সব্যসাচী দত্ত-র মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা নেই

সব্যসাচী দত্ত-র মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা নেই: সুভাষ বোস

কলকাতা: ‘সব্যসাচী দত্তর মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা নেই’। রবিবার এই ভাবেই তৃণমূল ভবনে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলার সুভাষ বোস। একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক কাউন্সিলার সুধীর সাহা।

তিনি বলেন, ‘উনি কিছু কাজ করছেন না। আমরা ওনাকে অনেক সহ্য করেছি। দলনেত্রী অনেক সহ্য করেছেন’। বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দল। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠকে বসেন বিধান নগরের কাউন্সিলাররা। সব্যসাচী দত্তকে বাদ দিয়েই কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে সব্যসাচী দত্তকে বরখাস্ত করা হতে পারে বলে তুঙ্গে জল্পনা। কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে এব্যাপারে মন্তব্য করতে চান নি ফিরহাদ
হাকিম। রবিবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে এই বৈঠক হাজির ছিলেন বিধাননগর পুরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর। মোট ৩৯ জন কাউন্সিলারের মধ্যে সব্যসাচী দত্তকে বাদ দিয়ে ডাকা হয়েছিল ৩৮ জনকে। এই বৈঠকে ছিলেন রাজারহাটের বিধায়ক তথা দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। বৈঠকে যোগ দেন বিধাননগরের মেয়র পারিষদ সুজিত মণ্ডল, কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সর্দার, সুস্মিতা দাসের মতো কাউন্সিলররা। সব মিলিয়ে সব্যসাচী ছাড়াও ১০
থেকে ১২ জন কাউন্সিলর বৈঠকে গরহাজির বলে জানা গেছে।

শুক্রবার আইএনটিটিইউসির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবন। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন রাজ্য বিদ্যুৎ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তথা বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। বিধায়ক তথা মেয়রের নেতৃত্বে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সব্যসাচী দত্তের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালান। ভবনের ভিতর মাটিতে বসে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সব্যসাচী দত্ত বিদ্যুৎ দফতর কর্তৃপক্ষকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন।
কর্মচারীদের যেসব আর্থিক দাবিদাওয়া বাকি রয়েছে, তা পূরণ না হলে ১৫ অগাস্টের পরে দফতর ‘স্বাধীন’ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সব্যসাচীর এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয় নেতৃত্ব। এরপরই রবিবার বিধাননগরের কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকার কথা ঘোষণা করেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু সেই বৈঠকে ডাক পাননি মেয়র সব্যসাচী দত্ত।

বিদ্যুৎ কর্মীদের বকেয়া ডিএ-এর দাবিতে সোজা বিদ্যুৎভবনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে কোনও ভুল করেননি সব্যসাচী দত্ত। বরং স্পষ্ট জানালেন, আন্দোলনের এপথে তিনি হেঁটেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুসরণ করেই। তিনি সোজাসুজি বলেন, ‘আজকে যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর দেখানো পথেই আমরা হেঁটেছি’। উদাহরণ দিতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রীর সিঙ্গুর আন্দোলনের কথাও উল্লেখ
করেন তিনি। বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থে ছিল সেই আন্দোলন। তিনিই বলেছেন মানুষের পাশে থাকতে। তাই তাঁর কথা মতোই কাজ করেছি’।

শুক্রবার সব্যসাচী দত্ত নাম না করে সমালোচনা করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়েরও। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান খোদ বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দলের তরফে সব্যসাচী দত্তকে অসন্তোষের কথা জানানোও হয়। এরপরই রবিবার বিধাননগরের কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকার কথা ঘোষণা করেন ফিরহাদ হাকিম।

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here