শস্য বিমা যোজনার ঘোষণা রাজ্য সরকারের

এবার উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষের জন্য বাংলা শস্য বিমা যোজনা চালু করবে রাজ্য সরকার

আসন্ন খরিফ মরশুমে উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে বাংলা শস্য বিমা যোজনার কাজ শুরু হতে চলেছে রাজ্য সরকারের কৃষি বিভাগ এবং একটি বিমা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে। সেজন্য জেলার বিভিন্ন ব্লকে ইতিমধ্যেই কৃষিদফৎর লিফলেট ছাপিয়ে তা বিলি করেছে। যাঁরা ঋণ নেননি বা যে সমস্ত কৃষকরা কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছেন তাঁরা সকলেই এই বিমা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি দফতর। কৃষকরা এসংক্রান্ত বিষয়ে ১৮০০১১৮৪৮৫ নম্বরে ফোন করে তথ্য জানাতে পারবেন।

জেলা কৃষিদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষকদের আমন ধান বিমা করার জন্য কোনও খরচ বহন করতে হবে না। রাজ্য সরকার‌ই বিমাবাবদ সমস্ত খরচ বহন করবে। উত্তর দিনাজপুরের উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) বিপ্লব ঘোষ বলেন, কৃষকদের স্বার্থে ‘বাংলা শস্য বিমা যোজনা খরিফ: ২০১৯’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে প্রচার শুরু হয়েছে। আমরা লিফলেট ছাপিয়ে গ্রামেগঞ্জে তা বিলি করছি। ওই লিফলেটে টোল ফ্রি নম্বরও দেওয়া আছে। কৃষকরা সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের মোশারফ হোসেন বলেন, আমাদের সরকার সবসময়ে কৃষকদের পাশে রয়েছে। কৃষকদের সুবিধার জন্য আমন ধান বিমা করানোর যে খরচ হবে তা সম্পূর্ণটাই রাজ্য সরকার বহন করবে। আমন ধান বিমা করানোর শেষ সময় স্থির করা হয়েছে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট। কৃষিদফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যে সমস্ত কৃষক ঋণ নেননি তাঁদের ক্ষেত্রে বিমা করার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে সচিত্র পরিচয়পত্র ও তাঁর আধার কার্ড, জব কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সের মধ্যে যে কোনও একটির ফটো কপি দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষককে ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটো কপি, পরচা, পাট্টা অথবা দলিলের ফটো কপি জমা করতে হবে। ভাগচাষি বা নিজের নামে যদি জমি না থাকে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের কাছ থেকে অধিকার সংক্রান্ত শংসাপত্র ওই কৃষককে বিমার ফর্মের সঙ্গে জমা দিতে হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আবেদন ফর্মে তাঁর মোবাইল ফোনের নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এই বিমা প্রকল্প উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রতিটি ব্লকের আমন ধান চাষের ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রযোজ্য হবে। রোপণ অথবা বপনের সময়ে ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও পাওয়া যাবে। পাশাপাশি রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কাটার দু’সপ্তাহ পর্যন্ত ফসলের কোনও ক্ষতি হলে কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

অন্যদিকে, মরশুমে প্রত্যাশিত উৎপাদন যদি নির্ধারিত ৫০ শতাংশের কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। বন্যা, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়াও রোগ পোকার আক্রমণে ফসল ক্ষতি হলে সেক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক সুরক্ষা কৃষকরা পাবেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ঘটনার তিনদিনের মধ্যে বিমা কোম্পানির টোল ফ্রি নম্বরে জানিয়ে দিতে হবে। সেজন্য বিমা সংস্থার টোল ফ্রি নম্বর সহ লিফলেট কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিলি করা হচ্ছে।

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here