আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর ১দেশ

বাংলায় সংবিধানের শাসন নেই! দাবি দিলীপের

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত ,নিউ দিল্লি:   বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর সঙ্গে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার প্রসঙ্গে রাজ্যের সাংবিধানিক শাসন বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের এবং রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করলেন রাজ্য বিজেপির  সভাপতি এবং সাংসদ দিলীপ ঘোষ ।

নয়াদিল্লিতে যুগশঙ্খ দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপবাবু বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে ।রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এবং তিনি অনেক বড় আইনজীবী ও ।সংবিধানে পরিষ্কার করে বলা আছে রাজ্যপাল কি করতে পারেন বা কি করতে পারেন না? কোন রাজ্যপালেরই অধিকার নেই সেই আইনের এবং নিয়মের বাইরে যাওয়ার। যবে থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নিয়েছেন তবে থাকেই এই তৃণমূল সরকার তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।রাজ্যপালের অপরাধ হলো তিনি ঘরে বসে থাকেন না। তার সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী তিনি সারাবাংলা ঘুরে বেড়ান। রাজ্যের মানুষ যদি রাজ্যপালের কাছে নিজেদের অভাব অভিযোগ নিয়ে হাজির হন ,তাহলে রাজ্যপাল কি তাদের ফিরিয়ে দেবেন ?

তৃণমূল সরকারের সমস্যা হলো-তারা বিরোধীতা সহ্য করতে পারেন না । আমাদের বিজেপি কর্মীরা যখন বিরোধিতা করেন তাদের জন্য মিথ্যা মামলায় জেল, খুন ,মহিলাদের উপর অত্যাচার এই সমস্ত অস্ত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য প্রয়োগ করা হয় । কিন্তু রাজ্যপালের সঙ্গে তারা এগুলো করতে পারছে না। সেই কারণে যত রকম ভাবে পারা যায় তারা রাজ্যপাল কে অপমান করছেন। ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম কোন রাজ্যপালকে তার রাজ্যে কালো পতাকা দেখানো হয়েছে। রাজ্যপাল যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার সরকারি কর্মচারীরা সৌজন্য টুকু দেখাচ্ছেন না । রাজ্যপাল মিটিং এ সমস্ত অফিসাররা  অনুপস্থিত থাকছেন । বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যপাল গেলে তাকে বসার চেয়ার টুকু পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বিধানসভায় রাজ্যপাল যে কোনদিন যেতেই পারেন। তার অধিকার আছে। সংবিধানে পরিষ্কারভাবে সেই নির্দেশ লিপি লেখাও আছে ।তবুও তার ঢোকার গেট টুকু পর্যন্ত খোলা রাখার প্রয়োজন মনে করেনি রাজ্য সরকার ।আমার মনে হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সংবিধান বহির্ভূত একটা রাজ্য। যেখানে ভারতের সংবিধানের কোন নিয়ম চলবেনা। তাই আমরা খুব তাড়াতাড়ি পশ্চিমবঙ্গে সংবিধানের শাসন বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের  হস্তক্ষেপ দাবি করছি এবং একইসাথে রাষ্ট্রপতির ও হস্তক্ষেপ দাবি করছি । কারণ মনে রাখতে হবে  যে রাজ্যপাল হলেন রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ।যার উপরে দ রাজ্যের সংবিধান রক্ষার’ দায়িত্ব থাকে ।

[আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় হারে বেতন পেতে কেন্দ্রীয় স্কুলে কাজ করুন, পার্শ্ব শিক্ষকদের কটাক্ষ পার্থর]

এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু আরও বলেন পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে। মমতার সরকার পশ্চিমবঙ্গবাসী কোন অধিকারের স্বীকৃতি দিচ্ছে না ।এইযে পার্শ্বশিক্ষকরা আজ কুড়ি দিন অনশন রয়েছেন, সরকারের তাদের প্রতি কোন মানবিকতা নেই। আমরা বারেবারে সংসদে এই প্রসঙ্গ টা তুলছি। অথচ রাজ্য সরকারের এতগুলো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনা নেই  একজন শিক্ষক ইতিমধ্যেই মারা গেছেন ,আরো অনেকে অসুস্থ । অথচ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর এই বিষয়ে একটাও প্রতিক্রিয়াও আমরা পাই নি।সেইজন্য  বৃহস্পতিবার সকালে সকালে আমরা সংসদের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গের সংবিধান ফিরিয়ে আনার জন্য ধর্নাদি ।এছাড়াও উপ নির্বাচনের পর এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে যেভাবে একের পর এক বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হচ্ছে এবং তাদের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে তারও প্রতিবাদে আজ এই ঝরনা কর্মসূচি ছিল বলে জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

(shreyashree)

(Visited 12 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close