শ্রমিকদের কাটমানি ফেরৎ দিল সুপারভাইজার

১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা কাটমানি ফেরৎ দিল সুপারভাইজার

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ও প্রণব দেবনাথ, বর্ধমান: ১০০ দিনের কাজ পেতে গেলে দিতে হবে ৪ হাজার টাকা। একথা বলে ১৪০ জন জবকার্ড শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে সুপারভাইজার ও পে-মাস্টাররাদের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী কাটমানি ফেরৎ দেবার কথা ঘোষনা করার পরেই ওই টাকা ফেরৎতের দাবিতে স্বোচ্চার হন পূর্ব বর্ধমানের বণ্ডুল ২ পঞ্চায়েতের জবকার্ড শ্রমিকরা। তাদের পাশে দাঁড়ায় বিজেপির নেতা ও কর্মীরা। প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষমেষ সোমবার ১৪০ জন জবকার্ড শ্রমিকের কাছ থেকে আদায় করা ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা ফেরৎ দিলেন সুপারভাইজার। টাকা ফেরৎ পেয়ে খুশি হয়ে এদিন নজির সৃষ্টি করলেন গ্রামের জবকার্ড শ্রমিকরাই। হাজারো বাসিন্দার উপস্থিতিতেই তারা গ্রামের রাস্তা তৈরির জন্য ১ হাজার টাকা করে দান করেদিলেন। অন্যদিকে এদিনই কেতুগ্রাম ২ ব্লকের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের শিবালুন গ্রামের ছয় তৃণমূল নেতা কাটমানি খাওয়া ডেড় লক্ষ টাকা গ্রামবাসীদের ফেরৎ দিতে বাধ্য হন।

কাটমানি ফেরৎ নিয়ে বণ্ডুল ২ পঞ্চায়েতের কাষ্ঠকুড়ুম্বা বারোয়ারী তলায় এদিন বেলায় সালিশি সভা বসে। সেই সভায় জবকার্ড শ্রমিকদের পাশাপাশি এলাকার বিজেপি সভাপতি বিনয় মুখোপাধ্যায় সহ অন্য বিজেপি কর্মীরাও উপস্থিত থাকেন। বণ্ডুল ২ পঞ্চায়েতের মেইন সুপারভাইজার তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই সভায় হাজির হবার কথা আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু এদিন তিনি হাজির হননি। তাঁর ছেলে সভায় হাজির হয়ে জমকার্ড শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ফেরৎ দিয়ে যান।

বিজেপি সভাপতি বিনয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূল পরিচালিত বণ্ডুল ২ পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজের মেইন সুপারভাইজার হলেন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সহযোগী অর্থাৎ পে- মাস্টার ছিলেন আরো ১১ জন। বিনয়বাবু বলেন, সুপার ভাইজার ও তার সহযোগীরা ৪ হাজার টাকা করে দাবি করেছিল জবকার্ড শ্রমিকদের কাছে। শ্রমিকদের বলা হয়েছিল যারা টাকা দেবে তারাই ১০০ দিনের কাজ পাবে। এলাকায় ২৬০ থেকে ২৭০ জনের মত জবকার্ড শ্রমিক রয়েছে। তারমধ্যে ১৪০ থেকে ১৪৫ জনের কাছ থেকে যতটা যেমন পেরেছে তেমন টাকা আদায় করেছে সুপারভাইজার ও তার সহযোগীরা।  যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের কাজ দেওয়া হচ্ছিল না।

সম্প্রতি টাকা ফেরৎ দেবার দাবি তুলে ছিলেন জবকার্ড শ্রমিকরা। বিনয় মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁরা জবকার্ড শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান। এদিন সুপারভাইজারের ছেলে ৩ লক্ষ ৮৯ হাজারের কিছু বেশি টাকা কাষ্ঠকুড়ুম্বা গ্রামের বারোয়ারি তলায় ডাকা সভায় এসে দিয়ে যায়। যেসব জবকার্ড শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল সেই টাকা এদিন তাদের হাতে তুলেদেওয়া হয়েছে। গ্রামের রাস্তা তৈরির জন্য জবকার্ড শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় এদিন ওই টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে দান করেছেন বলে বিজেপি নেতা জানিয়েছেন।

জবকার্ড শ্রমিক লক্ষ্মী মালিক, জয়ন্তী কৈবর্ত্য প্রমুখরা বলেন, সুপারভাইজার ও পে-মাস্টাররা ৪ হাজার টাকাকরে সবার কাছে দাবি করেছিল। তারা বলেছিল টাকা না দিলে ১০০ দিনের কাজ পাব না। সেই ভয়ে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। অপর দিকে কেতুগ্রামের শিবালুন গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগে বলেন,  আবাস যোজনার ঘর দেবার জন্য তাদের কাছ থেকে মোটা টাকা কাটমানি আদায় করেছিল এলাকার তৃণমূল নেতারা। দিলীপ কোনাই, বাবুসোন প্রধান সহ এলাকার ছয় তৃণমূল নেতা ৪৫ জন উপভোক্তার কাছ থেকে কাটমানি আদায় করেছিল বলে তাঁরা দাবি করেন। ওই তৃণমূল নেতারা এদিন ৩২ জন উপভোক্তার কাছ থেকে আদায় করা দেড় লক্ষ টাকা কাটমানি ফেরৎ দিয়েছেন বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তৃণমলের নেতারা এই প্রসঙ্গে বলেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়। দল চালানোর জন্য টাকা নিয়েছিলেন। কাটা ফেরৎতের দাবি উঠেছিল। এদিন সেই টাকা ফেরৎ দিয়ে দিয়ে দিয়েছেন বলে তৃণমূল নেতারা জানিয়েছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here