৯ আগস্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত ‘ভারত ছাড়ো’ দিবস

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: শুক্রবার ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (আগষ্ট আন্দোলন) ৭৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা স্থানে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট থেকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর দ্বারা চালিত হয়েছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দাবি করে এটি একটি “গণপ্রতিবাদ”। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট গোয়ালিয়ার ট্যাঙ্ক ময়দানে মহাত্মা গান্ধী এই উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে”।
শুক্রবার পশ্চিবঙ্গ সরকার এই উপলক্ষ্যে ময়দানে মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি এবং মহাকরণের বিপরীতে বিনয় গুপ্ত,বাদল বসু ও দীনেশ গুপ্তর মূর্তিকে শ্রদ্ধা জানাবে। মাল্যদান করবেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। প্রদেশ কংগ্রেস কলকাতায় তাদের সদর দফতরে উদযাপন করবে দিনটি।
আগস্ট বিপ্লবের সময় কংগ্রেস সদস্যেরা মেদিনীপুর জেলার থানা ও অন্যান্য সরকারি কার্যালয় দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল জেলা থেকে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করে এখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানত মহিলা স্বেচ্ছাসেবক সহ ছয় হাজার সমর্থকের একটি মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ৭৩ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরা। আদেশ অমান্য করে এগোলে তাঁকে গুলি করা হয়। তা সত্ত্বেও তিনি এগিয়ে যান। বার বার তাঁর উপর গুলি করা হয়। কংগ্রেসের পতাকা মুঠোর মধ্যে শক্ত করে উঁচিয়ে ধরে বন্দেমাতরম ধ্বনি দিতে দিতে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর দীনেশ গুপ্ত, বিনয় বসু ও বাদল গুপ্ত ইউরোপীয় পোশাকে রাইটার্স বিল্ডিং-এ ঢুকে কর্নেল সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। তারপর রাইটার্সের ঐতিহাসিক অলিন্দে ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে এই তিন বিপ্লবীর সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ অফিসার টোয়াইনাম, প্রেন্টিস ও নেলসন আহত হন। গ্রেফতারি এড়াতে বাদল ঘটনাস্থলেই পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু বিনয় ও দীনেশ নিজেদের উপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে হাসপাতালে ডাক্তারি ছাত্র বিনয় সকলের অলক্ষ্যে ক্ষতস্থানে আঙুল দিয়ে সেপটিক করে আত্মহত্যা করেন। দীনেশ সুস্থ হয়ে ওঠেন ও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তার ফাঁসি হয়।

(Visited 14 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here