মাদক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে

দিল্লিতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে মাদক সেবনের প্রবণতা, সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

নয়াদিল্লি: অল্পবয়সী শিশু ও স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা দিন দিন ক্রমশই বাড়ছে। শিশু ও পড়ুয়াদের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বহুভাষী সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচার-এর চেয়ারম্যান রবীন্দ্র কিশোর সিনহা। মাদক সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধির মতো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও উত্থাপন করেছেন সাংসদ আর কে সিনহা। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগেই একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সমীক্ষাও করেছিল। ওই সমীক্ষায় চমকে দেওয়ার মতো কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ আর কে সিনহা লিখেছেন, ‘পূর্ব দিল্লি পৌরনিগম (ইডিএমসি)-এর স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত বৈশালী আদক-এর স্টোরি আমি পড়েছি ও দেখেছি। দেশের হাজার হাজার ও লক্ষ লক্ষ শিশুরা কীভাবে ক্রমশই নেশার কবলে চলে যাচ্ছে, তাতে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন। এই গম্ভীর বিষয়টিকে রাজ্যসভায় উত্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি, এছাড়াও আমার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সমস্ত ধরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’ পাশাপাশি নিজের ফেসবুক একাউন্টে এই বিষয়টি শেয়ার করার জন্য বৈশালীকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপনও করেছেন সাংসদ আর কে সিনহা।  ৮ বছরের শিশুও মাদকাসক্ত, দিল্লিতে লাগাতার নেশার প্রবণতা বৃদ্ধিই প্রকাশ্যে আনছে। এমন ধরনের প্রথম সমীক্ষা, যা হিন্দুস্তান টাইমস প্রকাশিত করেছে। সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো হৃদয়বিদারক এই সমীক্ষায় ৮০-রও বেশি মনোবিজ্ঞানী-তথা-কাউন্সেলরের মধ্যে সীমাপুরী, ত্রিলোকপুরী, নন্দ নগরী, জাফফারবাদ, কল্যাণপুরী এবং কোন্ডলীতে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়াদের মধ্যে সমীক্ষা করা হয়েছিল। পূর্ব দিল্লি পৌর নিগম (ইডিএমসি)-এর স্কুল চত্ত্বর থেকে উদ্ধার হয়েছিল সিরিঞ্জ, মাদকের বোতল এবং ই-হুক্কা। পূর্ব দিল্লি মিউনিসিপ্যাল স্কুলের ৮-১১ বছর বয়সী ছ’টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু মদ, তামাকজাত নেশা দ্রব্য ও ইনজেকশন লাগানোর নেশায় আসক্ত। পূর্ব দিল্লি পৌর নিগম (ইডিএমসি) দ্বারা এই সমীক্ষায় প্রকাশ্যে এসেছে, কীভাবে আইনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নেশার কারবারিরা প্রকাশ্যেই ছোট ছোট শিশুকে নেশার অন্ধকার জগতে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

দিল্লি হইকোর্টের জুভেনাইল জাস্টিস কমিটি (কিশোর ন্যায় সমিতি)-র নির্দেশে আপাতত এটি জুলাই ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি হবে। রিপোর্টে যে সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে, ৩৬৮টি স্কুলের ৭৫,০৩৭টি পড়ুয়ার মধ্যে ১২,৬২৭ অর্থাৎ প্রায় ১৬.৮ শতাংশ পড়ুয়া নেশাজাতীয় পদার্থ সেবন করছে। তার মধ্যে ৮,১৮২টি পড়ুয়া শুকনো আফিম ও মিক্স সুপারির নেশায় মত্ত, ২,৬১৩টি পড়ুয়া তামাকজাত নেশায় মত্ত, ১,৪১০টি পড়ুয়া বিড়ি ও সিগারেটের নেশায় আসক্ত, ২৩১টি পড়ুয়া মদের নেশায় আসক্ত এবং ১৯১টি পড়ুয়া তরল নেশা যেমন পেট্রোলের গন্ধ নেওয়া, নেশার ওষুধ এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করছে। রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
টিমকে নেতৃত্ব প্রদানকারী ইডিএমসি-র ডেপুটি স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. অজয় লেখি জানিয়েছেন, ‘হতচকিত হওয়ার মতো আমরা বহুধরণের নেশাজাত দ্রব্য দেখেছি, কিন্তু সবথেকে উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক তথ্য যা প্রকাশ্যে এসেছে, তা হল সমীক্ষা চলাকালীন নেশার জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্ত মাখা সুই, নেশার ট্যাবলেট এমন ধরনের আন্টি এলার্জিক ওষুধের বোতল স্কুল প্রাঙ্গন ও পড়ুয়াদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে। উনি আরও বলেছেন, এবিল এবং মেফেন্যান্টাইনের মতো ওষুধ শুধুমাত্র ডাক্তাররা লিখে দিলেই পাওয়া যায়। আইনত এই ধরনের ওষুধ কাউন্টার থেকে ডাক্তাররা লিখে না দিলে পাওয়া যায় না। কিন্তু, একটি ইনজেকশন থেকে শুধুমাত্র ৫ থেকে ২৫ টাকা উপার্জনের জন্য ওষুধ বিক্রেতারা এই সমস্ত ওষুধকে অনৈতিকভাবে বাচ্ছাদের কাছে বিক্রি করছে। এই ধরণের অবৈধ কাজকর্ম পড়ুয়াদের আরও বেশি করে নেশার অন্ধকার জগতে থেকে দিচ্ছে।

