বাংলার শিল্প উদ্যোগী প্রিন্স দ্বারকানাথ…

প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মৃত্যুদিন

বাঙালি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের কাছে অনেক কারণে ঋণী। ১৮৪৬ সালের ১ আগস্ট তিনি মারা যান। ব্রিটিশের দাসত্ব একদমই করতে চাননি তিনি। তবে ওদের সহযোগিতায় ভারতের উন্নতি সম্ভব। সেই কারণে ইংল্যান্ডের শিল্পকে হুগলির তীরে আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন দ্বারকানাথ। বিশ্বে বাঙালির শিল্পোদ্যোগী মনোভাব প্রতিষ্ঠা করতে পাড়ি দিয়েছিলেন বিলেতে। তবে তাঁকে বাঙালি শুধু মনে রেখেছে রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর্দা হিসেবে!

ব্যাঙ্কের সঙ্গে বাঙালির যোগসূত্র গড়ে তোলা থেকে শুরু করে সংবাদপত্রের উন্নতি সাধন বা ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে রেলপথের স্বপ্ন দেখা সবের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সৌভাগ্যের সূচনাও তাঁর হাতে হয়েছিল। ঠাকুর পরিবারের আদি পদবী কুশারী এবং আদিনিবাস অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুশ নামক গ্রামে। এঁরা হলেন রাঢ়ী গোত্রীয় ব্রাহ্মণ। যশোহর থেকে ঠাকুর পরিবারের আদিপুরুষ পঞ্চানন কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁর উত্তরপুরুষ জয়রামের দুই পুত্র, নীলমণি এবং দর্পনারায়ণ। এই নীলমণিই জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের আদিপুরুষ। আর পাথুরিয়াঘাটা ঠাকুর পরিবারের আদিপুরুষ দর্পনারায়ণ। নীলমণির পুত্র রামমণি ঠাকুরের সন্তান দ্বারকানাথ। দ্বারকানাথের জন্ম ১৭৯৪ সালে। পরে কাকা রামলোচন তাঁকে দত্তক নেন। তাঁর জীবনে দত্তক মা অলোকাসুন্দরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

দ্বারকানাথের ছেলেবেলা থেকেই তিনি তার পড়াশোনার বিষয়ে তৎপর থাকতেন। ১৮০৪ নাগাদ তাকে চিৎপুর রোডের শেরবোর্ন সাহেবের স্কুলে ভর্তি করা হয়। দ্বারকানাথ ছিল সাহেবের অন্যতম প্রিয় ছাত্র। রামলোচনের মৃত্যুর পরে ষোলো বছর বয়সে দ্বারকানাথ তাঁর সম্পত্তির মালিক হন। সম্পত্তি বলতে, কলকাতার জমি-বাড়ি এবং মফসসলের জমিদারি। ব্রিটেনে অবস্থানকালে তাঁর সমকালীনরা তাঁকে প্রিন্স নামে অভিহিত করেন এবং এভাবেই কলকাতায়ও তিনি প্রিন্স হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি ফরাসি কোম্পানিতে কাজ করেন। রবার্ট গুটলার ফারগুসন নামক একজন ব্রিটিশ আইনজীবীর অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে দ্বারকানাথ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পর্কিত আইন এবং কলকাতা সুপ্রিম কোর্ট, সদর ও জেলা আদালতের যাবতীয় আইন ও কার্যপ্রণালী বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৮১৫ সালে তিনি সফলভাবে আইন ব্যবসা শুরু করেন।

দ্বারকানাথের জীবনে সৌভাগ্যের অগ্রযাত্রা শুরু হয় ১৮২৮ সালে তাঁর সেরেস্তাদারের চাকরি লাভের মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে লবণ ও আফিমের আবগারি বোর্ডে দীউয়ানের পদ লাভ করে তাঁর আরও উন্নতি হয়। দীউয়ান হিসেবে তিনি বারো বছর চাকরি করেন। ১৮৩৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে দ্বারকানাথকে সম্মানসূচক ‘জাস্টিস অব দি পীস’ পদ প্রদান করা হয়। তখন থেকেই এ পদটি প্রথমবারের মতো ভারতীয়দের জন্য চালু হয়। ১৮৪০ সালের মধ্যে দ্বারকানাথ তাঁর মূলধনি কারবারের সাফল্যের শিখরে উপনীত হন। তিনি জাহাজ ব্যবসা, রপ্তানি বাণিজ্য, বীমা, ব্যাঙ্কিং, কয়লা খনি, নীলচাষ, শহরের গৃহায়ণ প্রকল্প এবং জমিদারি তালুকে অর্থ বিনিয়োগ করেন। তাঁর ব্যবসার তদারকি করার জন্য তিনি কয়েকজন ইউরোপীয় ম্যানেজার নিযুক্ত করেন।

(Visited 21 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here