সরকারি নথির গ্যাঁড়াকলে রিয়াং, প্রত্যাবর্তনে অনিশ্চিয়তা

সরকারি নথির গ্যাঁড়াকলে ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে প্রত্যাবর্তনে অনিশ্চিয়তার ছাপ

আগরতলা: সরকারি নথির গ্যাঁড়াকলে ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে প্রত্যাবর্তনে অনিশ্চিয়তার ছাপ পড়েছে। কারণ, মিজোরাম ছেড়ে ত্রিপুরায় আসার সময় অনেকেই সরকারি নথিপত্র সাথে আনেননি। তাছাড়া, কয়েক বছর আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রিয়াং শরণার্থীদের অনেকের বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। তাতে অন্তত ৩০০ পরিবারের মিজোরামে প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই, রিয়াং শরণার্থী চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে জটিল সমস্যার মুখোমুখি তাঁরা।

প্রসঙ্গত, উত্তর জেলার পানিসাগর মহকুমার হামসা পাড়া, কাকসাংপাড়া, কাসখাও পাড়ার শিবিরগুলিতে রিয়াং শরণার্থীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর আজ  থেকে আশাপাড়া শিবিরগুলিতে শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। মিজোরাম সরকারের প্রতিনিধিদের প্রক্রিয়াকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন “মিজোরাম ব্রু ডিসপ্লেস পিপলস ফোরাম (এমবিডিপিএফ)। এই সংগঠনের আশাপাড়া শাখা সভাপতি জাকোপা রিয়াং বলেন, যে সকল ব্রু’রা জাতিগত দাঙ্গার কারণে দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে মিজোরাম থেকে ত্রিপুরায় এসেছেন, তাঁরা তাঁদের ভোটার আইকার্ড ও রেশনকার্ড এবং যাঁরা বিবাহিত তাঁদের ম্যারেজ কার্ড দেখাতে পারছেন না। কারণ তাঁরা মিজোরাম থেকে আসার সময় এই সকল নথি নিয়ে আসতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা কোন নথি দেখাতে পারেননি, তাই তাঁদের মিজোরামের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। তাঁর আরও অভিযোগ, ত্রিপুরা সরকারও তাঁদের জন্মের প্রমাণপত্র, রেশন কার্ড এবং ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেয়নি।

তিনি জানান, ত্রিপুরায় আশ্রয় দেওয়ার আগে একটি রেশন রেজিস্টারে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। মিজোরাম সরকারের আধিকারিকরা ত্রিপুরা সরকারের ওই রেজিস্টারটিও দেখতে চাইছেন না। মিজোরামের আধিকারিকদের সাফ কথা, প্রত্যেকের হাতে রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয় পত্র অথবা মেরেজ কার্ড থাকতে হবে। না হলে তাদের মিজোরামের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে না।

জাকোপা রিয়াং আরও অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালে প্রথম যাঁরা দাঙ্গার কারণে ত্রিপুরায় এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকের ঘরবাড়ি পুড়ে গিয়েছিল। সাথে নথিপত্রও পুড়ে গিয়েছিল, তাঁদের থানায় জিডি এন্ট্রি করা কাগজগুলিও মিজোরামের আধিকারিকরা মানতে রাজি নন। তাতে, বহু পরিবারের নাম বাতিল হচ্ছে। তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, মিজোরাম সরকার মুখে বললেও বাস্তবে তারা ব্রু-দের ফিরিয়ে নিতে রাজি নয়, তাই নানা ধরনের বাহানা তৈরি করছে। শুধুমাত্র আশাপাড়াতেই ৮৮৫ পরিবার লোক রয়েছে। যদি মিজোরাম সরকার এই নিয়ম মানে, তা-হলে প্রত্যাবর্তনে প্রায় ৩০০ পরিবারের মতো বাদ পড়তে পারে। তবে, এই বিষয়ে মিজোরাম সরকারের প্রতিনিধিদের কোনও বক্তব্য জানা যায়নি।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *