যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নির্মলা সীতারমণের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 11, 2019 | 12:51 pm

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের। দেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসাবে যেমন তাঁর নাম লেখা থাকবে, তেমনই আরও একটা বিষয়েও ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে। কারণ অর্থমন্ত্রী হিসাবে তিনিই প্রথম কর দাতাদের সাহায্যার্থে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিলেন। কর বা কর সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে হয়রানি বা হেনস্থার শিকার হতে হলে এবার থেকে সরাসরি জানানো যাবে তাঁকে ।
সাধারণত আয়কর দফতর হানা দিলে শিল্পপতি থেকে সাধারণ মানুষ সকলেরই রাতের ঘুম উড়ে যায়। তাতে সেই ব্যক্তি সৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে থাকলেও একই দশা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই হয়রানিরও শিকার হতে হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই কর সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছিলেন দেশের বিভিন্ন শিল্পপতিরা। কাফে কফি ডে-এর প্রতিষ্ঠাতা ভি জি সিদ্ধার্থের মৃত্যুর পর সেই সুর আরও জোরালো হয়েছে। সুইসাইড নোটে অন্য কারণের সঙ্গে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকদের দ্বারা হেনস্থা হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছিলেন সিদ্ধার্থ। সেই কথা মনে করিয়ে অনেক শিল্পপতিই বিষয়টিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এর প্রেক্ষিতে কর সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থমন্ত্রক। যার পোশাকি নাম ‘আমাকে বল’।
শুক্রবার দিল্লিতে বণিকসভা সিআইআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই কথা জানান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ‘কর সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সমস্যা থাকলে জানান। কেউ যদি হেনস্তা করে থাকে তাহলে আমাকে জানান। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাধারণ ভাবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাজস্ব আদায়ের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য থাকলে হেনস্থা আটকাবে কী ভাবে? অর্থমন্ত্রীকে নালিশের সুযোগের বদলে বরং ব্যবস্থা শোধরানোয় জোর দেওয়া উচিত। বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য বাঁধা হয়েছে, তা পূরণ করতে নাভিশ্বাস দশা অফিসারদের। তা হলে হেনস্থা কমবে কী ভাবে? সব নালিশ অর্থমন্ত্রীকেই করতে হবে কেন? ব্যবস্থা তো এমন হওয়া উচিত, যাতে অফিসাররা হেনস্থা করার সুযোগই না পান। শুধু তাই নয়,অভিযোগ উঠেছে সব সংস্থার জন্য কর্পোরেট কর ২৫% না হওয়া ও অতি-ধনীদের আয়করে বাড়তি সারচার্জ বসা নিয়ে। যার ধাক্কা লেগেছে বাজারে লগ্নিকারী বিদেশি সংস্থাগুলির একাংশের উপরেও। আর এর জেরেই নাকি ধাক্কা লেগেছে ভারতের বাজারে লগ্নিকারী বিদেশি সংস্থাগুলির একাংশের উপরেও।
আমরা আশাবাদী, নির্মলা সীতারামন যে পদ্ধতি অবলম্বন করলেন তা বাস্তবায়িত হলে ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী। কারণ, আমাদের দেশে আয়করের স্ক্রুটিনির নামে অনেক ক্ষেত্রেই উঠে আসে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা। স্ক্রুটিনিতে ত্রুটি খুঁজে পেলেও আয়কর দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে টাকার লেনদেনে তা মীমাংসা হয়ে যায়। আবার কেউ এই লেনদেন করতে না চাইলে তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই আসলে ক্ষতি হয় সরকারের। কারণ লেনদেনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা হয়ে গেলে তা রাজকোষের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক। আবার অন্যদিকে কেউ সঠিক হিসাব দেখিয়েও লেনদেন না করায় হেনস্থার শিকার হলে, তার দায়ভার চাপে সরকারের উপরে। তাই এখন থেকে কেউ যদি সরাসরি অর্থমন্ত্রীকে এই দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগ জানাতে পারেন তাহলে আসলে লাভ হবে দেশেরই। ব্যবসায়ী ও আয়কর আধিকারিক উভয় পক্ষই সৎ পথে চলার চেষ্টা করবেন। আর সেই কারণেই দেশের স্বার্থে দলের স্বার্থে ‘আমাকে বল’ দ্রুত বাস্তবায়ন চাইছি আমরা।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট