মিশরীয় সভ্যতায় রাম

মনোজ রায়:

শুধু বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে একটি নয়,  পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ও আশ্চর্যময় স্থাপত্যের নাম মিশরের পিরামিড। বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা প্রচুর শক্তি সম্পন্ন চশমা, লেন্স চোখে এটে পিরামিডের অর্ন্তদিক খুঁজে দেখতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু পিরামিড কিংবা ইজিপ্টের রহস্য জালের শেষ করতে পারেননি কেউ।

মিশর বা ‘ইজিপ্ট’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘অজপ’ বা ‘অজপতি’ থেকে। পিটার ভন বোহরেন, আল মুনসুরী, স্যার উইলিয়াম জোনস, পল উইলিয়াম রবার্ট, এডলফ ইরামসহ বহু ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন বৈদিক সভ্যতা এবং মিশরের সভ্যতার মধ্যে নিখুঁত মিল পাওয়া যায়। বহু প্রাচীন ও আধুনিক বিজ্ঞানী এবং ঐতিহাসিকরা এই কথা স্বীকার করেছেন অকপটে।

প্রাচীন শাস্ত্র ঘাটলে জানা যায়, শ্রীরামচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ছিলেন অজ। আবার ইজিপ্টের শাস্ত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, ইজিপ্টের সংস্কৃতিতে রামের নাম রয়েছে। অর্থাৎ, মিশরবাসীরা দেবতা বা ভগবানকে ‘ফারাও’ নামে সম্বোধন করেন। আর মিশরের এক ফারাও এর নাম ‘রামইসি’।

‘Proof of Vedic Cultures Global Existence’ গ্রন্থে স্টিফেন নেপ লিখেছেন যে পাশ্চাত্যের মানুষেরা পূর্বে রামকে ‘রাহাম’ নামে উচ্চারণ করতেন। কালের প্রভাবে পরবর্তীতে ‘রা’ কথাটির উচ্চারন লোপ পায়। শুধু তাই নয়, আফ্রিকার স্কুলগুলির পাঠ্যবইয়ে লিখিত আছে যে, আফ্রিকানদের বলা হয় ‘কুশইটেস’। এই ‘কুশইটেস’ কথাটি এসেছে রামচন্দ্রের পুত্র কুশ থেকে। আবার কুশইটেসদের পূর্ব পিতার নাম ‘হাম’ (‘রাহাম’ -এর ‘র’ পরে লোপ পেয়েছে।

ড. এসকে ভি তাঁর ‘হিন্দু মাইথোলজি এন্ড প্রি-হিস্টোরি’ গ্রন্থে মিশরের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করে লিখেছেন, একসময় মিশরে দদাতি মহারাজ এবং তার দুই স্ত্রী দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা বাস করতেন। একসময় এক বিশেষ কারণে দদাতি মহারাজ যুবক অবস্থায় বৃদ্ধ দশা প্রাপ্ত হন। তখন তিনি তার পুত্রদের অনুরোধ করেন যে তাঁকে তাঁর বৃদ্ধ দেহের বিনিময়ে পুত্রদের যুবক দেহ প্রদান করার জন্য। এরপর দদাতির কনিষ্ঠ পুত্র পুরু তাঁর পিতার কথায় সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং সিংহাসন আরোহন করেন। পরবর্তীকালে এই পুরুর বংশধররা ‘পরুবাস’ এবং পরবর্তীতে ‘ফারাওস’ নামে মিশরে পরিচিতি লাভ করেন।

@মনোজ রায়

(Visited 115 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here