সমীক্ষার সময় পড়ুয়াদের কাছ থেকে কলমের আকারে সিরিঞ্জ, যার উপর মিলিমিটার মার্কিংও ছিল এবং জেলি স্টিকের মতো সিগারেট এবং লিটার উদ্ধার হয়েছে। এই ধরণের সমস্ত পণ্য যা ক্ষতিকারক-বাচ্চাদের আকৃষ্টি করার জন্য উজ্জ্বলভাবে রঙিন এবং প্রাণী ও বেন ১০-এর মতো কার্টুন ক্যারেক্টর দিয়ে বর্ণিত থাকে। আমাদের দল হরিয়ানার যমুনা নগর এবং উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পণ্যগুলির নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এই সমস্ত ঠিকানাগুলি ভুয়ো প্রমাণিত হয়। তিনি জানতে চান কেন কলম এবং ক্যান্ডির আকারে সিরিঞ্জ তৈরি করা হচ্ছে। এগুলিকে কেন এভাবে আকর্ষিত করা হচ্ছে যে, ছোটদের চিন্তাশূন্য মস্তিষ্ক তাদেরকে মাদক দ্রব্যের জগতে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।  দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালে এই সমীক্ষা পরিচালনা করে ইডিএমসি-পাবলিক হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের দুটি বিভাগ। সমীক্ষায় আদালত পেয়েছে যে, যুবাবস্থার আগেই অনেক শিশু নেশার শিকার হয়েছে। যাদের একটা অংশকে বাড়িতেই সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনার চিকিৎসা চলছে। এরপরে পৌরসভাগুলিকে তাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সমীক্ষার জন্য নিযুক্ত ইভিজিসি এবং মনোবিজ্ঞানী পরামর্শদাতাদের প্রোফাইল এবং যোগ্যতার উপর দীর্ঘ বিতর্কের পর, অবশেষে ২০১৮ সালে জুলাই মাসে তাঁদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্বাঞ্চলীয় কর্পোরেশন এই বছরের মে মাসে জুভেলাইল জাস্টিস বোর্ডকে নিজেদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ কর্পোরেশন এখনও এই রিপোর্ট প্রস্তুত করতে ব্যস্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পূর্বাঞ্চলীয় কর্পোরেশনের অধীনে থাকা স্কুলের সংখ্যা অন্য তিন কর্পোরেশন অধীনে থাকা বিদ্যালয় গুলি থেকে কম। পূর্বাঞ্চলীয় কর্পোরেশনের ৩৫১টি বিদ্যালয়ে ১.৭১ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কিন্তু এই স্কুলগুলির বেশিরভাগ পড়ুয়াই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হওয়া এরা খোলাখুলি ও ব্যাপকভাবে মাদক দ্রব্য ব্যবহার করে। যেখানে উত্তরাঞ্চলীয় কর্পোরেশনের অধীনে থাকা ৭১৪ টি বিদ্যালয়ে ২.৯৬ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্পোরেশনের অধীনে থাকা ৫৮১ টি স্কুলে শিক্ষা পাচ্ছেন প্রায় ২.৩৮ লক্ষ শিক্ষার্থী।  তিনি বলেন, তাঁদের স্কুলে অধ্যয়নরত বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে গ্রাম, ঝুপড়ি বস্তি থেকে আসে। যাদের মধ্যে কিছু শিশু আনাথ এবং কিছু আছে যারা তাঁদের বাড়িতে নির্যাতনের শিকার। এই মানসিক ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পেতে এই শিশুরা মাদক দ্রব্য নেওয়া শুরু করে। কিছু আছে যারা তাঁদের সহপাঠী এবং সিনিয়র ছাত্রকে মাদক দ্রব্য ব্যবহার করতে দেখে এটা ব্যবহার শুরু করে। ওষুধ বিক্রেতা, মাদক বিক্রেতারাও এক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান বিহেবিহার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস (আইএইচবিএএস)-এর পরিচালক ডা. নিমেশ দেশাই বলেন, মাদকদ্রব্য নিরসন কেন্দ্র পরিচালনাকারী চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, মাদকদ্রব্যের ব্যবহার কীভাবে তরুণ জীবনকে নষ্ট করছে।
‘সুলোচন’-এর মতো মাদক যেগুলি নিশ্বাসের সঙ্গে টেনে নেওয়া হয় তা এক বড় সমস্যা। এটিতে যুক্ত মূল উপাদান হল টলুইন। এটা এমন একটি পদার্থ যার না আছে কোনও চিকিৎসা এবং না আছে কোনও প্রতিস্থাপন থেরাপি। এটা মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে এবং কিশোর মস্তিষ্কের জন্য বিপজ্জনক।” বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাদক দ্রব্যাদি গ্রহণকারীদের মধ্যে টলুনি প্রধাণত মস্তিষ্কের গুরুতর অসুস্থতা (মস্তিষ্ক বিকৃতি)-র কারণ,
এনজিও সোসাইটি ফর প্রমোশন অফ ইউথ অ্যান্ড মাসেসের নির্বাহী পরিচালক রাজেশ কুমার, যিনি দিল্লি গেট, কিংসওয়ে ক্যাম্প এবং দরিয়াগঞ্জে শিশুদের জন্য তিনটি নেশামুক্তি কেন্দ্র চালান। তিনি বলেছেন, “ড্রাগের নেশাগ্রস্ত শিশুরা একটি সিরিঞ্জই অনেক বার ব্যবহার করে, এটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমি এই ধরনের অনেক শিশুকে দেখেছি, যারা এই কারণেই এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস)-এ আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে এদের মৃত্যু হয়।”

