আমের লোভ দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 12, 2019 | 1:06 pm
সাংবাদিক বৈঠক করছেন বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপার রসিদ মুনি খান

সোনারপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, দাবি আট লক্ষ টাকা, ফিল্মি কায়দায় উদ্ধার অপহৃত ব্যক্তি

দক্ষিণ ২৪ পরগণা: সোনারপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার পর আট লক্ষ টাকা দাবি করে দুষ্কৃতীরা খবর পাওয়ার পর ফিল্মি কায়দায় মালদহ থেকে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করল সোনারপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার দুই।

সোনারপুরে সাহেবপাড়ার বাসিন্দা অশোক রায় ৭ জুলাই মালদহ যায় পাথর কিনতে। সঙ্গে ছিল স্থানীয় এক যুবক বিশ্বজিৎ ওড়াও। কোনও কারণে পাথর কেনা না হওয়ায় আম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অশোকবাবু। সেই সময় দুজন ব্যক্তি কম দামে ভালো আম কিনিয়ে দেওয়ার অছিলায় একটি গাড়িতে করে কালিয়াচকের দিকে নিয়ে যায়। এরপর ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগ দেয় আরও দুজন, তারা গাড়িতে চেপে বসে। এরপর কিছুটা দূরে যেতেই বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ করে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায় দুজনকে। দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে তাদের কাছে থাকা সমস্ত কিছু কেড়ে নেয় অপহরণকারীরা। সেখানে দুদিন ফাঁকা মাঠে তাদের বেঁধে রেখে চলে অত্যাচার। এরই মধ্যে বিশ্বজিৎ কোনওরকমে পালিয়ে যেতে স্বচেষ্ট হয়।

এরপর অশোকবাবুকে ইংরেজবাজার থানা এলাকার একটি জায়গায় ঈশারুদ্দিন শেখের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিপণ হিসাবে আট লক্ষ টাকা দাবি করে বাড়িতে ফোন করা হয়। পাশাপাশি বন্দুকের বাঁট দিয়ে ব্যাপক মারধোর করাও হয়। সোনারপুরের বাড়িতে অশোকবাবুর স্ত্রী অপর্ণা দেবী মুক্তিপণের ফোন পেয়ে ১০ জুলাই সোনারপুর থানার দ্বারস্থ হয়। বিষয়টি জানার পরেই নড়েচড়ে বসে বারুইপুর পুলিশ জেলার বড় কর্তারা। জেলা পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খান-এর নির্দেশে সোনারপুর থানার দুই অফিসার প্রদীপ রায় ও অর্ঘ মন্ডলের নেতৃত্বে চার জনের একটি দল অপর্ণা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেয় মালদহে। টোপ হিসাবে সঙ্গে নেওয়া হয় একটি টাকার ব্যাগ। আগে থেকেই নির্দিষ্ট জায়গায় সাদা পোশাকে উপস্থিত ছিল স্থানীয় পুলিশ।

স্টেশনে নেমে মোবাইলে অপর্ণা দেবী যোগাযোগ করে অপহরণকারীদের সঙ্গে। তারা টাকা চাইলে ব্যাগ খুলে তাদের টাকা দেখিয়ে স্বামীর কাছে আগে নিয়ে যেতে বলে। এর পর একটি টোটোতে অপর্ণা দেবীকে উঠতে বলা হয়। তার সঙ্গে ওঠে একজন সাদা পোশাকের পুলিশও। এরপর ওই টোটোর পিছু নেয় অন্য একটি টোটোতে বাকি পুলিশ এর দলটি। ঈশারুদ্দিন-এর বাড়িতে গিয়ে স্বামীকে দেখতে পায় অপর্ণা দেবী। এরপরই আসল রূপ নেয় পুলিশ। চারিদিক দিয়ে ঘিরে ধরলে তিনজন পালিয়ে যায়। ঈশারুদ্দিন শেখ ও বিলাল শেখ নামে দুজন কুখ্যাত অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার ধৃতদের তোলা হয় বারুইপুর আদালতে। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খান জানান, এই দলটি এর আগেও বেশ কয়েকটি অপহরণের ঘটনায় যুক্ত। এই দুজন ছাড়া গোটা দলটিকে হাতে পেতে এই দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানান হবে আদালতে। পাশাপাশি ফিল্মি কায়দায় দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার ও অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আনায় পুলিশ দলটিকে বাহবাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে খবর পাওয়ার একদিনের মধ্যে অতি তৎপরতার সঙ্গে পুলিশ যেভাবে উদ্ধার করেছে তারজন্য পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রায় দম্পতি।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট