকে আমি গত দুদিন বলতে শুনেছি, ‘কী পোশাক পরেছিল প্রিয়াংকা সেদিন?’ মনে হলো প্রিয়াংকার পোশাক দেখেই তারা বুঝে নেবে প্রিয়াংকা নিজে ধর্ষণকে ডেকে এনেছে কিনা। অর্থাত্‍ প্রিয়াংকাই দায়ী কিনা তার ধর্ষণ আর মৃত্যুর জন্য। গবেষকরা এত যে বলছেন, পোশাক কোনও কারণ নয় ধর্ষণের। তারপরও কারও বোধোদয় হয় না। এত যে বলা হচ্ছে ধর্ষণ কোনও যৌনসংগম নয়, এটি বর্বরতা, এটি বীভত্‍স নারী নির্যাতন. তারপরও মানুষ এটিকে যৌনসংগমই ভেবে নেয়। কয়েকজনকে এও বলতে শুনেছি পুরুষেরা যেন গণিকালয়ে গিয়ে যৌনক্ষুধা মেটায়, যেন ‘ভদ্র মেয়েদের’ রেহাই দেয়। আসলে গণিকালয়ে যারা যায়, তারা গণিকালয়ের মেয়েদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করতে শিখে যায়, জেনে যায় এটি আইনত বৈধ। তারা কিন্তু সমাজের সব মেয়েকেই চেতনে-অবচেতনে যৌনবস্তু বা যৌনদাসী বলেই ভাবতে শুরু করে।

তনুর কথা মনে আছে? তনু নামের একটি উনিশ বছরের মেয়েকে কুমিল্লায় গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। তনুর হিজাব তনুকে ধর্ষণ থেকে বা খুন হওয়া থেকে বাঁচাতে পারেনি। পুরুষ যখন মেয়েদের নির্যাতন করে, তারা মেয়েদের পোশাক দেখে করে না। তারা মনে করে নির্যাতন করার অধিকার তাদের আছে, সে কারণেই করে নির্যাতন। সভ্য সমাজে পুরুষরা, নারী যে পোশাকই পরুক না কেন, নারীকে যৌন হেনস্তা করে না। ধর্ষণের একমাত্র কারণ পুরুষতন্ত্র। এই বিষকে সমাজ থেকে উপড়ে ফেলার জন্যে বাড়ি থেকে, বিদ্যালয় থেকে পুত্র সন্তানকে শিক্ষা দিতে হবে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের।

(shreyashree)

 

 

 

 

 

 

 

(Visited 26 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close