রোটাভেটরের জন্য ক্ষতি হচ্ছে চাষের জমি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 20, 2019 | 2:01 pm

রোটাভেটর ব্যবহার করে কৃষকরাই ক্ষতি করছেন জমির

রোটাভেটর, যা হল ট্রাক্টরের পিছনে লাঙলের ফলার পরিবর্তে ব্যবহার করা এক বিশেষ ধরনের যন্ত্রাংশ। এটি দিয়ে খুব অল্প সময়ে বেশি জমি চাষ করা যায়। কিন্তু এর ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। কঠোর আইন না করলে রোটাভেটরের ব্যবহার বন্ধ হবে না। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষি নির্ভরশীল জেলা। এই জেলায় কোনও শিল্প নেই। জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। সেখানেও রোটাভেটর ব্যবহার করে চলছে জমি চাষ। জেলা কৃষি দফতরের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রোটাভেটর বন্ধ করতে না পারলে আগামীদিনে পানীয় জলের সঙ্কট বাড়বে, কমবে জমির উৎপাদন ক্ষমতা। কৃষকদের সচেতন করা সত্ত্বেও সময় বাঁচাতে তাঁরা জমির ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসছেন। পরিবেশের ভারসাম্য বাঁচাতে জেলার কৃষক গোষ্ঠীগুলিকেও একসঙ্গে কাজ করা উচিৎ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রোটাভেটর ব্যবহার করার ফলে জমির মাটি ঝুরঝুরে হয়ে যায় এবং মাটির কণাগুলির মধ্যে থাকা কৈশিক নল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টির জল মাটির গভীরে প্রবেশ করতে না পেরে ভৌমজল পুষ্ট ফলে জলস্তর নেমে যায়। মাটির উর্বরা শক্তিও কমতে থাকে। কৃষি দফতর জানিয়েছে, জেলায় বর্ষা মরশুমে ১ লক্ষ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়। জেলার চাহিদা মেটার পরেও উৎপাদিত ফসল বাইরে বিক্রি হয়। জেলায় এখন রোটাভেটর ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ নিয়ে কৃষকদের সচেতন করা সত্ত্বেও রোটাভেটর ব্যবহার করে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন।

কৃষি দফতরের আধিকারিকরা বলেন, দফতর থেকে চাষের জমির মাটি পরীক্ষা করে রাজ্যে রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকি। কয়েক বছর ধরে জেলাজুড়ে রোটাভেটর ব্যবহার শুরু হওয়ায় চাষের জমির ভয়ঙ্কর পরিবর্তন এসেছে ও মাটির গঠনতন্ত্র পাল্টেছে। আগামী দিনে এই পদ্ধতি চললে জেলাজুড়ে পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দেবে। ফসলের উৎপাদন অনেক কমেছে, গুণগত মানও খারাপ হয়েছে, ফসলে রোগ পোকার আক্রমণ দ্বিগুণ হয়েছে।পরিবেশকে বাঁচাতে সব চাষিকে কৃষি দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করতে হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষি আধিকারিক জোতির্ময় বিশ্বাস বলেন, ট্রাক্টরের লাঙল উঠে গিয়ে এখন নতুন প্রযুক্তি এসেছে রোটাভেটর যা চাষের জমির পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। কৃষকদের এনিয়ে সচেতন করা সত্ত্বেও তাঁরা রোটাভেটর দিয়েই জমি চাষ করছেন।

গঙ্গারামপুরের কৃষক যতীন সরকার বলেন, এখন সমস্ত ট্রাক্টরে রোটাভেটর লাগানো থাকে। শুধু চাষিদের দোষ দিলে হবে না। গ্রামীণ কৃষকরা এসব বোঝেন না, সরকারকেই পরিবেশ বাঁচাতে পদক্ষেপ করতে হবে।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট