অবৈধ বালি কারবার বন্ধে আন্দোলনে বিজেপি

0
8

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য, জামালপুরে অবৈধ বালি কারবার বন্ধে স্মারকলিপি বিজেপি নেতৃত্বের  

বর্ধমান: প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দামোদর থেকে বালি তোলার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামল বিজেপি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে পাঁচড়া পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বালি কারবারিদের মদত জোগানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বালি কারবারীদের মদত জোগানো বন্ধের দাবিতে বিজেপি নেতা ও কর্মীরা পঞ্চায়েত অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তৃণমূল পরিচালিত পাঁচড়া পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি কারবারে মদত জোগানোর অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে দামোদর থেকে বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এবছরও ২১ জুন জেলা প্রশাসন বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাঁচড়া অঞ্চলের বিজেপি নেতা রাহুল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। এখনও দামোদর থেকে বালি তোলাচলছে। এ কাজে মদত জোগাচ্ছে তৃণমূলের নেতারা ও পাঁচড়া পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। রাহুলবাবু বলেন, দামোদরের গতিপথ অবরুদ্ধ করে রাস্তা ও ব্রিজ তৈরিতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও দামোদরের বুকে রাস্তা ও কাঠের ব্রিজ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে পাঁচড়া পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। বিজেপি নেতার অভিযোগ, সড়ক পথের ধারে বালি মজুত করায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পাঁচড়া কিষাণ মাণ্ডির আশপাশ-সহ সমগ্র মেমারি তারকেশ্বর রোডের ধার বরারব পাহাড় প্রামাণ উচ্চতায় বালি মজুত করা চলছে। সেই বালি বৃষ্টির জলে ধুয়ে গিয়ে পড়ছে ইডেন সেচ ক্যানেলে। এসবের কারণে কানেল দিয়ে সেচের জল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সংকটে পড়ছেন চাষিরা। অথচ  পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা সব দেখেও নিশ্চুপ রয়েছেন। জামালপুরনিবাসী বিজেপির জেলা সম্পাদক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তৃণমূলের মদতে চলা অবৈধ বালি কারবার বন্ধে খুব শিঘ্র বিজেপি আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

এইভাবেই রাস্তার ধারে ঢিবি করে জমা করা হয় বালি

পাঁচড়া অঞ্চলের হাবাসপুর গ্রামের বিজেপি সমর্থক বাসিন্দা  সুব্রত সাঁতরা, অরুপ মালিক প্রমুখরা বলেন, বর্ষার মরশুমেও তাঁদের গ্রাম দিয়ে বালি বোঝাই যানবাহন যাতাযাত অব্যাহত রয়েছে। এসবের কারণে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে তাঁদের গ্রামের ঢালাই রাস্তা। অপর বিজেপি কর্মী লাল্টু পাকড়ে বলেন,  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনও দাদপুর, সারাংপুর ও হাবাসপুর এলাকায় দামোদর থেকে বালি তোলা চলছে। সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত দামোদর থেকে বালি তুলে লরি ও ডাম্পারে মজুত করে তা পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।  দামোদরের পাড়ের কাছ থেকে বালি তোলাও প্রশাসন বন্ধ করতে পারেনি। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দামোদরের বাঁধ। লাল্টু পাকড়ে বলেন, অবৈধ বালির  কারবার বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ঠিক তার উলটোটাই ঘটে চলেছে।  পাঁচড়া পঞ্চায়েতের প্রধান লালু হেমব্রম যদি দাবি করেছেন, বিজেপির তোলা অভিযোগ সত্য নয়। তবে দামোদরের বুকে অস্থায়ী ব্রিজ তৈরির পারমিশান যে দুই বালি কারবারিকে পঞ্চায়েত দিয়েছিলেন সেকথা লিখিত মুচলেখা দিয়ে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

মহকুমা শাসক দক্ষিণ সুদীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ২১ জুন দামোদর থেকে বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সড়ক পথের কতটা দূরত্বে বালি মজুত রাখা যাবে। নিষেধাজ্ঞা মতো কাজ না হয়ে থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মহকুমা শাসক এদিন  জানিয়ে দেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)