পান চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 10, 2019 | 10:21 am

তীব্র তাপদাহে নষ্ট হচ্ছে পান পাতা, মাথায় হাত চাষিদের 

তীব্র গরমে পান পাতা এবং পানের বরোজ শুকিয়ে যাচ্ছে। পানের উৎপাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছেন চাষিরা। তাই অপরিপক্ক পাতা তুলে ফেলার কাজ শুরু করেছেন অনেকে। পুরাতন মালদা ব্লকের মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মহাদেবপুর গ্রামের চাষি হারাধন মণ্ডল, অজয় মণ্ডল জানান যে, যেভাবে তাপপ্রবাহ চলছে, তাতে পান শুকিয়ে যাচ্ছে। পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। পানের ডগা শুকিয়ে কালো হয়ে পচন ধরে যাচ্ছে। কী করবেন তা কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। জল স্প্রে করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। তাই সময়ের আগে গাছ থেকে ছোট পানের পাতা তুলে নিতে হচ্ছে।

উদ্যান পালন দফতর জানিয়েছে যে, চাষিরা বাঁশ, খড় ফর দিয়ে যে বরোজ তৈরি করতেন, এখন সেটি বদলে দেওয়া হয়েছে। রোদ–বৃষ্টি, কুয়াশার পরিস্থিতি অনুযায়ী শেড নেট তৈরি করার কথা চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই শেড নেটটি ফাইবার জাতীয় হালকা ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। যেখান দিয়ে অতিরিক্ত তাপ, অতিবৃষ্টি বা ঘন কুয়াশা প্রবেশ করতে পারবে না। এক্ষেত্রে পানে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না।এর জন্য রাজ্য চাষিদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। পানের বরোজ হিসাবে শেড নেট ব্যবহার করলে চাষিদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।

‌‌উদ্যানপালন দফতরের উপ–অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এখন পানের বরোজ তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাগ্রো শেড নেট পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক ভর্তুকিও দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক সময় পান পাতায় এবং বরোজে যে বিভিন্ন রোগ পোকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে বিকল্প অ্যাগ্রো শেড নেট পদ্ধতি ব্যবহার করে পান চাষ করার পরিকল্পনা কথা চাষিদের জানানো হচ্ছে।

উদ্যান পালন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা জেলার বামনগোলা, হবিবপুর, পুরাতন মালদা এবং হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লকে মোট ৫৬০ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়। চাষিরা পান গাছকে বৃষ্টি, প্রখর রোদ এবং কুয়াশা থেকে বাঁচাতে বাঁশ, খড় দিয়ে বরোজ তৈরি করে থাকেন। তার মধ্যেই চলে পান গাছের চাষ। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে পানের বরোজ শুকিয়ে যায়। পানপাতা গুলি গরমের ফলে পুড়ে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে চাষিদের উন্নত পদ্ধতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *