সুষমার মানবিক মুখ দেখেছিল ছিটমহলবাসী থেকে বিদেশে আটকে পড়া বাংলার শ্রমিকরা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 8, 2019 | 8:55 am

রক্তিম দাশ, কলকাতা, ৭আগস্ট: বৃহস্পতিবার রাতে প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তণ বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তাঁর এই অকালে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না সাবেক ছিটমহলবাসী থেকে বিদেশে কাজের খোঁজে গিয়ে দালালদের হাতে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসা বাংলার শ্রমিকরা। ছিটমহল বিনিময় আর বাংলার শ্রমিকদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় সুষমার মাতৃসম মানবিক মুখ দেখেছিলেন তাঁরা।

দীর্ঘদিনের ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের কাজটি আটকে ছিল রাজনৈতিক কারণে। সেটা যখন সমাধানের পথে এগোচ্ছিল তখন বাধা এসছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। সেই বাধা কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজি করাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সুষমা স্বরাজ। এমনটাই দাবি তৎকালীন ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলনের নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্তের।
এদিন তিনি বলেন,‘ ২০১৩ সালে দিল্লিতে আমি সুষমাজির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তখন আমরা বিনিময়ের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করব বলে ঠিক করেছিলাম। উনি আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন অরুন জেটলির কাছে। জেটলি আমায় মামলা করতে বারণ করে বলেছিলেন, এটা করলে বিনিময়ে দেরি হবে। আমরা কিছুদিনের মধ্যে ক্ষমতায় আসছি। আমরা বিনিময় করব। জেটলির বক্তব্য শুনে সুষমাজি বলেন, আপলোগো কি আচ্ছে দিন আনে বালা হ্যায়।’

সুষমা ছিটমহলের সমস্যাকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখতেন বলে দীপ্তিমান বলেন,‘২০১৪-র জুন মাসে উনি আমায় ডেকে পাঠান দিল্লিতে। ট্রেন লেট হওয়ায় আমি দ্রুত দিল্লি স্টেশন থেকে ওনার বাসভবনে চলে যাই। সেদিন আমায় দেখে প্রথমেই বলেন, পরে কথা হবে আগে কিছু খেয়ে নাও। তারপর মায়ের মতো আমায় নিজে পরিবেশন করে খাবার খাইয়ে ছিলেন। আমাকে বললেন,আমরা তো রাজি। মমতাদিদি তো রাজি হচ্ছেন না। তোমাদের চ্যানেল দিয়ে চেষ্টা করনা যদি ওকে রাজি করানো যায়। এরপরের সপ্তাহেই তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে রাজি করান ছিটমহল বিনিময়ে।’
দীপ্তিমান আরও বলেন,‘ ২০১৫ যখন ছিটমহলবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, কারা কোনদিকে যাবেন। সেই সময় দিল্লিতে লুকিয়ে কাজ করতে আসা বাংলাদেশের ভিতরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল গারোলঝোড়ার ১১ জন ওপারে ফিরতে গিয়ে দীঘলটারি সীমান্তে ধরা পড়ে। আমি সুষমাজিকে ফোনে জানাই। উনি রাজনাথ সিং বলে তাঁদের ছাড়ার ব্যবস্থা করেন। ওদের বিরুদ্ধে ফরের্নাস অ্যাক্টে মামলা না হয়ে সাধারণ জামিন যোগ্য ধারায় মামলা হয়। জামিন পেয়ে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যান। সেই ১১ জনই কিন্তু অপশান নিয়ে ভারতে আসেন। এখন তাঁরা দিনহাটা ক্যাম্পে আছেন। ছিটমহলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন মাতৃসমা। ছিটমহলের মানুষ মাতৃহারা হলেন।’

ছিটমহলের মানুষের মতোই সুষমা স্বরাজ ভিন দেশে কাজ করতে গিয়ে দালালের খপ্পড়ে পড়ে আটকে পড়া ৯৭২ জন বাংলার শ্রমিককে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের পরিবারের কাছে। এমনটাই জানালেন ন্যাশানাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান জিন্নার আলি। তিনি বলেন,‘ ওনার কাছে আমরা যা সাহায্য পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। বিদেশে কেউ আটকে পড়ার অভিযোগ এলেই ওনাকে আমরা টুইট করতাম। ওনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতেন। আবার পালটা টুইট করে জানাতেন কি ব্যবস্থা নিয়েছেন। ওনি আমাদের কাছে কোনও মন্ত্রী বা নেত্রী নন। একজন মানবতাবাদী বড় হৃদয়ের মানুষ। যখনই দেখা করতে চেয়েছি শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিতেন। আমরা একজন মানবদরদী মানুষতে হারালাম।’

তানজিনিয়ায় কাজ করতে গিয়ে দালালদের হাতে আটকা পরেছিলেন নদিয়ার বগুলার গোবিন্দ সরকার সহ ৮ জন। গোবিন্দ সরকারের স্ত্রী অঞ্জলি সরকার বলেন,‘ ওনি আমার কাছে ভগবান। স্বামীর যখন বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম,তখন ওনি আমার স্বামীকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিলেন। ওনি আমাদের মতো পরিবারগুলির জন্য যা করেছিলেন তার জন্য সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।’

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট