মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে বৃষ্টি নেই, জাঁক দিতে পারছেন না পাটচাষীরা 

কৌশিক অধিকারী, বহরমপুর: মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে এবং বিহারে অতিবৃষ্টির ফলে যখন বন্যার কবলে মানুষ তখন পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি না হওয়ার ফলে পাট চাষী দের মাথায় হাত। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন ব্লকে পাটচাষীরা বৃষ্টি না হওয়ার ফলে ভাল জাঁক দিতে পারছেন না ফলে এই বছর মাথায় হাত পাট চাষীদের। জেলার বহরমপুর, হরিহরপাড়া, নবগ্রাম, কান্দি ও খড়গ্রাম সহ বিভিন্ন ব্লক পাট চাষ করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম অর্থকারী ফশল পাট চাষ, এই পাট চাষ উপর নির্ভর করে জেলার বহু মানুষ। তবে এই বছর বেশি বৃষ্টি না হওয়ার জেরে পাট চাষে জাঁক দিতে পাচ্ছেন না, এমনকি ছোট ডোবা ও ক্যানাল এবং বিলে জল কম থাকা জেরে পাট চাষ ভালো ফলন করতে পারছেন না পাট চাষীরা ফলে ন্যায্য দাম পাবেন না বলে চিন্তিত সাধারণ চাষিরা। পাট চাষীদের এখন একটাই দাবি অন্তত পক্ষে আরো একটু বৃষ্টি হোক। যদিও অন্যান্য বছর শ্রাবণ ভাদ্র মাসে অকাল বর্ষন হয় ফলে ফলন হয় ভালো দাম পান পাট চাষীরা। যদিও ব্যাতিক্রম এই বছর ন্যায্য পাট চাষ দাম না পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাসের এক তারিখ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের গড় বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা প্রায় ৫৯৮ মিলিমিটার। কিন্তু সেখানে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৮২ মিলিমিটার। প্রায় ১৯ শতাংশ বৃষ্টিপাতের এখনও ঘাটতি রয়েছে। খাল, বিল, নয়ানজুলিতে সামান্য যেটুকু জল জমেছে সেখানে পাট জাঁক দেওয়া বেশ সমস্যার হবে। ইতিমধ্যে রোগপোকার আক্রমণে যে সব জমির পাট মরতে শুরু করেছে, সেই সব জমির পাট কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু পাট কেটে কী ভাবে, কোথায় জাঁক দেওয়া হবে তা এখনও বুঝতে পারছেন না চাষিরা। অথচ প্রত্যেক চাষি জানেন পাটের দাম নির্ভর করবে পাট জাঁক দেওয়ার উপরে। পাট ভাল করে জাঁক না দেওয়া হলে তার রং ভাল হবে না। আর রং ভাল না হলে বাজারে পাটের দামও ভাল পাওয়া যাবে না।
পাটচাষি শিবনাথ দাস বলছেন, ‘‘আবহাওয়া ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। এ বারে বৃষ্টির অভাবে পাট চাষ খারাপ হয়েছে। পাটের উৎপাদনও কমবে। তার উপরে এখনও বৃষ্টির ঘাটতি থাকায় পাট পচানো নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।’
(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here