সব্যসাচীর সঙ্গে বৈঠকে মুকুল, জল্পনা তুঙ্গে

এভাবে কাউকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না: মুকুল

কলকাতা: এভাবে কাউকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না। বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের অপসারন প্রসঙ্গে এমনটাই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি সল্টলেকে সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে যান। অবশ্য এনিয়ে এদিন আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি সব্যসাচী দত্ত।

মুকুল রায় বলেন, ‘অন্য দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক নয়। কিন্তু সব্যসাচী আমার ভাইয়ের মতো। ওঁর সঙ্গে অন্যায় করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এভাবে কাউকে মেয়র পদ থেকে সরানো যায় না। সব্যসাচীকে সরিয়ে যে ভাবে ডেপুটি মেয়রকে পুরসভা চালাতে বলা হচ্ছে তা আইনসিদ্ধ নয়। মেয়র পদ থেকে কাউকে সরাতে গেলে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হয়। সেই অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি করতে হয়’।

তিনি বলেন, ‘সব্যসাচী তো মমতার দেখানো পথেই রাজনীতি করছিল। লোকসভা ভোটে উনি তো ওনার রাজারহাট বিধানসভায় তৃণমূলকে জিতিয়েছেন। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ওনার পাড়ায় হেরেছেন। তা ছাড়া তৃণমূলের ১২১ জন বিধায়ক যে নিজের নিজের এলাকায় হেরেছেন, তাঁদের অনেকেই লোকসভা ভোটে বিজেপিকে সাহায্য করেছেন। তা হলে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নেওয়া হল।

তৃণমূল ভবনে বিধাননগরের কাউন্সিলারদের বৈঠকে ঠিক হয় আপাতত বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব সামলাবেন তাপস চট্টোপাধ্যায় ৷ এখুনই সরিয়ে দেওয়া হল না সব্যসাচী দত্তকে ৷ আপাতত ডানা ছাঁটা হল তাঁর ৷ কাজের দায়িত্ব বাড়ল মন্ত্রী সুজিত বসু ঘনিষ্ট বিধাননগর পুর সভার ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়ের ৷ সব্যসাচী দত্ত এতদিন যে কাজগুলো দেখতেন এখন থেকে তা দেখবেন তাপস চট্টোপাধ্যায় ৷ বিধাননগর পুরসভায় সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা বৈঠক ডাকবেন তিনিই ৷ রবিবার তৃণমূল ভবনে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দেন, সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে সব্যসাচী দত্ত সম্পর্কে রিপোর্ট জমা পরেছে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি সবরকম দিক খতিয়ে দেখবে। তারপরই সিদ্ধান্ত নেবে। নিজের
শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে কমিটিতে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে ৷ যার ভিত্তিতে বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক হল ৷ বিভিন্ন কথা শুনলাম৷ সবটাই দল নেত্রীকে জানানো হবে’৷ বেশ কিছুদিন ধরেই বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। তাঁর কিছু মন্তব্যে তৈরি হয় বিতর্কও। এরইমধ্যে মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচী দত্তর বৈঠক ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। লুচি-আলুরদমকে দিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই বাড়তে শুরু করে। দলের একপক্ষ দ্রুত সব্যসাচীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার দাবি তোলে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল ভবনে বিধাননগরের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ফিরহাদ হাকিম।

বৈঠকের শুরুতেই বেশ কিছু কাউন্সিলর নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। সব্যসাচী দত্ত থাকলে তাঁরা কাজ করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আজকের বৈঠকে ডাকা হয়নি সব্যসাচীকে। আবার সব্যসাচী অনুগামী বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর বৈঠকে যোগ দেননি। রবিবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে এই বৈঠক হাজির ছিলেন বিধাননগর পুরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর। মোট ৩৯ জন কাউন্সিলারের মধ্যে সব্যসাচী দত্তকে বাদ দিয়ে ডাকা হয়েছিল ৩৮ জনকে। এই বৈঠকে ছিলেন রাজারহাটের বিধায়ক তথা দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। বৈঠকে যোগ দেন বিধাননগরের মেয়র পারিষদ সুজিত
মণ্ডল, কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সর্দার, সুস্মিতা দাসের মতো কাউন্সিলররা। সব মিলিয়ে ৩২ জন কাউন্সিলার এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বলে জানা গেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সব্যসাচী দত্তর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here