২৮ বছর বয়সী এক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, ‘যে সমস্ত কাউন্সিলর ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিয়মিতভাবে ইডিএমসি স্কুলে সফর করতেন, তাঁরা বলেন যে শিশুদের সঙ্গে এই বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলার জন্য খুব ধৈর্য এবং দৃঢ়তার প্রয়োজন হয়। প্রথমত আমরা শিশুদের মধ্যে একটি পেইন্টিং সেশন সংগঠিত করি, যার মধ্যে একটি বিষয় ছিল ড্রাগের অপব্যবহার। এর পরে আমরা দাঁত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য আলোচনা করব (নেশাগ্রস্তদের চিহ্নিত করার উপায়)। নেশাখোর মানুষদের যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাত্রা নিয়ে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রগুলিও ওদের দেখাব যাতে আমরা ওদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে পারি।’ শর্মা জানান, ১০ বছর বয়সী একটি শিশুর তৈরি পেইন্টিং তাঁর মনে আছে, যার মধ্যে সে একটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড এর হুইস্কির বোতল এবং তার পাশে বরফ এবং জল পূর্ণ একটি গ্লাস দেখিয়েছে এবং তার নিচে একটি স্লোগানও লিখেছে, “মদ খাওয়ার পর, মদ গ্রহণকারীর কোনও দায়িত্ব নেই।” এই সম্পর্কে তার তথ্য নিয়ে আমরা অবাক হয়ে যাই।
মহিমা মিশ্রা নামে আরেকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, “এই শিশুদের বেশির ভাগই এখনও কিচ্ছু বোঝে না, কিছু সময় ধরে এরা পাথরের মতো হয়ে গিয়েছে। কিছু শিশু আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের কোনও সহপাঠী যদি স্কুলে ই-হুক্কা পান করে তবে তাঁরা আমাদের গোপনে জানাবে, কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁরা এও বলে যে, সিনিয়র ছাত্রদের ভয় করে ওরা। ড্রাগস নেওয়ার সময় ধরা পড়ে যাওয়া একটি শিশুকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, ‘আমার উস্তাদ তোমাকে উড়িয়ে দেবে’, অর্থাৎ মেরে দেবে।”

গত দুই বছর ধরে লিখিত দলের সাহায্য করে আসা দিল্লির একটি আইনি সেবা কর্তৃপক্ষ (ডিএলএসএ)-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশুদের কাছে মাদকদ্রব্য পৌঁছানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা নিয়ে অনেক আইন রয়েছে, কিন্তু গাফিলতির কারণে তাঁদের প্রয়োগ করা খুব কষ্টকর হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “শিশুদের কাছে এইসব নেশাকারক ঔষধ বিক্রিকারী ঔষধ বিক্রেতাদের ওপর নজর রাখতে শহরের ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়মিত তাদের দোকানগুলি পরিদর্শন করছেন। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, দিল্লিতে ২৩০০০ ঔষধ বিক্রেতা পিছু মাত্র ১৭ জনই ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি যদি কোনও শিশু বা কিশোরের কাছে এই নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি ধরা হয়, তবে তাঁরা কেবল ওই বিক্রেতাদের লাইসেন্সই বাতিল করেন। তাদের ড্রাগস এবং কসমেটিক্স অ্যাক্ট ১৯৪০, ধারা ১৮ এবং ২৭-এর অধীনে গ্রেফতার করতে পারেন না, যা তাদের অন্তত এক থেকে দুই বছরের জন্য কারাগারে পাঠাতে পারে।” এইভাবে স্কুলের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা পান তামাক তামাকজাত দ্রব্য বিড়ি সিগারেট এই ধরনের দোকান ও অন্যান্য তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের আইন ২০০৩ রাজার তিন আইন খোলাখুলি লংঘন করছে। একইভাবে দিল্লির আবগারি নিয়ম ২০০৯ একইভাবে লংঘন করে দিল্লির স্কুলের ১০০ মিটারের মধ্যে দেশি মদের ঠেক চালানো হচ্ছে। শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ আইনজীবী অনন্ত আস্তানা জানান, ‘দিল্লির সরকার ২০১৭ আগস্ট মাস থেকে ১৮ বছরের নিচে বাচ্চাদের শিশুদের কারেকশন তরল পদার্থ হোয়াইটনার থিনার এর মতো দ্রব্য গুলোকে বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধরনের তরল পদার্থ গুলোকে তখনই বিক্রি করা যাবে, যতক্ষণ না সেই বাচ্চার সঙ্গে বাড়ির কোনও বয়স্ক লোক দোকানে না আসছেন বা তাঁর কাছে কোনো অনুমতি পত্র রয়েছে কিনা। এইভাবে আইন কোন কাগজ পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাথমিক স্তর থেকে এই নিয়ম চালু হওয়া প্রয়োজন রয়েছে।’

প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক জসমিত সিং, যিনি গত কিছু মাস ধরে ডক্টর দলের সঙ্গে কাজ করছিলেন, তিনি এই সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য সমস্যা সমাধানের কাজে মেতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এসিপি এবং এস এইচ ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি যাতে এটা সুনিশ্চিত করা যেতে পারে যে কোনও ব্যক্তি স্কুলের আশেপাশে ঘোরাফেরা না করতে পারে এবং এবং স্কুলের বাচ্চারা যাতে সন্দেহজনক ভাবে টাকা নিয়ে কোন ওষুধের দোকানের সামনে না যেতে পারে। আমরা পার্ক এবং জনসমাগম এলাকার আলাদাভাবে চিহ্নিতকরণের কাজ করছি, যেখানে নেশা করা লোকেরা এক জায়গায় জড়ো হয়। পাশাপাশি আমরা দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলদের নতুন আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়ে থাকি এবং এটাও তাদের জানানো হয় যে এই ধরনের মামলাগুলোকে কিভাবে তদন্ত করতে হয়। মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত রাখার ফলে শহরের অপরাধের পরিসংখ্যান খুব তাড়াতাড়ি কমে আসতে পারে।’

(Visited 12 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here